৫ আগস্ট সরকার পতনের আগে সেই দিনগুলো ছিল তীব্র উৎকণ্ঠার। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আন্দোলনের খুঁটিনাটি মাথায় গেঁথে রাখা এবং স্টোরিতে রূপান্তর করা ছিল গুরুদায়িত্ব। তবে সেই দায়িত্বের বাইরে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীল পর্যায়ে কাজ করাটা ছিল আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং। সাংবাদিকতার পাশাপাশি অফিশিয়ালি আমার একটি দায়িত্ব ছিল উপপ্রধান প্রতিবেদকের। ফলে সার্বক্ষণিক রিপোর্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের সঙ্গে আলোচনা করা, বার্তাকক্ষের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিবেদন সংগ্রহের মিডল ম্যান হিসেবে কাজ করতে হয়েছে প্রতি মুহূর্তে।
জুলাই আন্দোলনের দিনগুলো নিয়ে একটি বিষয় না বললেই নয়, তা হলো অফিসের রিপোর্টারদের নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় রাখা। মানসিক শক্তি জোগানো ও তাদের অফিসে আসা-যাওয়া ও নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রতি মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেয়া। চারদিকে গোলাগুলি, হত্যা, মৃত্যুর খবর এত বেশি আসছে যে বার্তাকক্ষের সিদ্ধান্ত বদল করতে হয়েছে ক্ষণে ক্ষণে। অনেক কর্মী কাজের সুবাদে এবং দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে রাতের পর রাত অফিসে কাটিয়েছেন।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নিহত ও আহতদের সঠিক তথ্য উদ্ধারের জন্য আমরা হাসপাতালগুলোয় শিফটিং করে রিপোর্টারদের নিয়োজিত করি। এর পাশাপাশি কয়েকজন প্রতিবেদককে তাদের বাসার কাছাকাছি হট স্পটগুলোয় নিয়োজিত রাখা হতো। প্রতিদিনকার খবর এবং পত্রিকা সঠিক সময়ে বের করার জন্য অফিসের ডেস্কে মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের পাঠানো খবর দ্রুত সম্পাদনা করে প্রস্তুত করা হতো। অনেক সংবাদকর্মী ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোনে ঘটনার বর্ণনা ও সত্যতা নিশ্চিত করে নিউজ কাভারেজ করেছে।
বার্তাকক্ষে তখন সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হতো মৃত্যু ও হতাহতের ঘটনা যথাসাধ্য নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার বিষয়ে। পাশাপাশি মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা প্রতিনিয়ত পত্রিকায় তুলে ধরা ছিল গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সে দিনগুলোয় বণিক বার্তার তরুণ রিপোর্টিং টিম বেশ দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছে।
অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভিডিও, ছবি এমনকি পত্রিকার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিভিন্ন স্টোরি তৈরি করেছে। বণিক বার্তায় প্রকাশ হওয়া জুলাই ঘটনার সঠিক তথ্য-উপাত্ত গ্রহণ করেছেন পাঠকও। বণিক বার্তার সব বিভাগ এ বিশেষ সময়কালে তাদের দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে পালন করেছে।










