২০২৪ সালে রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে ট্রাস্ট ব্যাংক বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে। কীভাবে এ অর্জন সম্ভব হলো?

আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে গত বছর প্রবাসীরা দেশে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। ২০২৪ সালে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৬ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। যেখানে তার আগের বছর ২১ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল। তবে দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির চেয়েও ট্রাস্ট ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধি বেশি ছিল। গত বছর আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা ১ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ।

রেমিট্যান্সের বাজার অংশীদারত্ব আরো বাড়ানোর জন্য আপনাদের পরিকল্পনা কী?

এ অংশীদারত্ব আরো বাড়ানোর জন্য আমাদের নানামুখী পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী দিনে আমরা আমাদের পার্টনার এমটিও ও এক্সচেঞ্জ হাউজের সংখ্যা আরো বাড়াব, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করব এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করব। যাতে তারা ট্রাস্ট ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে আরো উদ্বুদ্ধ হয়।

কোন কোন মানি এক্সচেঞ্জের সঙ্গে আপনাদের চুক্তি রয়েছে?

বর্তমানে আমাদের ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, মানিগ্রাম, মাস্টার কার্ড, রিয়া মানি ট্রান্সফার, টেরাপে, ট্যাপ ট্যাপ সেন্ড ও ন্যাশনাল এক্সচেঞ্জসহ প্রায় ৫০টি মানি এক্সচেঞ্জের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে।

কোন কোন দেশের প্রবাসীরা আপনাদের ব্যাংকের মাধ্যমে বেশি রেমিট্যান্স পাঠান?

সাধারণত ইউএসএ, ইউকে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ইতালি ও মালয়েশিয়ার প্রবাসীরা আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে বেশি রেমিট্যান্স পাঠান।

কেন আপনাদের ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীরা বেশি নিরাপদ মনে করেন?

ট্রাস্ট ব্যাংক আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের একটি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ ব্যাংকের প্রতি জনগণের আস্থা অবিচল। এছাড়া ট্রাস্ট ব্যাংক কখনই তারুল্য সংকটে পড়ে না। আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে গ্রাহক দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, তাই প্রবাসীরা আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

প্রবাসীদের বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন?

সরকার এরই মধ্যে বিমানবন্দরে বিশেষ প্রবাসী লাউঞ্জ নির্মাণসহ বেশকিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে। আশা করি এর সুফল আমরা পাব। বাংলাদেশ এম্বাসির মাধ্যমে প্রবাসীদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে অনুপ্রাণিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। দেশে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রবাসীদের অগ্রাধিকারমূলক সেবাপ্রাপ্তি ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনামূলক পেনশন ব্যবস্থা, তাদের সন্তানদের জন্য সরকারিভাবে শিক্ষার বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্সের অর্থ উত্তোলনে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহক হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। রেমিট্যান্স পাঠানো ও উত্তোলন প্রক্রিয়া আরো সহজতর করতে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া দরকার বলে মনে করেন?

আমাদের ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্সের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকের হয়রানির কোনো অভিযোগ আমরা পায়নি। তবে রেমিট্যান্স প্রেরণ প্রক্রিয়া সহজতর করতে পেমেন্ট সিস্টেমের আধুনিকায়ন জরুরি। ব্যাংকগুলোকে পার্টনার মানি এক্সচেঞ্জের সঙ্গে এপিআই কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করতে হবে। সব ব্যাংককে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচে কানেক্ট করতে হবে এবং এনপিএসবির কার্যকারিতা আরো বাড়াতে হবে। বিকাশ নগদসহ অন্যান্য ওয়ালেটে রেমিট্যান্সের অর্থ জমাকরণ সহজ করতে হবে।

হুন্ডির বাজার নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া দরকার?

হুন্ডির বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে অবৈধ অর্থের উৎস বন্ধ করতে হবে। ওভার ইনভয়েসিং নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। হুন্ডি চ্যানেলের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে এবং শাস্তির আওতায় আনতে হবে। সর্বোপরি প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে হবে।