উচ্চশিক্ষায় যে লক্ষ্য নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা তিন দশকে কতটুকু পূরণ হয়েছে?

১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সীমিত আসন এবং সেশনজটের কারণে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল। সে সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালুর উদ্যোগ ছিল সময়োপযোগী ও গুরুত্ববহ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার একটি মূল লক্ষ্য ছিল মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা। দেশে ১৯৯১ সালে একটি মাত্র বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন সেখানে ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষত, প্রযুক্তি, ব্যবসায় শিক্ষা, প্রকৌশল, কৃষি, স্বাস্থ্যবিজ্ঞানসহ নানা ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এসব বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কিছুটা কমে দেশের ভেতরে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল গুণগত মানসম্পন্ন, গবেষণাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান। এক্ষেত্রে মিশ্র সাফল্য দেখা যায়। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় মান বজায় রেখে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করেছে, আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে স্থান করে নিয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রসার, দক্ষতার ঘাটতি এবং বেকারত্বের মতো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকারের লক্ষ্য অনেকাংশে পূরণ করেছে। তবে মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শিক্ষার সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আরো কাজ বাকি। আগামী দিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার দক্ষতা অর্জন করা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিউএস র‍্যাংকিংয়ে স্থান করে নিয়েছে। আবার কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় টাইম হায়ার এডুকেশনে স্থান পেয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, গুণগত শিক্ষা প্রদানে, গবেষণা প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটাই সফল।

১৯৯১ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) প্রতিষ্ঠা করেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান। তার ভাবনা ছিল, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম থেকে অন্তত একজন পেশাদার গ্র্যাজুয়েট হবে। এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি ভূমিকা পালন করছে। শুধু যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হচ্ছেন তা নয়, স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শেষ করে দেশে ও বিদেশে চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় উচ্চমানের অবদান রাখছেন।

অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্যোগের পথিকৃৎ। তার দূরদর্শী ভাবনা বেসরকারি উচ্চশিক্ষার ভিত্তি রচনায় বিশেষ অবদান রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা, গবেষণা মনোভাব এবং বাস্তব জীবনের দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। বর্তমানে আইইউবিএটিতে প্রায় নয় হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করছে না, শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ও দক্ষতা বিকাশেও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে।

তিন দশক পর আজকের চিত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশে শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষত প্রযুক্তি, ব্যবসা শিক্ষা, প্রকৌশল, কৃষি, স্বাস্থ্যবিজ্ঞানসহ নানা ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এসব বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা কিছুটা কমে দেশে মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সুতরাং বলা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকারের লক্ষ্য অনেকাংশে পূরণ করেছে। তবে মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও শিক্ষার সমতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে আরো কাজ বাকি। আগামী দিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং গ্লোবাল কম্পিটেন্সি অর্জন।

বাংলাদেশের সঙ্গে সমসাময়িক সময়ে স্বাধীন হওয়া দেশ শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের তুলনায় পিছিয়ে। কারণ কী?

ধারাবাহিক শিক্ষানীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভাব রয়েছে। স্বাধীনতার পর শিক্ষার বিস্তার ঘটলেও মানোন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এখনো জিডিপির মাত্র ২ শতাংশের মতো, যা মানসম্পন্ন শিক্ষা, আধুনিক অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জটিলতা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে সমসাময়িক দেশগুলো গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়েছে, বাংলাদেশ সেখানে পিছিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের পরিবর্তে জ্ঞান আহরণ পদ্ধতি বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে স্নাতকরা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এ অবস্থায় অবিলম্বে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি-সমন্বিত দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা চালু করা জরুরি।

বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বাজেট প্রতি বছরই কমছে। গবেষণায় বরাদ্দ অপ্রতুল, গুণগত শিক্ষকেরও অভাব। বিষয়গুলো কীভাবে দেখছেন?

শিক্ষা খাতে বাজেটের সীমাবদ্ধতা মানোন্নয়নে বড় প্রভাব ফেলে। এর ফলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। গবেষণায় বরাদ্দ অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে জ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার পথে বাংলাদেশ পিছিয়ে। শিক্ষকের মান উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও উৎসাহের অভাবও গুণগত শিক্ষার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষার মান কমে যাওয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ কারণে বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে, কারণ তারা এখানে বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা সুবিধা ও একাডেমিক পরিবেশ খুঁজে পাচ্ছে না।

দেশের শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের কোনো সংযোগ নেই। নতুন কর্মসংস্থানও সীমিত। আপনার মতে করণীয় কী?

অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রম এখনো তাত্ত্বিক জ্ঞানকেন্দ্রিক, যেখানে বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তি জ্ঞান ও শিল্প-প্রাসঙ্গিক দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে স্নাতকরা কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না, যা বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় সমস্যাটি আরো জটিল হচ্ছে। সমাধান হিসেবে প্রথমত প্রয়োজন শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে শক্তিশালী সেতুবন্ধ তৈরি করা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্প খাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে। পাঠ্যক্রমে প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাধারা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও শিল্পভিত্তিক প্রকল্প বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। পাশাপাশি সরকার ও বেসরকারি খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিকল্পনা ও একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি কোলাবরেশন নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষিত মানবসম্পদকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব কমানো সম্ভব।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো গুণগত মানের ঘাটতি। স্বাধীনতার পর শিক্ষার বিস্তার ঘটলেও মানোন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছেনি। পাঠ্যক্রম এখনো তাত্ত্বিক জ্ঞানকেন্দ্রিক, যেখানে বাস্তবমুখী শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে।

সম্প্রতি ‘আউটকাম বেজড এডুকেশন’ চালু হওয়ায় শিক্ষার গুণগত মান উন্নায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি চালু হয়নি। বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ অত্যন্ত সীমিত। ফলে অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষকের প্রশিক্ষণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। গবেষণায় বিনিয়োগের অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারছে না। একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সহযোগিতার ঘাটতি শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধকে দুর্বল করেছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, দুর্নীতি ও নীতিগত অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করছে। বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার মানের ঘাটতির প্রমাণ। সমাধান হিসেবে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, গবেষণায় বিনিয়োগ, গুণগত শিক্ষক তৈরির উদ্যোগ এবং প্রযুক্তি-সমন্বিত আধুনিক পাঠ্যক্রম চালু করা জরুরি। শিল্প ক্ষেত্রের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা জোরদার করে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করলে বাংলাদেশ শিক্ষা ক্ষেত্রে মানোন্নয়নের পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।

শিক্ষা খাতের কোন কোন বিষয় সংস্কার জরুরি বলে মনে করেন?

শিক্ষায় সংস্কারের উদ্যোগ তেমন একটা দেখা যায় না। যদিও তা সময়ের দাবি। প্রথমত, পাঠ্যক্রম সংস্কার অত্যাবশ্যক। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো মুখস্থনির্ভর এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক, যেখানে বাস্তবমুখী জ্ঞান, সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার চর্চা অপর্যাপ্ত। যুগোপযোগী দক্ষতা ও শ্রমবাজারের চাহিদা প্রতিফলিত করে এমন একটি দক্ষতাভিত্তিক ও গবেষণামুখী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন জরুরি। দ্বিতীয়ত, গুণগত শিক্ষকের সংকট কাটাতে হবে। মানসম্পন্ন শিক্ষক তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষকদের জন্য গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাড়া শিক্ষা উন্নয়ন সম্ভব নয়। তৃতীয়ত, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে গবেষণার বিকল্প নেই। বর্তমানে গবেষণার বরাদ্দ অত্যন্ত সীমিত, যা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ। চতুর্থত, একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। ইন্টার্নশিপ, শিল্পভিত্তিক প্রকল্প ও উদ্ভাবনমুখী কর্মসূচি বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রযুক্তি সংযোজন, ডিজিটাল শিক্ষা অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়নেও সংস্কার অপরিহার্য। সর্বশেষ শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা প্রশাসন থেকে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতি দূর করা না গেলে গুণগত সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। শিক্ষা খাতে সংস্কার শুধু কাঠামোগত পরিবর্তন নয়, বরং গুণগত মান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রিক হওয়া উচিত।