লাদেশের একটি স্বনামধন্য ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। স্যামসন এইচ চৌধুরীর নেতৃত্বে চার বন্ধু ডা. কাজী হারুনার রশিদ, ডা. পিকে সাহা ও রাধাবিনোদ রায়ের হাত ধরে পাবনা শহরের শালগাড়িয়ায় ১৯৫৮ সালে স্কয়ারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। স্যামসন এইচ চৌধুরী তার অন্য তিন বন্ধুকে ওষুধ উৎপাদন শুরু করতে রাজি করালে একটি ছোট আবাসিক বাড়িতে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস নামে প্রথম কারখানাটি নির্মিত হয়, তখন প্রতিষ্ঠানের নাম ছিল স্কয়ার ফার্মা।

চার বন্ধু মিলে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দেন ব্যবসায় অর্থায়ন করতে। সেই আমলে এ পরিমাণটিও অত ছোট ছিল না। ফলে চার বন্ধু একবারে পুরো অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তাই তারা ভেঙে ভেঙে কিস্তিতে বিনিয়োগ করতে থাকেন। শুরুর সময় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি খুব মৌলিক হওয়ায় কোন সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করতে হবে এবং সেগুলো কোথায় খুঁজে পেতে হবে তা জানা ছাড়া যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করা নিয়ে বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়নি উদ্যোক্তাদের।

পরের বছর অর্থাৎ ১৯৫৯ সালে তারা এ উদ্যোগকে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে পরিণত করেন এবং স্বল্প লোকবল নিয়ে সীমিত ক্ষমতার ছোট কিন্তু সুসংগঠিত কারখানাটি চালু করেন। কারখানার আয়তন ছিল মাত্র ৩ হাজার বর্গফুট, ১৫ হাজার টাকা মূলধনের সেই কারখানায় শ্রমিক ছিলেন মাত্র ১২ জন। চার বন্ধুর মাঝে দুজন ছিলেন পেশায় ডাক্তার। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাদের প্রথম পণ্যটি হবে রক্ত ​​বিশুদ্ধকরণ পণ্য, যার নাম ‘ইস্টনস সিরাপ’। এ সিরাপ বিক্রি করে সেই বছর তাদের টার্নওভার ছিল ৫৫ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটি বড় হতে থাকায় ছোট প্রাইভেট কোম্পানি থেকে বড় প্রতিষ্ঠানের পথে যাত্রা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং ১৯৬৪ সালে স্কয়ার ফার্মা নাম বদল করে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

স্বাধীনতার পর থেকে স্কয়ার তাদের অত্যাধুনিক কারখানা স্থাপনের সময় কোনো উল্লেখযোগ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল বিদ্যমান আইনের ভুল ব্যাখ্যা এবং অপব্যবহার। তবে বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তিশালী ওষুধ শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকার, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ সবসময়ই ইতিবাচক হওয়ায় স্কয়ার এই জাতীয় বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। আইনি প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে সহজ হয়ে ওঠা এবং দেশের শিল্প খাতের মসৃণ সম্প্রসারণ পরিস্থিতি সহজ হয়ে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

যদিও সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য খুব বেশি অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়নি, তবে কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হয়েছিল। স্থানীয় আমদানিকারকদের কাছ থেকে অনেক বেশি দামে কাঁচামাল কিনতে হতো ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্যের জন্য। এটি সেই সময়ের অন্যান্য পরিচিত ব্র্যান্ডের তুলনায় স্কয়ারের ওষুধের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে দাম বেশি হলেও পণ্যের উচ্চতর গুণগত মানের কারণে স্থানীয় ডাক্তাররা স্কয়ারের প্রথম পণ্য ইস্টনস সিরাপ ধীরে ধীরে প্রেসক্রাইব করা শুরু করেন। ডাক্তারদের আস্থা অর্জনের ফলে দ্রুতই স্কয়ারের জনপ্রিয়তা ভোক্তাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের বিক্রি বাজারের চাহিদাকে ছাড়িয়ে যায়, এমনকি তারা স্বল্প পরিসরে রফতানি শুরু করারও সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু রফতানিতে আবারো তারা সমস্যার সম্মুখীন হন। স্বাধীনতার পূর্বে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট বৈদেশিক মুদ্রানীতি স্কয়ারের রফতানি আয় সীমিত করে দিয়েছিল।

স্বাধীনতার পর একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সুরক্ষিত আমদানি লাইসেন্স অর্জন, যা তাদের কাঁচামালের খরচ কমাতে সাহায্য করবে। প্রায় দুই বছরের সংগ্রাম এবং নিরলস পরিশ্রমের পরে স্কয়ার খুব সীমিত সুযোগে একটি আমদানি লাইসেন্স সুরক্ষিত করতে সক্ষম হয়।

কঠিন এ প্রতিবন্ধকতার সময়গুলোয় চার বন্ধু নিজেদের ইস্পাতদৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দেখিয়েছিলেন এবং স্যামসন এইচ চৌধুরী নিজেই অনেক পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছিলেন।

স্কয়ারের পণ্য এত ভালো খ্যাতি অর্জন করতে থাকে যে ১৯৭৪ সালে বেলজিয়ামভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি জ্যানসেন ফার্মাসিউটিক্যালস স্কয়ারের সঙ্গে একটি যৌথ প্রযুক্তিগত উদ্যোগভিত্তিক চুক্তিতে যুক্ত হয়। জ্যানসেন ফার্মা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। এ চুক্তির আওতায় স্কয়ারের কর্মচারীরা জ্যানসেনের তত্ত্বাবধানে ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য উৎপাদনে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। নব্বই দশকের শুরুতে কোম্পানিটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয় ও বাজারে নিজেদের শেয়ার ছাড়ে।

প্রথম বছরের টার্নওভারের পর থেকেই স্কয়ার সম্প্রসারণশীলতার নীতি গ্রহণ করে। একটি সিরাপ দিয়ে শুরু করে স্কয়ারের বর্তমানে ৯০০টিরও বেশি (২০২২-২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী ৯১০টি) ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য রয়েছে, যার বেশির ভাগই ভোক্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। এছাড়া শুরুতে অল্প পরিমাণ ওষুধ উৎপাদন করলেও বর্তমানে স্কয়ার প্রতি বছর প্রায় ৭৪ লাখের বেশি ট্যাবলেট, ১৭ লাখের বেশি ক্যাপসুল, দেড় লাখ বোতলের বেশি লিকুইড ওষুধ, ৮৭ হাজারের বেশি সাপোজিটরি, ৪৩ হাজারের বেশি ইনহেলার এবং আরো অন্যান্য বিভিন্ন ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্য উৎপাদন করছে। তাদের ২০২২-২৩ সালের বার্ষিক রিপোর্ট বলছে বার্ষিক এ উৎপাদন প্রকৃতপক্ষে স্কয়ারের মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৭০ শতাংশের কম, এমনকি কিছু কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশের কম উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভবিষ্যতে নিজেদের উৎপাদন ও সক্ষমতা দুইই আরো বাড়ানোর জন্য কাজ করছে বর্তমান পরিচালনা পরিষদ।

পাবনার আবাসিক বাড়িতে নির্মিত তিন হাজার বর্গফুটের ছোট কারখানা থেকে শুরু করে স্কয়ার ফার্মার এখন চারটি অত্যাধুনিক কারখানা রয়েছে, যার একটি বাংলাদেশের বাইরে (কেনিয়ায়)। দেশের ভেতর স্কয়ারের কারখানাগুলো অবস্থিত ঢাকা, পাবনা ও টাঙ্গাইলে। পাবনা ইউনিটে মূলত স্কয়ারের প্রথম কারখানাটি অবস্থিত। বর্তমানে এটি একটি আধুনিক প্লান্ট, যা সম্পূর্ণরূপে WHO - cGMP-এর নীতিমালা মেনে পরিচালিত হয়। এটি ১৯৯৮ সালে ISO 9001 সার্টিফিকেট অর্জন করে। এ ইউনিটের কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ২০০২ সালে নতুন সংস্করণে আপগ্রেড করা হয়েছে।

ঢাকা ইউনিটটি রাজধানী শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। যুক্তরাজ্যের বোভিস ল্যান্ড লিজ এ প্লান্টটি ডিজাইন করেছে। এখানে সেবনযোগ্য সলিড ওষুধের একটি অত্যাধুনিক উৎপাদন ফ্যাসিলিটি এবং সিজিএমপি সিএফআর ২১-এর প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে সব সুবিধা তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা ইউনিট ২০০২ সালের শেষদিকে তার কার্যক্রম শুরু করে। একই বছর ইউনিসেফের কোপেনহেগেন শাখার প্রতিনিধিরা ঢাকা ইউনিটটি নিরীক্ষণ করেন এবং প্লান্টটিকে তাদের বিশ্বব্যাপী সরবরাহের জন্য তালিকাভুক্ত করেন। ইউনিসেফ অডিট ছাড়াও ২০০৩ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরামর্শদাতা সংস্থা ডেভিড বেগ অ্যাসোসিয়েটস এ ফ্যাসিলিটি পর্যবেক্ষণ করে এবং স্বীকৃতি দেয় যে এ উদ্ভিদ এমএইচআরএর (ইউনাইটেড কিংডম মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রডাক্টস রেগুলেটরি এজেন্সি) সব নির্দেশনা অনুসরণ করছে।

বাংলাদেশে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে স্কয়ার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তাদের তৃতীয় জিএমপি কমপ্লায়েন্স ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট চালু করে। অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন এ প্লান্ট স্কয়ার ফর্মুলেশনস লিমিটেড নামে পরিচিত এবং ২০১৪ সাল থেকে এটি বাজারে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য সরবরাহ করছে। নতুন প্লান্টটি মির্জাপুরের গড়াই এলাকার মমিন নগরে অবস্থিত। প্লান্টটি বার্ষিক আট হাজার মিলিয়ন ট্যাবলেট এবং দুই হাজার মিলিয়ন ক্যাপসুল উৎপাদনের সক্ষমতাবিশিষ্ট। নতুন এ প্লান্ট কাঠামোবদ্ধ স্টিল দ্বারা তৈরি, যা আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা এবং স্কয়ারের নিজস্ব টিম যৌথভাবে ডিজাইন করেছে।

স্কয়ারের তিনটি ফ্যাসিলিটির কার্যক্রম বিভিন্ন ইউনিটে বিভক্ত, যার মাঝে রয়েছে পেট বোটল বিভাগ (ওষুধের বোতল তৈরি করা হয়), এগ্রোভেট এবং এনিম্যাল হেলথ বিভাগ, হারবাল এবং আয়ুর্বেদিক বিভাগ, এপিআই বিভাগ, লাইফ সায়েন্স ইউনিট, সেফালোস্পোরিন ইউনিট, ইনসুলিন ইউনিট, হরমোন ও স্টেরয়েড ইউনিট, পেনিসিলিন ইউনিট, লিকুইড ইউনিট, প্যারেন্টেরাল ও অপথালমিক ইউনিট ইত্যাদি।

স্কয়ারের প্রতিটি সাইট বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত নির্মাতাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত। কারখানায় ব্যবহৃত বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিই ইউরোপ, জাপান, কোরিয়া, তাইওয়ান, চীন ও ভারত থেকে আমদানীকৃত। প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্কয়ার কখনই শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সেরা ম্যানুফ্যাকচারিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা থেকে বিচ্যুত হয়নি। লাইফ সায়েন্সসংক্রান্ত গবেষণা ও উৎপাদনে মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তাই যতই ব্যয়বহুল হোক না কেন স্কয়ার প্রযুক্তিগত মান রক্ষার বিষয়টি সবসময় মেনে চলে। প্রতি বছর স্কয়ারের ম্যানুফ্যাকচারিং সাইটগুলোর মানোন্নয়নের পেছনে একটি ভালো পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে এ বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

১২ জন লোকবল নিয়ে যাত্রা শুরু করা স্কয়ারের বর্তমানে দেশে এবং দেশের বাইরে প্রায় ১৫ হাজার কর্মচারী রয়েছেন। বৈচিত্র্যময় জাতীয়তার মানুষও রয়েছে এ বিপুল জনশক্তির মাঝে। যেমন কেনিয়ার কারখানাটিতে ১০০ জনেরও বেশি কেনিয়ান নিযুক্ত রয়েছেন।

একটি জেনেরিক ফার্মা পণ্য উৎপাদনের শিল্পের অংশ হওয়া সত্ত্বেও এখনো নতুন অণু আবিষ্কার সম্পর্কিত কোনো গবেষণা কার্যক্রম নেই স্কয়ারের। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ও উন্নয়ন শাখা মূলত ওষুধ ফরমুলেশন এবং ওষুধের মান উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা করছে। তবে ভবিষ্যতে নিজেদের গবেষণা আরো বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে নেতৃত্ব বজায় রেখে ২০২৩-২৪ সালে স্কয়ার ফার্মার টার্নওভার ৮৫০০ কোটি টাকার নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। স্কয়ারের রফতানিও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বর্তমানে ২২ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বৈশ্বিক পদচিহ্ন বাড়ানোর জন্য কেনিয়ার মতো অন্যান্য দেশেও কারখানা স্থাপনে কাজ করছে স্কয়ার।

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ওষুধ রফতানি শুরু করার ক্ষেত্রে স্কয়ার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। বর্তমানে ৪২টির বেশি দেশে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য ওষুধ রফতানি করছে তারা। এর মাঝে রয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশ আফগানিস্তান, আজারবাইজান, ভুটান, কম্বোডিয়া, জর্জিয়া, হংকং, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ইয়েমেন; ইউরোপের যুক্তরাজ্য (কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং বা সেখানকার ব্র্যান্ড থেকে অর্ডার পাওয়ার ভিত্তিতে ওষুধ তৈরি); উত্তর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র; আফ্রিকার কেনিয়া, লিবিয়া, মৌরিতানিয়া, মরিশাস, মোজাম্বিক, সোমালিয়া, তানজানিয়া, উগান্ডা; ওশেনিয়ার ফিজি, পালাউ, পাপুয়া নিউগিনি এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বেলিজ, কোস্টারিকা, জ্যামাইকা, নিকারাগুয়া, সুরিনাম ইত্যাদি। এসব দেশে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবসা ও সেবার এ সম্প্রসারণ স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের এখনকার টার্গেট বিদেশে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা।

মুক্তিযুদ্ধের আগে দেশের বাইরে ওষুধ রফতানি শুরু করলেও ১৯৮৪ সালে একসঙ্গে অনেকগুলো দেশে ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য রফতানি শুরুর মাধ্যমে স্কয়ার বাজারে অনেক দূর এগিয়ে যায়। পাশাপাশি আগে উল্লিখিত কেনিয়ার কারখানাটি স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তার অবস্থান থেকে আশপাশের দেশেও রফতানি শুরু করেছে। এছাড়া স্কয়ার ফিলিপাইনে একটি কোম্পানি গঠন করেছে, যা সেই অঞ্চলে স্কয়ারের রফতানি প্রসারে সহায়তা করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের পণ্য রফতানি খাতের বড় বাজার মধ্যপ্রাচ্য ও এমন অন্যান্য কৌশলগত অবস্থানে স্কয়ারের অধীনে সহায়ক প্রতিষ্ঠান গঠনে কাজ করছে বর্তমান কর্তৃপক্ষ।

নিজেদের দক্ষ ও সুসংগঠিত নীতির মাধ্যমে স্কয়ার অসংখ্য কঠিন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেছে। এমনকি সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ব্যবসা খাতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করলেও শেয়ারবাজারে স্কয়ারের অবস্থান ছিল উন্নতির দিকে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৪৭২ কোটি টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে স্কয়ার ফার্মা, আগের বছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪২৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা ৪৭ কোটি টাকা বা ১১ শতাংশ বেড়েছে। দেশের বাজারে স্কয়ারের এ দৃপ্ত অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরো বাড়বে বলে বিশ্বাস উদ্যোক্তাদের।