দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসাবে এবি ব্যাংক দক্ষ ব্যাংকার তৈরি ও ব্যাংকিং সেবার আধুনিকায়নে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখে চলছে। ২০২৪ সালও তার ব্যতিক্রম ছিল না। গত বছর প্রবাসীরা মোট রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় দেড় শতাংশ এবি ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে পাঠিয়েছেন। তবে আমরা এ অর্জন নিয়ে মোটেই তৃপ্ত নই। এরই মধ্যে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং সেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি ডেডিকেটেড টিম গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানোর জন্য ব্যাংক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তারই অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশে রেমিট্যান্স অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স বেনিফিশিয়ারি গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধির জন্যও গ্রাহকের পছন্দনীয় আমানত ও ঋণপণ্য নিয়ে এসেছে।
বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের ১৯টি এক্সচেঞ্জ হাউজ এবং দুটি ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের রেমিট্যান্স চুক্তি রয়েছে। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশীরা পৃথিবীর সব দেশ থেকে সহজেই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন। তবে অংশীজনের সঙ্গে চুক্তির এ আওতা আরো বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রধান শ্রমবাজারের প্রায় সবকটি দেশ থেকেই আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। তার মধ্যে আমেরিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, সৌদি আরব, ইতালি, ফ্রান্স ও মালয়েশিয়া থেকে বেশিরভাগ রেমিট্যান্স আসে।
প্রবাসীদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে এবি ব্যাংক তাদের জন্যে বিভিন্ন ধরনের আমানত ও ঋণ-প্রডাক্ট চালু করেছে। এগুলোর মধ্যে আমানত প্রডাক্ট হিসেবে ‘এবি জন্মভূমি’ এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্যে ‘এবি ফ্রিল্যান্সার’ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও, এবি ব্যাংকে ঋণ-প্রডাক্ট নিয়ে আসার কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে।
দেশজুড়ে বিদ্যমান আমাদের নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন থেকেই অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে চার দশকের বেশি সময় ধরে এবি ব্যাংক কাজ করে আসছে। সেই সঙ্গে শাখাগুলোয় ওয়ান স্টপ সার্ভিস এবং রিয়েল টাইম পেমেন্ট সার্ভিস প্রদান চালু আছে। এছাড়া গ্রাহকদের জন্য কল সেন্টারের মাধ্যমে ২৪/৭ ঘণ্টা সার্ভিস প্রদান করা হয়, যা গ্রাহকদের বিশেষ পছন্দের।
তবে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করতে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে আরো কিছু উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি। এক্ষেত্রে প্রথমেই অন্তর্মুখী রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বৃদ্ধির কথা বলা যেতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে বিদেশে কর্মরত সব অভিবাসীর তথ্য সংরক্ষণ এবং বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে তাদের উৎসাহিত করার জন্যে যোগাযোগ বাড়ানোও দরকার।
দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখার প্রধান অন্তরায় হলো হুন্ডি। সরকারকে অবশ্যই অবৈধ হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রেরণের চার্জ সরকার কর্তৃক বহন এবং প্রায়োরিটি কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্স গ্রহীতার মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে দরকার অভিবাসী শ্রমিকদের বৈধভাবে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে সচেতন করা। উন্মুক্ত বিনিময় হার প্রচলনের পাশাপাশি দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা দরকার। তাহলে ২০২৪ সালের ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো বড় উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে।










