গণতন্ত্রের শেষ ভরসা বেগম খালেদা জিয়া শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্রমনা মানুষদের কাঁদিয়ে বিদায় নিলেন। চলে গেলেন এমন এক ঠিকানায় যেখান থেকে আর কখনো ফিরে আসবেন না। না কেউ যেতে পারবে সেখানে, না পারবে তার সঙ্গে দেখা করতে। এ যাওয়া তার স্বাভাবিক যাওয়া নয়। মস্তিষ্কবিকৃত প্রচণ্ড রকমের প্রতিহিংসাপরায়ণ এবং ক্ষমতালোভী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার গভীর ষড়যন্ত্রের শেষ পরিণতিই হচ্ছে তার এ চলে যাওয়া। গণতন্ত্রের প্রতীক, উদারতা ও ধৈর্যশীলতার দৃষ্টান্ত বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করার পর থেকে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা যেসব দম্ভোক্তি করেছেন, সেসব দম্ভোক্তিই প্রমাণ করে তিনি বেগম জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। শেষ পর্যন্ত তার সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়েছে।
প্রকৃত দেশপ্রেমিক এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মহানায়ক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এশীয় দ্বিবার্ষিক চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন এবং উদ্বোধন করেছিলেন ১৯৮১ সালে। সেই প্রদর্শনীতে আমি স্বর্ণপদক পাওয়ায় তিনি মহাখুশি হয়েছিলেন। সেই থেকে বিএনপির নীতি-আদর্শের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু জাতির দুর্ভাগ্য যিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করলেন এবং দেশকে স্বাধীনভাবে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট হলেন তিনিও দেশী-বিদেশীদের চক্রান্তে মৃত্যুবরণ করলেন!
গণতন্ত্রের মহানায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর গণতন্ত্র রক্ষার হাল ধরলেন উন্নত রুচি ও শালীনতার প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া। আমি ভাবতাম দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আছেন—এ সত্য তার জন্য এবং আমাদের সবার জন্য মূল্যবান।

ছবি: সংগৃহীত
তিনি দেশ ও দেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। যার জন্য তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছেন তার সবই তার সত্তার বাইরের বিষয়। বাইরের এসব বিষয়কে তিনি প্রবলভাবে অনুভব করেছিলেন বলেই তিনি নিজেকেও অনুভব করেছিলেন। অনুভব করেছিলেন বলেই তার হৃদয়ের সত্তাবোধও শক্তিশালী হয়েছিল। রাষ্ট্রের কিংবা জনগণের বিষয় যত ক্ষুদ্র কিংবা গুরুত্বহীনই হোক না কেন তিনি তাকে অবহেলা করেননি। কারণ ঔৎসুক্য বা চেতনা তাকে সদা জাগিয়ে রাখত। কারণ তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যকে বিসর্জন দিয়েছিলেন। এ বিসর্জন ও রাষ্ট্রচিন্তা তার চেতনাকে যেমন বিচিত্রমুখী করেছিল, তেমনি তার জানার বা বোঝার পথকেও উন্মুক্ত করেছিল। বেগম জিয়ার একাকিত্ব বহুত্বের মাঝে ঐশ্বর্যমণ্ডিত হয়েছিল তিনি আমৃত্যু দেশের জন্য ভেবেছেন এবং কাজ করেছেন।
রাষ্ট্রবিষয়ক কাজের মাঝে তিনি সংস্কৃতি নিয়েও ভেবেছেন এবং কাজ করেছেন। এ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সূত্র ধরেই বেগম জিয়ার সঙ্গে আমার পরিচয়। অনেক অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি অনেক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। তিনি তার সংস্কৃতিবিষয়ক ভাবনার কথা বলেছেন। আল্লাহ তাকে বেহেশত দান করুন।










