বেশির ভাগই ছিল স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। পুলিশের অবস্থান ছিল কাজীপাড়া থেকে কিছুটা সামনে আল-হেলাল হাসপাতালের কাছে। তখনো সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল না। এর কিছুটা সামনেই মিরপুর গোলচত্বরের নিচে চলছিল আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের সমাবেশ। সমাবেশে উপস্থিত কর্মীদের বেশির ভাগই ছিল হেলমেট পরিহিত এবং অনেকেই সশস্ত্র। সমাবেশের ছবি তোলা শুরু করতেই হেলমেট পরিহিত একজন বেশ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে এসে ছবি তুলছি কেন বলতে বলতে ফোন কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি আমি সংবাদকর্মী এবং আমার আইডি কার্ড দেখাই। কিন্তু তিনি পুনরায় ফোন কেড়ে নিতে চেষ্টা করেন। এর মাঝেই পাশে থাকা একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তি এসে তাকে আটকান। এবার তারা আমাকে তোলা ছবিগুলো ডিলিট করতে বলেন। তখন তাদের সামনেই ছবি ডিলিট করতে বাধ্য হই।
আনুমানিক বেলা দেড়টার দিকে কারওয়ান বাজার পৌঁছে আবারো সংঘর্ষের মুখোমুখি হই। তখন কারওয়ান বাজার মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পুলিশ ও ধারালো দেশীয় অস্ত্রসহ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরা আর বাংলামোটরের দিকে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিল। আমার এক সহকর্মী অফিসে প্রবেশের সময় ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলার শিকার হন। এর মাঝে কারওয়ান বাজার এলাকায় সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
আন্দোলনকারীরা যখন এগোচ্ছিল ওই পর্যন্ত সড়কের আইল্যান্ডের রেলিংয়ে লাঠি দিয়ে শব্দ করে বুঝিয়ে দিচ্ছিল তারা ওই এলাকা পর্যন্ত এগিয়েছেন। অস্ত্রের সামনে কিশোর-তরুণদের এ সাহস অবাক করেছিল। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও তাদের সামনে এগিয়ে আসা দেখে বুঝে নিয়েছিলাম সরকার যত শক্তিই প্রয়োগ করুক না কেন এ তরুণরা অপ্রতিরোধ্য। ওইদিন চোখের সামনেই আমরা অন্তত চার-পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যেতে দেখি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রায় ১ ঘণ্টা পর অফিসে ফিরে আসি। জুলাই-আগস্ট জুড়ে চোখের সামনে গুলি, মৃত্যুর ঘটনা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছিল। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে সংবাদ লেখাটাই তখন পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন মনে হচ্ছিল। এর মাঝে জানতে পারি বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজন আবার আমার অফিস সহকর্মী। এরপর দুই বছর পার হয়েছে। তবে সেসব ঘটনা এখনো স্মৃতি থেকে দূরে সরে যায়নি।










