এনসিসি ব্যাংক বেশ কয়েক বছর ধরে রেমিট্যান্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে শীর্ষ দশ ব্যাংকের মধ্যে অবস্থান করছে। বরাবরের মতো এবারো এক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকার জন্য আমাদের মাধ্যমে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের সম্মিলিত রেমিট্যান্সের প্রায় ৩ শতাংশ। গত দুই-তিন বছর ধরে স্থানীয় বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার স্বল্পতা-পরিস্থিতি যেমন রয়েছে, তেমনি রিজার্ভ বাড়ানোর চাপও রয়েছে। তাই বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম উৎস রেমিট্যান্সের আন্তঃপ্রবাহ বাড়ানোর জন্য আমরা আরো বেশি সচেষ্ট। এক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানি ট্রান্সফার অপারেটরদের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ, বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত ওয়েজ আর্নারদের সঙ্গে গণসংযোগ বাড়ানো, ডিজিটাল প্লাটফর্মে দ্রুত সেবা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য এপিআই নির্ভর লেনদেন বাড়ানোসহ প্রসেস সহজীকরণ এবং সর্বোপরি রেমিট্যান্সের বেনিফিশিয়ারি যারা আছেন তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাসহ তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনভিত্তিক লোন ও ডিপোজিট প্রডাক্ট অফার ইত্যাদি প্রচেষ্টা যেমন আমরা অব্যাহত রেখেছি, তেমনি প্রবাসীদের ও তাদের বেনিফিশিয়ারিদের ফিডব্যাকের ভিত্তিতে সামনের দিনগুলোয় আরো কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

বিশ্বের বড় প্রায় সব মানি এক্সচেঞ্জ হাউজ ও কিছু ব্যাংকসহ বিশ্বব্যাপী ৪৮টি মানি ট্রান্সফার অপারেটরের (এমটিও) সঙ্গে কাজ করছে এনসিসি ব্যাংক। বর্তমানে আমরা মানিগ্রাম পেইমেন্ট ইনকের মাস্টার এজেন্ট হিসেবেও কাজ করছি। ২৮টা কমার্শিয়াল ব্যাংক আমাদের সাব-এজেন্ট, অর্থাৎ তাদের রেমিট্যান্সও আমাদের মাধ্যমে আসে। যেসব দেশে আমাদের ওয়েজ আর্নারস বেশি রয়েছে যেমন সৌদি আবর, ইতালি, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া, মূলত সেসব দেশ থেকে আমাদের মাধ্যমে বেশি রেমিট্যান্স আসে। তবে বর্তমানে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকেও ভালো রেমিট্যান্স পাচ্ছি।

প্রবাসীদের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে তাদের আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ রিটার্ন পাওয়ার নিশ্চয়তা দিতে আমাদের বেশকিছু ডিপোজিট প্রডাক্ট রয়েছে যেমন এনসিসি এনআরবি প্লাস সেভিংস, এনসিসি এনআরবি মিলিয়নারি স্কিম, এনসিসি এনআরবি ডিপোজিট পেনশন স্কিমড, ও এনসিসি এনআরবি স্পেশাল সেভিংস স্কিম। প্রবাসীদের চাহিদা বিবেচনায় এনসিসি ব্যাংকের একটি ঋণ প্রডাক্টও রয়েছে যেমন এনসিসি এনআরবি হোম লোন। শিগগিরই আমরা এনসিসি ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট লোন নামে আরেকটা লোন প্রডাক্ট চালু করতে যাচ্ছি, এ প্রডাক্টর মাধ্যমে প্রবাসে যেতে ইচ্ছুকরা ঋণ নিতে পারবেন।

স্বজনদের কাছে টাকা পাঠাতে প্রবাসীরা এনসিসি ব্যাংককে নিজেদের বিশ্বস্ত সঙ্গি মনে করছেন। কারণ বিগত ৩১ বছরের অপারেশনে সুনামের সঙ্গে গ্রাহকবান্ধব কার্যক্রম চালিয়ে বর্তমানে একটা সুদৃঢ় আর্থিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে আমাদের যেমন গ্রাহকবান্ধব ব্যাংক হিসেবে সুপরিচিতি রয়েছে, তেমনি বৈশ্বিক পর্যায়ে আমাদের বৃহৎ এমটিও নেটওয়ার্ক রয়েছে। উপরন্তু আমরা বিভিন্ন এমটিওর সঙ্গে এপিআই সংযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেন করি। এসব কারণে প্রবাসীদের মাঝে আমাদের দীর্ঘদিনের সুনাম ও নির্ভরযোগ্যতা রয়েছে।

আমি মনে করি, ওয়েজ আর্নার হিসেবে যারা বিদেশে যান তাদের বিদেশে যাওয়ার আগে আর্থিক ও ব্যাংকিং বিষয়াদি নিয়ে শিক্ষার ব্যবস্থা করা, বিশেষ করে বৈধ পথে ও ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো বিষয়ে উৎসাহিত করা দরকার। তাদের এ বিষয়ে সচেতন করা যে ব্যাংকিং চ্যানেলে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ পাঠালে সেটা জাতীয় সঞ্চয় তথা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে, যা তাদের পরিবারের বাইরেও দেশ ও জাতির উপকার হবে। এ বিষয়ে আমাদের সংশ্লিষ্ট দেশের মিশনগুলো নিয়মিতভাবে কাজ করতে পারে, সবসময় প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। মিশনগুলো এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করলে প্রবাসীরা হেল্পলেস বোধ করবে না। এতে তাদের মধ্যেও আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতাও তৈরি হবে না। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারকে স্থিতিশীল রাখা এবং প্রবাসী ও তাদের উপকারভোগীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করার জন্য টেকসই নীতি রাখা গেলে তারাও সবসময় দেশের জন্য কিছু করার তগিদ অনুভব করবে।