যারা সাংবাদিকতা করছেন তাদের বোঝা উচিত তারা কী সাংবাদিক? কিসের সাংবাদিক? কেন সাংবাদিক? এটা জানতে হবে। সাংবাদিকদের বিশেষণ প্রয়োগের প্রবণতা রয়েছে। আমি অনুরোধ করছি আপনারা এটা ভুলে যান। যে যা সে তা-ই। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হচ্ছে বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এখনো কিন্তু কোনো সম্মানজনক পেশা হয়নি। অথচ আপনাদের সম্মানজনক অবস্থায় যেতে হবে। তা না হলে এ দেশ টিকবে না।

আমি মনে করি সাংবাদিকতা পেশার উন্নতির জন্য একটা নিউজপেপার স্ট্যান্ডার্ড কমিটি করা উচিত। যেখানে বিবেচনা করা হবে যে বিভিন্ন সম্পাদনা, যেসব ছাপা হয়েছে সেগুলোর স্ট্যান্ডার্ড ঠিক আছে কিনা। একটা স্ট্যান্ডার্ডে আনতে হবে সবগুলোকে।

হিসাব করে দেখুন, ওসমান হাদির মৃত্যুর ২০ মিনিটের মধ্যে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে আগুন দেয়া হয়। অর্থাৎ তারা আগেই টার্গেট করেছিলেন যে যেকোনো উপায়ে হোক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারকে ধ্বংস করতে হবে। এক্ষেত্রে বিদেশে দুই-একজন পডকাস্ট বক্তা খুব খারাপ ভূমিকা রেখেছেন। এটা অন্যায়। কিন্তু মতিউর রহমান এবং মাহফুজ আনামকে বুঝতে হবে যখন নয়া দিগন্ত ও সংগ্রাম আক্রান্ত হয়েছিল তখন তারা কোনো কথা বলেননি। আমি দেখিনি। আমার কাগজ যখন বন্ধ হয়ে গেল আমিও তাদের পাশে পাইনি। আজকে তারা চাচ্ছেন এবং আপনারা সবাই চাচ্ছেন যে সব সাংবাদিক যেন ঐক্যবদ্ধ হই। আমিও সেটা চাই।

কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হতে হলে আপনাদের বিকল্প আরো কিছু গুণ থাকতে হবে। প্রতিটি সাংবাদিককে আমি বলছি যে আপনার বিকল্প একটা পেশার ব্যবস্থা করুন। যাতে আপনারা সাংবাদিকতা কিছুদিন হলেও বাদ দিয়ে অন্য কিছুর ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন। মাসের শেষে টাকাটাই হচ্ছে প্রধান কথা। আপনার সাংসারিক খরচ, ছেলেমেয়েদের স্কুল খরচ, আপনার পারিবারিক খরচ মেটাতেই হবে। এ টাকা যাতে নিশ্চিত করতে পারেন, দয়া করে আপনারা চিন্তা করুন।

আপনারা বই পড়ুন, অনেক বই পড়ুন বিভিন্ন বিষয়ে। স্পেশালাইজ করুন যে আমি ফরেন সার্ভিসে, আমি সিভিল সার্ভিসে বা অর্থনীতিতে বা পলিটিকসে আমি একজন বিশেষজ্ঞ। সিরিয়া বিষয়ে অথবা টার্কি বিষয়ে আমি একজন বিশেষজ্ঞ। আপনারা প্রত্যেকে কিন্তু বিশেষজ্ঞ হতে পারেন।