দেশের ব্যাংক খাতে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অবস্থান বেশ সুদৃঢ়। আমাদের গ্রাহক নেটওয়ার্কও সারা দেশব্যাপী বিস্তৃত। মানসম্মত সেবা ও বিস্তৃত নেটওয়ার্কের কারণে প্রবাসীরা মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ২০২৪ সালে আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ হাজার ১১০ কোটি টাকার রেমিট্যান্স এসেছে। এ হিসাবে দেশের রেমিট্যান্সের বাজারে আমাদের ব্যাংকের অংশীদারত্ব ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

তবে এ অংশীদারত্ব নিয়ে আমাদের খুব বেশি আত্মতৃপ্তি নেই। আমরা রেমিট্যান্স বাড়ানোর জন্য বেশকিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এগুলোর মধ্যে আছে— নতুন নতুন এক্সচেঞ্জ কোম্পানির সঙ্গে রেমিট্যান্স আহরণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়া। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের রেমিট্যান্স বিষয়ক প্রসার ও প্রচারণার বৃদ্ধি করা। গ্রাহকের জন্য সেবার মান উন্নয়ন করা এবং বিভিন্ন ক্যাম্পিং কার্যক্রম পরিচালনা করা।

রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে আমরা বিশ্বের অনেকগুলো মানি এক্সচেঞ্জ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— আল-আহলিয়া মানি এক্সচেঞ্জ ব্যুরো, এক্সপ্রেস মানি সার্ভিসেস, যুক্তরাজ্যের এমিরেটস ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ, আফতাব কারেন্সি এক্সচেঞ্জ লিমিটেড, এনইসি মানি ট্রান্সফার লিমিটেড, মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ হাউজ (ইউকে) লিমিটেড, কাতারের আল জামান এক্সচেঞ্জ ডব্লিউএলএল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যারাবিয়ান এক্সচেঞ্জ কোম্পানি, এশিয়া-প্যাসিফিক ফরেন এক্সচেঞ্জ লিমিটেড, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, ওয়াল স্ট্রিট এক্সচেঞ্জ সেন্টার এলএলসি, ইকোনমিক এক্সচেঞ্জ সেন্টার, ইনস্ট্যান্ট ক্যাশ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড, মুতহুত এক্সচেঞ্জ দুবাই, ন্যাশনাল এক্সচেঞ্জ কো. ইতালি, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানি ট্রান্সফার, প্রভু গ্রুপ ইনকরপোরেশন, যুক্তরাষ্ট্র, প্লাসিড ইনকরপোরেশন যুক্তরাষ্ট্র, মাস্টার কার্ড ট্রানজেকশন সার্ভিসেস এলএলসি, যুক্তরাজ্য, লুলু এক্সচেঞ্জ এলএলসি ওমান, ইউনিমনি এক্সচেঞ্জ সেন্টার, ইস্টার্ন এক্সচেঞ্জ এস্টাবলিশমেন্ট, মাল্টিনেট ট্রাস্ট এক্সচেঞ্জ এলএলসি ইউএই, মন্ডিয়ালবনি সার্ভিস ইতালি, আল ফারদান এক্সচেঞ্জ এলএলসি সংযুক্ত আরব আমিরাত, রিয়াল এক্সচেঞ্জ কোং ডব্লিউএলএল কুয়েত, গালফ এক্সচেঞ্জ কোম্পানি, কাতার, জিসিসি এক্সচেঞ্জ ইউকে যুক্তরাজ্য, ড্যান্ডিলিঅন (রিয়া মানি ট্রান্সফার) ও জাপান রেমিট। বিশ্বের সব দেশ থেকেই মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স আসছে। তবে এর মধ্যে কাতার, আরব আমিরাত, ইতালি, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ইত্যাদি দেশ থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসে।

প্রবাসীদের জন্য মার্কেন্টাইল ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের আমানত ও ঋণ প্রডাক্ট চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট (এফসিএডি), নন-রেসিডেন্স ইনভেস্টস টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআইটিএ), নন-রেসিডেন্স টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআরটিএ), নন-রেসিডেন্স ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট (এনএফসিডি), এমবিএল প্রবাসী সঞ্চয় হিসাব, এমবিএল প্রবাসী মাসিক সঞ্চয় প্রকল্প, মার্কেন্টাইল ওবিইউ (ওবিইউ) ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট, মার্কেন্টাইল ওবিইউ ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকিং (ওবিইউআইবি) অ্যাকাউন্ট এবং প্রবাসী হোম লোন। আমানত প্রডাক্টগুলোয় প্রবাসীদের আকর্ষণীয় হারে মুনাফা প্রদান করা হয়।

Remitance-Graph-01-Outline

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠাতে বেশি নিরাপদ বোধ করেন। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের দেয়া সেবা ও পদক্ষেপের কারণে। যেসব কারণে আমরা প্রবাসীদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি তার মধ্যে আছে—প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার, নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা, ক্যাম্পিং প্রোগ্রাম ও পুরস্কার, সরকারি প্রণোদনা এবং আন্তরিক সেবা।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি। এর মধ্যে আছে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবস ১৮ ডিসেম্বর উদযাপন করা। বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা ক্যাম্পেইন, যেমন রেমিট্যান্স মেলা, রোড শো ইত্যাদি পালন করা। দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো ও উত্তোলনের প্রক্রিয়া আরো সহজ করা দরকার। এক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে সেগুলো হলো— অপ্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট প্রদর্শন রহিত করে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনপূর্বক রেমিট্যান্স প্রদানের ব্যবস্থা করা, রেমিট্যান্স প্রদানের সফটওয়্যার আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সহজীকরণ, রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চার্জ ও ডকুমেন্ট প্রদর্শন রহিত করে প্রক্রিয়া সহজীকরণ।

তবে অবৈধ হুন্ডির বাজার নিয়ন্ত্রণ করাটা দেশের রেমিট্যান্স সংগ্রহের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। এজন্য রেমিট্যান্স প্রেরণ ও গ্রহণ উভয় ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়াতে হবে। কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা, জরিমানার বিধান ইত্যাদি। এছাড়া রেমিট্যান্স প্রেরণ ও গ্রহণে প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে আগ্রহী হবেন।

রেমিট্যান্স বিনিময় হার নিয়ে অস্থিরতার কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা দূরীকরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করা, সব ব্যাংকের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার সুষম বিনিময় হার (ইউনি রেট) নির্ধারণ এবং সব ব্যাংককে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনে বাধ্য করা দরকার।