আমাদের হাতে সময় খুব অল্প। কিন্তু কাজ অনেক। আমরা ধীরে ধীরে কাজ করে যাচ্ছি। তবে স্বাস্থ্য খাতের উন্নতিতে বাজেটের দরকার হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারও বাজেট বাড়ায়নি। ইউএসএআইডিও তাদের বরাদ্দ কমিয়েছে। সেগুলো আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের আরেকটি প্রতিবন্ধকতা জনবল। এ সমস্যাটি আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। চিকিৎসকের ঘাটতি আমরা চলমান বিসিএসের মাধ্যমে পূরণের চেষ্টা করছি। একটি বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অন্তত তিন বছর লাগে। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহযোগিতায় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে আমরা তা পাঁচ-ছয় মাসে করার চেষ্টা করছি। সম্প্রতি স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে আমরা আরো তিন হাজার চিকিৎসক নিতে যাচ্ছি। বর্তমানে সেটির ভাইভা চলমান রয়েছে। আশা রাখি, অক্টোবরের মধ্যে আমরা পোস্টিং দিয়ে দিতে পারব। এর মধ্যে ২ হাজার ৭০০ জন এমবিবিএস চিকিৎসক ও ৩০০ জন ডেন্টাল সার্জন। এ নিয়োগ হওয়ার পর আমাদের উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট কমে যাবে। নার্স নিয়োগের পরীক্ষাও চলমান রয়েছে। ৩ হাজার ৫১২ নার্স নিয়োগ হবে। মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। তবে একটি প্রতিবন্ধকতা হলো দুর্গম এলাকায় কেউ যেতে চায় না। এছাড়া অন্য যেসব পদ রয়েছে সেগুলোয়ও নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আমাদের চিকিৎসকদের পদোন্নতির কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। আমাদের স্বাভাবিক নিয়মে তিন হাজার চিকিৎসকের পদোন্নতি হবে। আর সাত হাজার সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। পদোন্নতি দিলে সিনিয়র চিকিৎসকের অভাব পূরণ হয়ে যাবে। মেডিকেল কলেজগুলোয় যে শিক্ষক নেই, সে অভাবও পূরণ হয়ে যাবে।
মানুষের চিকিৎসায় নিজ পকেট থেকে যে খরচ হয়, তার বেশির ভাগই হয় ওষুধ কেনার জন্য। এর হার প্রায় ৬৭ শতাংশ। আমরা আলাদা করে বাজেট নির্ধারণ করেছি, যাতে মানুষের কাছে ওষুধ সহজলভ্য হয় এবং প্রয়োজন অনুসারে জনগণকে আমরা ওষুধ সরবরাহ করতে পারি। আমরা চেষ্টা করছি যে আমাদের সরকারি ওষুধ কোম্পানি ইডিসিএলের (এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড) উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর। ইডিসিএল থেকে ৭৫ শতাংশ ওষুধ আমরা হাসপাতালগুলোয় সরবরাহ করব। বাকি ২৫ শতাংশ হাসপাতালগুলো কিনবে। এরই মধ্যে ৩৩টি ওষুধের দাম সরকার কমিয়ে ফেলেছে। এগুলোর দাম কমে এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে আমরা একটি ভ্যাকসিন প্লান্ট করার পরিকল্পনা করছি। সেটি মুন্সিগঞ্জে নির্মিত হবে। সেখানে আমরা আশা করছি ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের ভ্যাকসিন নিজেরাই উৎপাদন করব। প্রয়োজন অনুসারে আমরা এটি বাইরেও রফতানি করতে পারব। অ্যান্টি স্নেইক ভেনমের জন্যও আমাদের মুন্সিগঞ্জে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।
হাসপাতালগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে আমরা নজর দিচ্ছি। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যদি একটি সরকারি ফার্মেসি থাকে তাহলে রোগীরা ন্যায্যমূল্যে ওষুধ কিনতে পারবে। এগুলো আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো আরো কর্মক্ষম করা যায় কিনা, সেগুলোর মান আরো ভালো করা যায় কিনা—সেগুলোও নিয়েও কাজ করছি। সেগুলোর জনবল আরো বাড়ানোর চেষ্টা করছি।
আমাদের শয্যা সংখ্যার ঘাটতি রয়েছে। অনেক হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ালেও সে অনুপাতে অন্য সেবাগুলো বাড়েনি। আমাদের হিসাব মতে, সারা দেশে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মাটিতে শুয়ে চিকিৎসা নেয়, যার কারণে হাসপাতালের পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে। এসব সমস্যা আসলে একদিনে সমাধান করা যাবে না। তবে আমাদের চেষ্টা চলমান রয়েছে। (অনুলিখিত)
অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর: মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর










