দৈনন্দিন জীবনের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ব্রত নিয়ে ভিক্টোরিয়ান ইংল্যান্ডে ইউনিলিভারের সূচনা হয়। এটি লিভার ব্রাদার্স নামে পরিচিত ছিল। এ কোম্পানির প্রথম পণ্য ছিল সানলাইট, যেটি ছিল বিশ্বের প্রথম প্যাকেটজাত লন্ড্রি সাবান। ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কালের পরিক্রমায় ইউনিলিভার আজ একটি মাল্টিবিলিয়ন ইউরোর কোম্পানি, যা বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৯০টি দেশে পরিচালিত এবং ৪০০টি ব্র্যান্ড নিয়ে বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের পণ্যসেবা দিয়ে আসছে।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বাংলাদেশে ইউনিলিভারের শুরুটা হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাটে, বেশ সাদামাটাভাবে। ১৯৬২ সালে লিভার ব্রাদার্স এখানে ফ্যাক্টরি তৈরির উদ্যোগ নেয়। ১৫ একর জমিতে তৎকালীন প্রায় ১ কোটি রুপি খরচ করে সে সময় কারখানাটি গড়ে তোলা হয়। প্রাথমিকভাবে কালুরঘাট ফ্যাক্টরির বার্ষিক ১০ হাজার টন গৃহস্থালির ব্যবহার্য সাবান এবং ৫ হাজার টন টয়লেট সাবান উৎপাদনের সক্ষমতা ছিল। ১৯৬৪ সালে এ ফ্যাক্টরি থেকে লাক্স, আমব্রেলা ও সানলাইটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। একই বছরে কোম্পানিটি ৪৮৫ টন লাক্স সাবান এবং ২৫৭ টন লাইফবয় সাবান বিক্রি করে। কালুরঘাট ফ্যাক্টরিতে যেসব পণ্য উৎপাদিত হতো তা কারখানার গেট থেকেই বিক্রি করার রেওয়াজ ছিল।

প্রথমদিকে কর্মরত চারশ শ্রমিকের অধিকাংশই চুক্তিভিত্তিক হওয়ায় পণ্য বিক্রি থেকে প্রাপ্ত নগদ অর্থ দিয়েই শ্রমিকদের প্রতিদিনের মজুরি ও কোম্পানির ব্যয় মেটানো হতো। আরো একটি মজার বিষয় হলো সে সময় কালুরঘাট কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় কারখানার খোলা জায়গার কিছু অংশে ধান উৎপাদন করা হতো এবং শ্রমিকদের জন্য সে উৎপাদিত ধান থেকে বরাদ্দও থাকত। বাকিটা বিক্রি করা হতো বাজারে। এছাড়া শুরুর দিকে কালুরঘাটে গ্লিসারিন রিকভারি প্লান্টের উৎপাদনও চলছিল। সেসব কিছু স্থানীয় কারখানায় বিক্রি করা হতো।

খাতুনগঞ্জের ইলিয়াস ব্রাদার্স ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে লিভার ব্রাদার্স পাকিস্তানের একমাত্র ডিস্ট্রিবিউটর। তখনকার সময়ে কোম্পানির ফ্যাক্টরি ও করপোরেট অফিস দুটোই ছিল কালুরঘাটে। পরিধি বাড়তে থাকায় ১৯৬৮ সালের দিকে কালুরঘাট ফ্যাক্টরিতে ফাইন্যান্স ও সেলস অফিস খোলা হয়।

এ অঞ্চলে ইউনিলিভারের সম্ভাবনা অনুধাবন করতে পেরে ১৯৭০ সালে এ ফ্যাক্টরি পরিদর্শনে এসেছিলেন লিভার ব্রাদার্স চেয়ারম্যান ও সিইও জেপি নিউলিং। এর কিছুদিন পরই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধেও রয়েছে তৎকালীন লিভার ব্রাদার্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্তাল সময়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হামলায় কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেই সময় বেতারকর্মীরা রেডিও স্টেশনের ট্রান্সমিটার নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেন লিভার ব্রাদার্সের সাহসী কর্মীরা। এ প্রতিষ্ঠানেরই একজন ইঞ্জিনিয়ার ট্রান্সমিটারটি খুলে নিতে সাহায্য করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরই মূলত দেশজুড়ে ইউনিলিভারের বিস্তৃতি ঘটে। ১৯৭০-এর দশকে লাক্স, লাইফবয়ের মতো মানসম্মত সাবানের মাধ্যমে ইউনিলিভার ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করে ও পৌঁছে যায় দেশীয় বাজারের শীর্ষে। প্রতিষ্ঠানটি সুলভ মূল্যে মানসম্মত লন্ড্রি পণ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৭২ সালে বাজারে আনে ‘হুইল’। ৭০-এর দশকের শেষের দিকে ভোক্তাদের মধ্যে পার্সোনাল কনজিউমার প্রডাক্টের চাহিদা তৈরি হয়, যা মূলত ছিল আমদানিনির্ভর। আমদানির ওপর চাপ কমাতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ পার্সোনাল প্রডাক্ট উৎপাদনের জন্য আলাদা একটি প্লান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৭৩ সালে কোম্পানিটি লিভার ব্রাদার্স বাংলাদেশ লিমিটেড নামে নিবন্ধিত হয়, যাতে বাংলাদেশ সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৩৯ দশমিক ২৫ শতাংশ মালিকানা থাকে। ১৯৮০ সালে ইউনিলিভারের পার্সোনাল প্রডাক্টের (পিপি) যাত্রা শুরু হয় এ দেশে। পার্সোনাল প্রডাক্টের অংশ হিসেবে সানসিল্ক, স্পার্কেল, ক্লোজআপ, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী (বর্তমানে গ্লো অ্যান্ড লাভলী), ক্লিয়ারের মতো মানসম্পন্ন পণ্য নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে হাজির হয় ইউনিলিভার এবং দ্রুতই ভোক্তা ও দেশের জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

২০০৪ সালে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল) নামে নতুন করে যাত্রা শুরু করে। টেকসই ব্যবসা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সরকার ইউনিলিভার বাংলাদেশের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে কোম্পানির কার্যক্রমকে সমাদৃত করে আসছে। ২০১৩ সাল থেকে টানা ছয় বছরসহ মোট আট বছর শীর্ষ করদাতা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জাতীয় রাজস্বে জমা দিয়েছে। ছোট পরিসরে কার্যক্রম শুরু করলেও ইউনিলিভার আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় নিত্যব্যবহার্য ও ভোগ্যপণ্য (এফএমসিজি) উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান। এ দীর্ঘ যাত্রায় হাঁটি হাঁটি পা পা করে শহর থেকে গ্রামবাংলায় দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায় ইউনিলিভারের জনপ্রিয় পণ্যগুলো। এর সুশৃঙ্খল ও বিস্তৃত সাপ্লাই চেইনের আওতায় রয়েছে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোও।

প্রতিষ্ঠানটির সাতটি ফ্যাক্টরি ভোক্তাদের চাহিদানুযায়ী নিরবচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য উৎপাদন করে যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে একটি নিজস্ব ফ্যাক্টরি এবং বাকি ছয়টি কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের আওতায় ইউনিলিভারের তত্ত্বাবধানে পণ্য প্রস্তুত করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির ৯০ শতাংশের বেশি পণ্যই স্থানীয়ভাবে অর্থাৎ এ দেশের অভ্যন্তরেই উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। বাংলাদেশে বিকাশের অংশ হিসেবে ইউনিলিভার ২০২০ সালে সেটফার্স্টের (জিএসকে গ্রুপ) কাছ থেকে গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের ৮১ দশমিক ৯৮ শতাংশ মালিকানা কিনে নেয় এবং কোম্পানিটির নতুন নামকরণ করা হয় ‘ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড (ইউসিএল)’। হরলিকস, বুস্ট, মালটোভা ও গ্লুকোম্যাক্সডি ইউসিএলের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার কেন্দ্রে রয়েছে সাস্টেইনেবিলিটি বা টেকসই উন্নয়ন। তাই কোম্পানিটির গৃহীত উদ্যোগগুলো সরাসরি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সঙ্গে সম্পৃক্ত। উদ্ভাবনে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান গড়ে তোলা; দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসার; নারীর অংশগ্রহণ, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা; শোভন কর্মপরিবেশ তৈরি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষায় টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ এবং অবদান রাখার মাধ্যমে ইউনিলিভার এ দেশের এফএমসিজি ইন্ডাস্ট্রির পথিকৃৎ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বর্তমানে দেশের প্রায় সব শ্রেণীর মানুষ এক নামে চেনে ইউনিলিভার বাংলাদেশকে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের ফলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, রেডিও বা টেলিভিশনে প্রচার হওয়া ইউনিলিভারের বিজ্ঞাপনগুলোও দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ব্র্যান্ডটির স্বকীয় আবেদন সফলভাবে পৌঁছে দিয়েছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আমাদের স্মৃতিতে এখনো অমলিন হয়ে আছে সেসব বিজ্ঞাপন।

আজ থেকে দুই দশক আগে টিভি পর্দায় নান্দনিক ও শ্রুতিমধুর একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের দেখা মিলত। ‘আমার দেশ, আমার হুইল’ টাইটেলের ওই টিভিসির ব্যাকগ্রাউন্ড জিঙ্গেলে আরো গাইতে শোনা যায়, ‘সবুজ এ বাংলার মানুষের সাথে গেঁথে আছে এক নাম; হুইল, হুইল, হুইল’। এ বিজ্ঞাপনচিত্রে ফুটে ওঠে গ্রামবাংলার কৃষক, বিস্তীর্ণ ধানখেত, নদীতে পালতোলা নৌকা, ঐতিহ্যবাহী মেলা, তাঁতির কাপড় বুনন, রমনার বটমূলে বৈশাখী গান, মৃৎশিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় তৈরি তৈজসপত্রসহ বাংলার সব পরিচিত দৃশ্যপট। নস্টালজিয়ায় ভোগানো এ বিজ্ঞাপন ছয় দশকের ঐতিহ্যবাহী লন্ড্রি সাবান এবং ডিটারজেন্ট ব্র্যান্ড হুইলের, যেটি ইউনিলিভারের একটি গৃহস্থালি পণ্য। গতানুগতিক একটি বিজ্ঞাপনী প্রচার হিসেবে দেখলে ইউনিলিভারের বাংলার মানুষের সঙ্গে একাত্মতার এ দাবি কারো কারো কাছে অত্যুক্তি মনে হতেই পারে। কিন্তু এ দেশের মানুষের সঙ্গে ইউনিলিভার এবং এর ব্র্যান্ডগুলোর সম্পর্ক খুবই নিবিড়।

‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ এবং ‘লাক্স-আনন্দধারা মিস ফটোজেনিক’ প্রতিযোগিতা সম্পৃক্ত করতে পেরেছে আপামর দর্শককে। অপি করিম, জাকিয়া বারী মম, বিদ্যা সিনহা মীম, মেহজাবিনসহ দেশের মিডিয়া জগতের অনেক প্রতিভাময় ও সফল অভিনেত্রীদের পরিচিতি ঘটে এ প্লাটফর্ম দুটির মাধ্যমে। সাড়া জাগানো এ আয়োজন দুটিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে প্রসাধনী ব্র্যান্ড ‘লাক্স’। একইভাবে ইউনিলিভারের আরেকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘ক্লোজআপ’ ২০০৫ সালে শুরু করে ‘ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ’ থিমের সংগীতবিষয়ক রিয়ালিটি শো। এ প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসেন নোলক বাবু, সালমা, লিজার মতো সফল শিল্পীরা।

শুধু প্রতিযোগিতামূলক ‘রিয়ালিটি শো’ আয়োজনই নয়, মানুষের অভ্যাস পরিবর্তনেও ভূমিকা রেখেছে ইউনিলিভার। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য-সুরক্ষা ব্র্যান্ড ‘লাইফবয়’-এর কথা উল্লেখযোগ্য। সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ব্র্যান্ডটি ‘হ’তে হাত ধোয়া’ ক্যাম্পেইন চালু করে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ২০১১ থেকে দেশজুড়ে ১ দশমিক ৬ কোটির বেশি শিক্ষার্থীর কাছে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে লাইফবয়।

এমন আরো অনেক জনপ্রিয় উদ্যোগ রয়েছে ইউনিলিভারের, যা কিনা সর্বসাধারণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। গ্রাহক ও ভোক্তাদের ভালো লাগা অনুধাবন এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ কিংবা সামাজিক সচেতনতা তৈরির কাজটি ইউনিলিভার এ দেশে বেশ সফলভাবে করে আসছে। আশাব্যঞ্জক কর্মক্ষেত্র তৈরিতে সফলতা ও কর্মীদের সুরক্ষায় অবদান রাখায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ ২০১১ সাল থেকে ১২ বার ‘নাম্বার ওয়ান এমপ্লয়ার অব চয়েস’ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

উৎপত্তি ও বৈশ্বিক প্রসার বহুজাতিক কোম্পানি হিসেবে হলেও বাংলাদেশে ইউনিলিভার গ্রাহক, ভোক্তা, স্থানীয় জনপদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যেতে সক্ষম হয়েছে। এ দেশের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিতেই ব্যবহার করা হয় ইউনিলিভারের ২৬টি ব্র্যান্ডের এক বা একাধিক পণ্য। তাই দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়, এ দেশের মানুষের সঙ্গে ইউনিলিভারের সম্পর্ক শুধু ব্যবসায়িক নয়। ইউনিলিভারের সঙ্গে বাংলাদেশের এ সম্পর্ক নির্মাণের অন্যতম কারিগর এ দেশে কর্মরত কর্মীরা। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তারা প্রতিষ্ঠানটির গৌরবময় সব অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ইউনিলিভারকে সাধারণ মানুষের আস্থার ব্র্যান্ডে পরিণত করেছেন।

বর্তমানে ইউনিলিভার বাংলাদেশের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার। তিনি ২৬ বছর ধরে দেশে ও বিদেশে ব্যবসায়িক নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজমেন্ট কমিটি বা শীর্ষ নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে ৪০ শতাংশই নারী, যা দেশের এফএমসিজি ইন্ডাস্ট্রিতে সর্বোচ্চ। নারীর ক্ষমতায়নে এ অন্তর্ভুক্তি ইউনিলিভার শুধু করপোরেট অফিসেই সীমাবদ্ধ রাখেনি, বরং বিস্তৃত রয়েছে ফ্যাক্টরি ও মাঠ পর্যায়েও।

বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণে অনন্য অবদান রাখায় এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪ অর্জন করেছে ইউবিএল। বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল সামিটে এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৪ শীর্ষক অনুষ্ঠানে টেকসই অংশীদারত্ব এবং নারীদের ক্ষমতায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় ইউনিলিভার বাংলাদেশকে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের টেকসই প্যাকেজিং সমাধান ‘ইউরিফিল’-এর জন্য ‘রেসপন্সিবল কনজাম্পশন অ্যান্ড প্রডাকশন’ এবং চট্টগ্রামের কালুরঘাট ফ্যাক্টরির (কেজিএফ) জন্য ‘ইন্ডাস্ট্রি ইনোভেশন অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ শীর্ষক আরো দুটি ক্যাটাগরিতেও ‘অনারেবল মেনশন’ পেয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি ‘উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট’ ক্যাটাগরিতে জিতে নিয়েছে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৪’ এবং ‘ডাইভার্সিটি, ইকুইটি অ্যান্ড ইনক্লুশন (ডিইআই)’ উদ্যোগের জন্য পেয়েছে ‘ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)’ আয়োজিত ‘স্টার ডিইআই টিম অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২৩’।

এর আগে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের (আইসিএসবি) ‘করপোরেট গভর্ন্যান্স এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’-এর স্বর্ণপদকও অর্জন করেছে ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেড (ইউসিএল)। দশম আইসিএসবি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০২২-এ ‘ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড কোম্পানিজ’ ক্যাটাগরিতে টানা তৃতীয়বারের মতো ইউসিএলকে এ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। করপোরেট গভর্ন্যান্সে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ইউসিএল এ স্বর্ণপদক অর্জন করে।

গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি প্রোগ্রাম, গ্র্যাজুয়েট ইঞ্জিনিয়ার প্রোগ্রাম ও স্টেম প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইউনিলিভার বাংলাদেশ কোম্পানির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্যেও নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। ফলে ইউনিলিভারের অনেক কর্মীকেই এখানে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত করে দেশের করপোরেট ইন্ডাস্ট্রিতে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায়। সেই সঙ্গে ইউনিলিভারের আইকনিক ব্র্যান্ডগুলোও সবার মনে সফলভাবে জায়গা করে নিয়েছে।