মানুষকে কম দামে ভালো মানের খাবার দেয়ার চিন্তা থেকেই চট্টগ্রামের জনপ্রিয় ফাস্টফুড ব্র্যান্ড ‘সিজল’-এর যাত্রা শুরু। ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করে ‘সিজল’। শুরুর দিকে মেনুতে ছিল মাত্র কয়েকটি বার্গার ও স্ন্যাকস আইটেম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মেনুতে যুক্ত হয়েছে পিৎজা, পাস্তা, রাইস বোল, ডেজার্ট এবং নানা মৌসুমি খাবার। আজ সিজলের শাখা ছড়িয়ে পড়েছে আগ্রাবাদ, চৌমুহনী, ফটিকছড়ি, চিকানদণ্ডী ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায়।

সিজলের অন্যতম উদ্যোক্তা শহীদ উল্লাহ কোরেশীর ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু হয়েছিল ভিন্ন খাতে। একসময় তিনি সিদ্ধান্ত নেন ফাস্টফুড ব্যবসায় নামার। প্রথম একটি দোকান নেয়ার সময় সেখানে ‘ফুড কোর্ট’ লেখা দেখে উদ্বুদ্ধ হন। এরপর বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন ‘সিজল’-এর পথযাত্রা। ব্যবসার শুরুতে নিজস্ব অর্থায়নে বিদেশ থেকে কিছু যন্ত্রপাতি আমদানি করে তৈরি করতে শুরু করেন ফাস্টফুড ও কনফেকশনারি আইটেম।

বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২৫০ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। উদ্যোক্তার ভাষায়, ‘মানুষকে কম দামে ভালো খাওয়ানোর চিন্তা থেকেই আমরা সিজল শুরু করি। এখন আমাদের চাহিদা নেই—বয়সের শেষ প্রান্তে এসেছি। এখন শুধু চাই আরো কিছু কর্মসংস্থান হোক। সে চিন্তা থেকেই আরো নতুন কিছু করার চিন্তা করছি।’

গ্রাহকদের সুবিধার্থে সিজল ডিজিটাল প্লাটফর্মেও সক্রিয়। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে সরাসরি অর্ডার গ্রহণ, হোম ডেলিভারি সুবিধা এবং নিয়মিত অফারের মাধ্যমে তারা ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে নিজেদের স্বাদ ও সেবা। ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার ছাপও স্পষ্ট।

বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল ব্র্যান্ড যেখানে কেবল মুনাফা হিসাব করে চলে, সেখানে সিজল চেষ্টা করছে স্থানীয় স্বাদ, সহনীয় মূল্য এবং আন্তরিক সেবা বজায় রাখতে। আধুনিক ফাস্টফুড সংস্কৃতির সঙ্গে স্থানীয় স্বাদ ও চাহিদার মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা রয়েছে সিজলের।

সিজলের এ দীর্ঘ পথচলায় সহযাত্রী হয়ে ছিল প্রাইম ব্যাংক। ২০০৯ সাল থেকে ব্যাংকটির সঙ্গে যাত্রা শুরু করা সিজলের দীর্ঘ ১৬ বছরের সম্পর্ক রয়েছে প্রাইম ব্যাংকের। ব্যাংকিং সাপোর্ট ও অর্থনৈতিক সহায়তা সিজলের সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রেখেছে বলেও জানান কোরেশী।

সিজল আন্তর্জাতিক কোনো ব্র্যান্ড না হলেও চট্টগ্রামের মানুষের কাছে অতি পরিচিত হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। উদ্যোক্তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে—আরো আধুনিকতার সঙ্গে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নতুন কিছু যুক্ত করা, যাতে করে এ ব্র্যান্ড ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।