কক্সবাজারের মিজানুর রহমান দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকেন। দেশে বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই ও ভাইবৌসহ তার পরিপূর্ণ পরিবার। সংসারের খরচ চালাতে নিয়মিত টাকা পাঠান তিনি। ২০২০ সাল থেকে তিনি বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো শুরু করেন। এই একটি সিদ্ধান্তেই সহজ হয়ে গেছে মিজানুর রহমানের জীবন। বড় এক বিপদের সময়ের কথা বলতে গিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমার মা ক্যান্সারের রোগী ছিলেন। একবার ঢাকায় ডাক্তারের কাছে তাকে নিয়ে আসা হয়। সে সময় তাৎক্ষণিক বেশকিছু টাকার প্রয়োজন হয়। আমি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দিই। কয়েক মিনিটের মধ্যে আমার বাবা-ভাইয়ের কাছে মায়ের চিকিৎসার টাকা চলে আসে। এটা যে আমার কাছে কী রকম মানসিক প্রশান্তির ছিল কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। আমার মতো এমন অনেকেই পরিবারের পাশে থাকতে পেরেছেন বিকাশের রেমিট্যান্স সেবার মাধ্যমে।’

মিজানুর আরো বলেন, ‘‌বাবাকে টাকা পাঠাতে চাইলে বাবার বিকাশে, ভাইকে পাঠাতে চাইলে ভাইয়ের বিকাশ অ্যাকাউন্টে আবার স্ত্রীকে পাঠাতে চাইলে তার বিকাশ অ্যাকাউন্টেই টাকা পাঠাতে পারি। ওদের জন্যই এত কষ্ট করে বিদেশে আছি। ওদের যখন দরকার ঠিক তখনই পাশে থাকতে পেরে দূরে থেকেও কিছুটা স্বস্তি মেলে।’

বিকাশের রেমিট্যান্সের মাধ্যমে ঘরে বসেই এখন দূরদূরান্তের টাকা পাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। বাবা-মাকে ছেলেমেয়েরা প্রবাস থেকে টাকা পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারেন যে এ টাকা উত্তোলন করতে বাবা-মাকে ঘর থেকে বের হয়ে খুব দূরে যেতে হবে না। কাছের কোনো দোকান থেকেই তারা টাকাটা তুলতে পারেন।

তেমনই একজন মা ফারহানা আক্তার ডলি। তার তিন ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে কানাডা থাকেন। মা ফারহানা আক্তার দেশে একটি স্কুল পরিচালনা করেন বলে সে স্কুলের জন্য ছেলে বিদেশ থেকে নিয়মিত টাকা পাঠান। স্কুলের নানা খরচের জন্য এ টাকা বিকাশের মাধ্যমেই তার মা পেয়ে যান। ফারহানা আক্তার ডলি বলেন, ‘দেশের বাইরে থেকে ছেলেমেয়েরা টাকা পাঠায় স্কুলের খরচ কিংবা গ্রামের বাড়িতে নানা স্থাপনা তৈরি করার জন্য। বিকাশ এ রেমিট্যান্স সেবা চালু করার পর মনে হলো জীবনের অনেক হাঙ্গামা কমে গেল। কী সুন্দর ঘরে বসেই ছেলের রেমিট্যান্সের টাকা আমি স্কুলের লোকদের, বাড়িতে আত্মীয়স্বজনকে পাঠাতে পারি। বিকাশ রেমিট্যান্সের মাধ্যমে প্রবাসীদের পরিজনদের জীবন সহজ হয়ে গেছে অনেক।’

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাদাতের মায়ের গল্পটাও প্রায় একই রকম। মা কোথাও না গিয়ে যখন যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু টাকাই তুলতে পারবেন বিকাশ দিয়ে। তাই মায়ের জন্য সবচেয়ে সহজে টাকা পৌঁছে দিতে বিকাশেই রেমিট্যান্স পাঠান সাদাত।

চোখে আনন্দের অশ্রু নিয়ে সাদাতের মা বনানীর বাসিন্দা শাহনাজ হাবিব বলেন, ‘হুট করে আমার বিকাশে একটা বড় অংকের টাকা আসে। আমি ভেবেছি আমার ছেলে হয়তো কোথাও খরচ করা বাবদ এ টাকা পাঠিয়েছে। কিছুক্ষণ পর ফোন করে ছেলে আমাকে জানায় এ টাকা শুধু সে আমার জন্য পাঠিয়েছে। আমার যা মন চায় তাই যেন করি। কাউকে দান কিংবা কোনো কিছু কেনার জন্য নয়। একদম আমার জন্য টাকা, মন যা চায় তাতেই খরচ করতে হবে। এত টাকা আমি কী করব? কিন্তু ছেলে অনুরোধ করে এটা যেন আমি শুধু আমার নিজের জন্যই খরচ করি। এটা যে কী আনন্দের তা বলে বোঝানো যাবে না। এ আনন্দ আর আমার ছেলের ভালোবাসা আমার কাছে পৌঁছেছে বিকাশের মাধ্যমে। বিকাশ আমার জীবন সহজ করেছে আর এখন আনন্দিত করল।’

দূরদেশে থেকে পরিবারের পাশে তাৎক্ষণিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে এমন প্রশান্তিতে আছেন এখন অনেক প্রবাসীই। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীরা বৈধ প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে শীর্ষ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠান বিকাশের মাধ্যমে প্রিয়জনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে খুব সহজেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন টাকা।

প্রবাসীদের কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স সহজে বৈধপথে প্রিয়জনের কাছে সরাসরি পৌঁছে দিতে এমএফএসের সবচেয়ে বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে বিকাশ। এখন ১৪০টিরও বেশি দেশ থেকে ১১০টি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরের (এমটিও) মাধ্যমে দেশের ২৫টি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকে সেটেলমেন্ট হয়ে নিমেষেই রেমিট্যান্স পৌঁছে যাচ্ছে প্রবাসীর প্রিয়জনের অ্যাকাউন্টে। এ অনন্য সুবিধার কারণেই দেশে থাকা প্রিয়জনদের ৪০ লাখেরও বেশি বিকাশ অ্যাকাউন্টে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

বিদেশ থেকে খুব সহজে, তাৎক্ষণিকভাবে, নিরাপদে ব্যাংকিং চ্যানেল হয়ে প্রিয়জনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে রেমিটেন্স অনায়াসে পাঠাতে পারছেন প্রবাসীরা। যখন প্রয়োজন তখনই প্রিয়জনের পাশে থাকার এই সুবিধার কারণে বিকাশের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠানোর সেবার জনপ্রিয়তা বাড়ছে প্রতিনিয়তই।

দেশে থাকা প্রিয়জনদের ৪০ লাখেরও বেশি বিকাশ অ্যাকাউন্টে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ২০২৩-এর তুলনায় ২০২৪-এ বিকাশের মাধ্যমে ৬৫ শতাংশ বেশি রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রেখেছে।