হামলার ধরন দেখে বুঝতে বাকি থাকে না জাবিতেও হামলা হবে। জাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষিত ছিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। সারা দেশে সংঘর্ষ এবং সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে সংগঠকরা ১ ঘণ্টা এগিয়ে এনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দেন। শিক্ষার্থীদের মিছিল তৎকালীন শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে পৌঁছতেই অন্যদিক থেকে এসে হামলা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর কয়েকজন আহত হলে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে শিক্ষার্থীরা। নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসতে থাকে বহিরাগত ভাড়াটে অস্ত্রধারীদের ক্যাম্পাসে আসার খবর। রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগের সাবেক-বর্তমান সশস্ত্র নেতাকর্মীরা তেড়ে আসে হামলা করার জন্য। আমার ভাবনা ছিল হামলা হলে উপাচার্যের বাসভবনঘেঁষা প্রো-উপাচার্যের বাসভবন থেকে ছবি, ভিডিও নেব। ছাত্রলীগ আসার সঙ্গে সঙ্গে সহকর্মীদের চাপে দুটি ভবন পেরিয়ে পাশে থাকা পুকুরসংলগ্ন একটি জঙ্গলে আশ্রয় নিই। এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চলছে। তখন মনে ভাবনা একটাই—শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলির খবরটি যেকোনো মূল্যে ছড়িয়ে দেয়া। বণিক বার্তার তৎকালীন প্রধান প্রতিবেদক বদরুল ভাই ফোনে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আমি একটু সাহস করে জঙ্গল থেকে বের হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনের গেটে যাই। সহকর্মীদের উদ্ধার করি। এরপর খবর পাই হলে থাকা শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে আসছে। রাত দুইটার দিকে শিক্ষার্থীরা ভিসির বাসায় এলে উপ-উপাচার্যের বাসায় পুলিশসহ ঢুকে পড়ি। আমি গেট এবং ইটের প্রাচীরের মাঝ দিয়ে ভিডিও নেয়ার চেষ্টা করি।

রাত আড়াইটার দিকে কী যেন আমার গায়ে এসে লাগে। মাটিতে পড়ে যাই তৎক্ষণাৎ। সহকর্মীরা এসে উদ্ধার করে, তারাও গুলিবিদ্ধ হয়। একজন শিক্ষকসহ আমাদের এ অবস্থা দেখে সেদিন শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছাড়া করে।