২০২৪ সালে দেশে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহিত হওয়া অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করছে এ রেমিট্যান্স। ব্র্যাক ব্যাংকও রেমিট্যান্স প্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০২৪ সালে প্রবাসীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে। এ সাফল্যের অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিত। প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে প্রেরণকৃত রেমিট্যান্সের ৬ শতাংশ ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯৬ শতাংশ বেশি। আমরা আধুনিক প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্য মানি ট্রান্সফার সিস্টেম, প্রবাসী ও তার পরিবারের জন্য ব্যাংকিং প্রডাক্ট এবং দ্রুত সেবার মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করেছি। ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির জন্য ২০২৪-এ ব্র্যাক ব্যাংক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে রেমিট্যান্স সম্মাননা পুরস্কার পেয়েছে। একই সঙ্গে সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশী কর্তৃক আয়োজিত ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ টপ টেন রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেছে।
প্রবাসী গ্রাহকের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে আমরা আকর্ষণীয় প্রডাক্ট ও সেবা চালু করে যাচ্ছি। আগামীতে আরো নতুন নতুন প্রডাক্ট ও সেবা চালু করা হবে।|বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ, ফিনটেক কোম্পানি এবং বৈদেশিক ব্যাংকের সঙ্গে পার্টনারশিপ বাড়ানো হচ্ছে, যাতে প্রবাসীরা খুব সহজেই ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারেন। প্রবাসীদের কাছে আমাদের সেবা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা চালু করা হচ্ছে। এছাড়া আমরা ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহারকারী বান্ধব হওয়ায় গ্রাহক উপকৃত হচ্ছেন।
বিশ্বের ৭৫টি এক্সচেঞ্জ হাউজ ও ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের পার্টনারশিপ আছে। আমরা আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউজের সঙ্গে প্রতিনিয়ত পার্টনারশিপ ও টেকনোলজি ইন্টিগ্রেশন করে যাচ্ছি। আমরা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, এশিয়া-প্যাসিফিক, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নর্থ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ, মালদ্বীপ ও মরিশাস থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছি।
ব্র্যাক ব্যাংকে প্রবাসীদের জন্য আছে প্রবাসী সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট। এ প্রডাক্টের সঙ্গে গ্রাহক বীমা সুবিধাও পাবেন।| বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে গ্রাহক এ অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারেন এবং আমাদের ‘আস্থা’ অনলাইন ব্যাংকিং প্লাটফর্মের মাধ্যমে সহজেই লেনদেন করতে পারেন। আরো আছে ফিক্সড ডিপোজিট ও ডিপিএস প্রডাক্টস। এছাড়া তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য আছে প্রবাসী পরিবার সেভিংস অ্যাকাউন্ট। যেখানে তারা পাচ্ছেন বীমা, মাসিক ইন্টারেস্টসহ আরো অনেক সুবিধা। এছাড়া আছে বিদেশী মুদ্রা হিসাব (ওবিইউ এফসি অ্যাকাউন্ট), যা গ্রাহক বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে ওপেন করতে পারছেন। এছাড়া আছে আকর্ষণীয় ইন্টারেস্ট রেটে বন্ধন (ওবিইউ) ফিক্সড ডিপোজিট সুবিধা।
ব্র্যাক ব্যাংক গ্রাহকের আমানতের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করে। আমাদের ব্যাংক আন্তর্জাতিক মানের এএমএল/সিএফটি নীতিমালা মেনে চলে। ব্যাংকের অভিজ্ঞ পরিচালনা পর্ষদ, দেশসেরা ক্রেডিট রেটিং ও ধারাবাহিক আর্থিক পারফরম্যান্স গ্রাহকের আস্থা অর্জনে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি দ্রুত লেনদেন, সব শাখায় পর্যাপ্ত অর্থ সংস্থান, গ্রাহকসেবা কেন্দ্রের কার্যকর যোগাযোগ এবং প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার প্রবাসীদের আস্থা অর্জনে সহায়তা করে। প্রবাসীরা ২৪/৭ ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা পেয়ে থাকেন। এছাড়া তাদের জন্য আছে আমাদের ডেডিকেটেড হেল্প ডেস্ক, যেখানে গ্রাহক পাচ্ছেন বিভিন্ন ব্যাংকিং সমাধান। এ কারণে রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি লেনদেনের জন্য প্রবাসীরা ব্র্যাক ব্যাংকের সেবা নিতে বেশি নিরাপদ মনে করছেন।
প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন প্রবাসীদের টাকা অ্যাকাউন্ট পরিচালনা সহজীকরণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসীরা যাতে পার্সোনাল লোন (ব্যক্তিগত ঋণ) নিতে পারেন সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালা জারি করেছে। ভবিষ্যতে ইকেওয়াইসিতে (eKYC) প্রবাসী অ্যাকাউন্ট ওপেনিংয়ের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন যুক্ত করা যেতে পারে। ফলে তারা বিদেশে থেকেও এমআরপি পাসপোর্ট দিয়ে eKYC-এর সহায়তায় অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারবেন। বর্তমানে শুধু এনআইডি থাকলে eKYC-তে প্রবাসীরা অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারেন। সেই সঙ্গে গভর্নমেন্ট বন্ডগুলো ওয়েট সিগনেচারের মাধ্যমে খোলার নীতিমালা প্রণয়ন, যাতে প্রবাসীরা খুব সহজেই স্ক্যান কপির মাধ্যমেই বন্ড ওপেন করতে পারেন।
এছাড়া ওবিইউ অ্যাকাউন্টে এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমেও অর্থ প্রেরণের সুযোগ রাখা, যাতে গ্রাহক অল্প খরচে তাদের ওবিইউ এফসি অ্যাকাউন্টে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে পারেন, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে গ্রাহক শুধু ব্যাংকের মাধ্যমে এ অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাতে পারেন। এছাড়া রেমিট্যান্স উত্তোলন প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য ব্রাঞ্চে ডেডিকেটেড কাউন্টার, তাৎক্ষণিক অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ডেডিকেটেড হেল্পলাইনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। ফলে গ্রাহকের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা উন্নত হবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অর্থ পাচার। অপরাধীরা অর্থ পাচারের জন্য অবৈধ হুন্ডিকে ব্যবহার করেন। হুন্ডির কারণে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বৈধ চ্যানেল ব্যবহারে প্রণোদনা দেয়া ও ব্যাংকিং সেবা নিয়ে প্রচারণা চালানো দরকার। পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করা উচিত, যাতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা নিরাপদে তাদের পরিবারকে টাকা পাঠাতে পারেন।
বিনিময় হারের অস্থিরতার কারণে ২০২২ ও ২০২৩ সালে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে বর্তমানে বাজারে বিনিময়ের হারের অস্থিরতা অনেকটা কমে এসেছে। আমার বিশ্বাস, সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সঙ্গে বিনিময় হার আগামীতে আরো স্থিতিশীল হয়ে আসবে। এক্ষেত্রে প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।










