সারা বিশ্বে কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। কিন্তু সমস্যা হলো প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগের কোনো উপসর্গ হয় না। ফলে রোগীরা শুরুতেই বুঝতে পারেন না যে তার কিডনি রোগ আছে কিনা। কিডনি রোগ বিষয়ে সচেতনতার জন্য পালিত বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৫-এর প্রতিপাদ্য ‘আপনার কিডনি কি সুস্থ? দ্রুত শনাক্ত করুন, কিডনি স্বাস্থ্য সুরক্ষা করুন’। যদি কারো বংশে কিডনি রোগের কোনো ইতিহাস থাকে বা বয়স চল্লিশের বেশি হয়, তার অবশ্যই বছরে অন্তত একবার কিডনি পরীক্ষা করা দরকার। পাশাপাশি প্রস্রাব ও রক্তচাপও নিয়মিত মেপে দেখা দরকার।
কিডনি রোগের প্রধান কারণগুলো হলো নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহার। যদি কোনো রোগীর উচ্চ রক্তচাপ থাকে এবং প্রস্রাবে সুগার, অ্যালবুমিন বা লোহিত রক্তকণিকা দেখা যায়, তার অবশ্যই কিডনির কার্যকারিতা এবং রক্তের ক্রিয়েটিনিন মেপে দেখা উচিত। হাসপাতাল বা কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রতিদিন যেসব রোগী আসেন, তাদের কিডনি-সংক্রান্ত পরীক্ষা করলেও অনেকের রোগ শনাক্ত ও যথাযথ চিকিৎসা করা সম্ভব। যেসব রোগী জ্বর, ব্যথা বা অন্যান্য সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসেন, তাদের যদি অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয়, তবে অবশ্যই আগে ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করে নেয়া উচিত। কেননা ক্রিয়েটিনিন একটু বেশি থাকলেই বেশির ভাগ অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ কমিয়ে দেয়া হয় এবং এ সময় ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে আকস্মিক কিডনি বিকল হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তার, নার্স ও রোগীর সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া কোনো ওষুধ দেয়ার আগে রোগীর আর্থসামাজিক অবস্থান বিবেচনা করাও প্রয়োজন রয়েছে। একজন দরিদ্র রোগীকে কোন ক্ষেত্রে কোন পরীক্ষা এবং ওষুধ দেয়া হবে, চিকিৎসকের সেটাও চিন্তা করা উচিত।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান, নেফ্রোলজি, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ ও গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র








