বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুতবর্ধনশীল মেগা সিটিগুলোর মধ্যে অন্যতম। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং আবাসন ও পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে শহরটি তীব্র যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যা এবং জনসেবার ওপর অত্যধিক চাপের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। ঢাকাকে আরো দক্ষ, টেকসই, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ‘স্মার্ট সিটি’ বা স্মার্ট নগরী হিসেবে উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
একটি স্মার্ট সিটি নাগরিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত এবং কার্যকর নগর পরিকল্পনা ব্যবহার করে। ঢাকার ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা, ডিজিটাল জনসেবা, স্মার্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার, উন্নত পানি ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং পরিবেশের ওপর উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন।
স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থা
স্মার্ট সিটি উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত হলো পরিবহন ব্যবস্থা। ঢাকা তীব্র যানজটের সমস্যায় জর্জরিত, সড়ক নিরাপত্তার অভাব এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা; যার ফলে সময় ও জ্বালানির অপচয় হয় এবং দূষণ বৃদ্ধি পায়। ঢাকা মেট্রোরেলসহ গণপরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ব্যক্তিগত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, তাৎক্ষণিক বা রিয়েলটাইম ট্রাফিক তথ্য, ডিজিটাল পার্কিং ব্যবস্থা এবং বাস, রেলওয়ে ও অন্যান্য পরিবহন মাধ্যমের মধ্যে উন্নত সমন্বয় শহরের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করতে পারে।
স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন শহরের যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে সহায়তা করতে পারে। গণপরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্প, এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। একটি সমন্বিত ও বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেট্রোরেলের সঙ্গে বাস, হাঁটার পথ, সাইকেল চালানোর অবকাঠামো এবং অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপন করা প্রয়োজন।
প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবহন নেটওয়ার্ককে আরো দক্ষ করে তোলা সম্ভব। ‘ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিগন্যাল’ বা বুদ্ধিমান ট্রাফিক সংকেত ব্যবস্থা তাৎক্ষণিক যানজটের পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে পারে; অন্যদিকে জিপিএস-ভিত্তিক বাস ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে যাত্রীরা গাড়ির অবস্থান ও গন্তব্যে পৌঁছার সম্ভাব্য সময় জানতে পারেন। এছাড়া সমন্বিত ইলেকট্রনিক টিকেটিং ব্যবস্থা চালু হলে যাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের পরিবহনের জন্য একটিমাত্র পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করার সুবিধা পাবেন।
ঢাকার বেশির ভাগ মানুষই হেঁটে চলাচল করে। সেই ঢাকাকে পথচারী ও সাইকেলবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। মানসম্মত ফুটপাত, নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা, সাইকেল লেন এবং উন্নত সড়ক নকশা মানুষকে ব্যক্তিগত গাড়ি ছাড়া স্বল্প দূরত্বে যাতায়াতে উৎসাহিত করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বৈদ্যুতিক বাস এবং কম নিঃসরণকারী অন্যান্য যানবাহন বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাসে সহায়তা করতে পারে। তাই স্মার্ট পরিবহন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কেবল অধিকসংখ্যক যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করা নয়, বরং মানুষকে নিরাপদ, দক্ষ, সাশ্রয়ী ও টেকসই উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া।
স্মার্ট ও সাশ্রয়ী আবাসন
ঢাকায় সাশ্রয়ী আবাসন অন্যতম জরুরি একটি প্রয়োজন। জমি ও আবাসনের দাম দ্রুত বৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য উপযুক্ত বাসস্থান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সাশ্রয়ী নির্মাণপদ্ধতি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, জ্বালানি দক্ষতা এবং জমির সুষ্ঠু ব্যবহারের সমন্বয়ে ‘স্মার্ট ও সাশ্রয়ী আবাসন’ ব্যবস্থা এ সমস্যার সমাধান করতে পারে।
ভবিষ্যতের আবাসন প্রকল্পগুলোতে নির্মাণ সময় ও খরচ কমাতে প্রি-ফ্যাব্রিকেটেড (কারখানায় আগে থেকে তৈরি অংশ) ও মডুলার নির্মাণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। ভবনগুলোতে জ্বালানিসাশ্রয়ী আলোক ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক বাতাস চলাচলের সুবিধা, ছাদের ওপর সোলার প্যানেল, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং স্মার্ট পানি ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে বাসিন্দারা আবাসনসংক্রান্ত তথ্য জানা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যার কথা জানানো এবং কমিউনিটি বা সমষ্টিগত সেবা ব্যবস্থাপনার সুবিধা পেতে পারেন।
উচ্চ ঘনত্বের অথচ সুপরিকল্পিত আবাসিক উন্নয়ন ঢাকার সীমিত ভূমির ওপর চাপ কমাতে পারে। সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন কোনো এলাকায় না করে কর্মসংস্থান কেন্দ্র ও গণপরিবহন ব্যবস্থার (ট্রানজিটভিত্তিক উন্নয়ন) কাছাকাছি গড়ে তোলা উচিত। ফলে যাতায়াত খরচ কমবে এবং স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, বাজার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার প্রাপ্যতা সহজতর হবে।
সুতরাং স্মার্ট ও সাশ্রয়ী আবাসনের সাফল্য কেবল কম খরচে বাড়ি তৈরির ওপরই নির্ভর করে না, বরং এর জন্য প্রয়োজন নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশগতভাবে ব্লক বেজড টেকসই কমিউনিটি বা আবাসন এলাকা গড়ে তোলা।
স্মার্ট এনার্জি
ঢাকার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও সম্প্রসারিত অর্থনীতির ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে হচ্ছে এবং শক্তি বা জ্বালানির আরো দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হচ্ছে।
স্মার্ট এনার্জি বা বুদ্ধিদীপ্ত জ্বালানি ব্যবস্থা ঢাকাকে এ ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে সহায়তা করতে পারে। স্মার্ট মিটার গ্রাহক ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে তাৎক্ষণিক (রিয়েল টাইম) তথ্য প্রদান করতে পারে, যার ফলে অপচয় শনাক্ত করা ও চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। স্মার্ট গ্রিড বিদ্যুৎ বিতরণের নির্ভরযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে এবং শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য শক্তিকে যুক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
সৌরশক্তির ক্ষেত্রে বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। আবাসিক ভবন, অফিস, স্কুল, কারখানা এবং সরকারি স্থাপনার ছাদ সৌরবিদ্যুৎ বা ফটোভোল্টাইক ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। উপযুক্ত স্থানগুলোতে সৌরচালিত সড়কবাতি ব্যবহারের মাধ্যমেও বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব। এলইডি লাইটিং, উন্নত মানের কুলিং সিস্টেম, তাপ নিরোধক ব্যবস্থা (ইনসুলেশন) এবং প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের সুবিধাযুক্ত জ্বালানিসাশ্রয়ী ভবন নির্মাণের মাধ্যমেও শক্তির ব্যবহার আরো কমানো যেতে পারে। এ লক্ষ্যে বর্তমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, ফলে বৈদ্যুতিক যানবাহন পরিবহন ও জ্বালানি ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। আংশিকভাবে নবায়নযোগ্য শক্তিচালিত চার্জিং স্টেশনগুলো ঢাকার পরিবহন খাতের পর্যায়ক্রমিক বৈদ্যুতিকীকরণে সহায়তা করতে পারে। ভবিষ্যতে উন্নত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা বিদ্যুৎ উৎপাদন, সংরক্ষণ, যানবাহনের চার্জিং এবং গৃহস্থালি ব্যবহারের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম হবে।
স্মার্ট সবুজ আবাসন (গ্রিন বিল্ডিং)
স্বল্প কার্বন নিঃসরণকারী পরিবেশবান্ধব ভবন (গ্রিন বিল্ডিং) এমনভাবে নকশা ও নির্মাণ করা হয়, যাতে এর পুরো জীবনচক্র জুড়ে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব সর্বনিম্ন রাখা যায়। এ ধরনের ভবন কম শক্তি ও পানি ব্যবহার করে, গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমায়, নির্মাণসামগ্রীর দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করে এবং ভবনের ভেতরে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তোলে। ঢাকার প্রেক্ষাপটে যেখানে শীতলীকরণের চাহিদা, বিদ্যুৎ ব্যবহার, বায়ুদূষণ এবং শহরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা ‘আরবান হিট’ একটি বড় উদ্বেগের বিষয়; সেখানে টেকসই নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব ভবন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রতি বছর রাজউকের আওতাধীন এলাকায় প্রায় ১০ হাজার ভবনের নকশা অনুমোদন দেয়া হয়। ওই ভবনগুলোর মধ্য ১০ শতাংশ ভবনও যদি গ্রিন বিল্ডিং নির্মাণ করা হয়, তা সবুজ আবাসন নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ঢাকায় কম কার্বন নিঃসরণকারী পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন বিল্ডিং’ নির্মাণের ক্ষেত্রে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রচলিত নির্মাণ পদ্ধতির তুলনায় জ্বালানিসাশ্রয়ী প্রযুক্তির প্রাথমিক খরচ বেশি হতে পারে। এছাড়া ডেভেলপার, ভবন মালিক এবং ভোক্তাদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতারও কিছুটা অভাব রয়েছে। দক্ষ পেশাজীবী তৈরি এবং ছাড় প্রণোদনাসহ নিম্ন সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে এ খাতকে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত বিধিমালার দুর্বল প্রয়োগ, কারিগরি সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, অর্থায়ন ব্যবস্থার অভাব এবং পুরনো ভবনগুলোকে পরিবেশবান্ধব কাঠামোয় রূপান্তরের (রেট্রোফিটিং) ক্ষেত্রে জটিলতা। তাই পরিবেশবান্ধব নির্মাণ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারি নীতিমালা ও আর্থিক প্রণোদনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজিটাল শাসন ব্যবস্থা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। নাগরিকদের অপ্রয়োজনে সরকারি অফিসে না গিয়েই অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। বিল পরিশোধ, সনদ সংগ্রহ, অভিযোগ দাখিল এবং সরকারি তথ্য পাওয়ার ডিজিটাল ব্যবস্থা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে ও স্বচ্ছতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া উন্মুক্ত তথ্যভাণ্ডার (ওপেন ডেটা) ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা শহরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের আরো বেশি অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে পারে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্যও ঢাকার স্মার্ট সমাধানের প্রয়োজন। সেন্সর ও জিপিএস-ভিত্তিক ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে এবং বর্জ্য জমে থাকা এলাকাগুলো শনাক্ত করতে সহায়তা করতে পারে। স্মার্ট মনিটরিং স্টেশনগুলো বায়ুর গুণমান, শব্দদূষণ ও পানির গুণমান সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করতে সক্ষম। ঢাকাকে পরিবেশগতভাবে আরো টেকসই করে তোলার জন্য সবুজ এলাকা বৃদ্ধি, জলাভূমি সংরক্ষণ, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নও অপরিহার্য। বর্জ্যকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত না করে সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। বর্জ্য থেকে জৈব সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সরকার মুনাফা অর্জন করতে পারে।
স্মার্ট পানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভারী বৃষ্টিপাতের সময় ঢাকায় প্রায়ই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আধুনিক নিষ্কাশন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, ডিজিটাল ম্যাপিং ও তাৎক্ষণিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। স্মার্ট অবকাঠামো শহরটিকে অগ্নিকাণ্ড, দুর্ঘটনা ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে আরো কার্যকরভাবে সাড়া দিতেও সহায়তা করতে পারে।
ঢাকার সম্ভাবনা
সাশ্রয়ী স্মার্ট আবাসন, স্মার্ট পরিবহন ও স্মার্ট জ্বালানি ব্যবস্থার সমন্বয় ঢাকার জন্য নগর উন্নয়নের একটি অধিকতর সমন্বিত মডেল তৈরি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ গণপরিবহন কেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি নতুন সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে ছাদের ওপর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী ভবনের সুবিধা থাকবে। ফলে বাসিন্দারা একই নগর কাঠামোর মধ্যে সাশ্রয়ী বাসস্থান, গণপরিবহন এবং কম খরচে জ্বালানি ব্যবহারের সুবিধা পাবেন।
তবে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। সরকারি সংস্থা, বেসরকারি আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, ইউটিলিটি কোম্পানি, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একত্রে কাজ করতে হবে। শক্তিশালী নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামোতে বিনিয়োগ, উপযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত এবং জনগণের অংশগ্রহণ এক্ষেত্রে অপরিহার্য হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঢাকার স্মার্ট সিটি বা স্মার্ট নগরী উন্নয়ন কার্যক্রম প্রযুক্তিকেন্দ্রিক না হয়ে বরং জনকেন্দ্রিক হওয়া উচিত। নতুন প্রযুক্তির লক্ষ্য হওয়া উচিত সাশ্রয়ীতা, সহজলভ্যতা, নিরাপত্তা, পরিবেশের মান এবং জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন। শুধু শহরকে প্রযুক্তিগতভাবে আরো উন্নত করা নয়।
তবে ঢাকাকে স্মার্ট শহরে রূপান্তর করা সহজ কাজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিপুল বিনিয়োগ, সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা, নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো, দক্ষ জনবল এবং শক্তিশালী আইন ও বিধিমালা। পাশাপাশি এটি নিশ্চিত করাও জরুরি যে স্মার্ট শহরের সেবাগুলো যেন সব আর্থসামাজিক শ্রেণীর মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হয়।










