ঘরের আলমারি, রান্নাঘরের কেবিনেট কিংবা দেয়ালের প্যানেল—আসবাব এবং ঘরের সাজসজ্জার কথা উঠলে কাঠের ব্যবহার ছিল দীর্ঘদিনের পরিচিত বাস্তবতা। তবে সময়ের সঙ্গে সে জায়গায় এসেছে পরিবর্তন ও আধুনিকতা। কেননা টেকসই নগরায়ণ ও স্মার্ট আবাসনের ধারণা এখন আর কেবল বাহ্যিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি গৃহসজ্জা ও কাঠামোগত উপকরণের টেকসই ব্যবহারের ওপরও গভীরভাবে নির্ভরশীল। বর্তমানে কাঠের পাশাপাশি ইন্টেরিয়রের কাজে ব্যবহার হচ্ছে নানা ধরনের বোর্ড। কাঠের পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে আকিজ বোর্ড বিভিন্ন ইনোভেটিভ সারফেস সলিউশন দিয়ে দেশের আধুনিক স্থাপত্য ও ইন্টেরিয়র খাতকে এক নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। কাঠের কণিকা বা তন্তু, রেজিন ও বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি এ বোর্ড আসবাবের গঠনশৈলী বদলানোর পাশাপাশি ঘরের রঙ, টেক্সচার ও ডিজাইনের সম্ভাবনাকে পৌঁছে দিয়েছে এক নতুন উচ্চতায়।
বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ধরনের বোর্ড সরবরাহ করছে আকিজ বোর্ড। বিশ্বমানের কাঁচামাল ও জার্মানির সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় পার্টিকেল বোর্ড প্রস্তুতকারক ও পরিবেশক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত ‘আকিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলে’ স্থাপিত এপিবিএমএলের কারখানাটি দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ ঘনমিটার পার্টিকেল উৎপাদন করে, যা বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ এবং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বোর্ড উৎপাদন সক্ষমতা।
টেকসই নগরায়ণের মূল ভিত্তি পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন। এ ভাবনাকে সামনে রেখেই পরিবেশ সুরক্ষা ও বিশ্বমানের মানদণ্ড বজায় রাখতে এপিবিএমএল গড়ে তুলেছে দেশের একমাত্র নিজস্ব আঠা (গ্লু) তৈরির প্লান্ট। এখান থেকে উৎপাদিত ইউরিয়া ফর্মালডিহাইড আঠা বোর্ড থেকে ক্ষতিকারক ফর্মালডিহাইডের নিঃসরণ ন্যূনতম মাত্রায় রাখতে সাহায্য করে।
ব্যবহারের স্থান ও প্রয়োজন অনুযায়ী আকিজ বোর্ডের পণ্যতালিকায় রয়েছে বহুমুখী বৈচিত্র্য। এর মধ্যে রয়েছে প্লেইন পার্টিকেল বোর্ড, এমডিএফ বোর্ড, প্লাইউড, ডিপ এমবসড বোর্ড ফাইবার সিমেন্ট বোর্ড, জুট বোর্ড, মেলামাইন বোর্ড, ভিনিয়ার্ড বোর্ড। এছাড়া লুমিনো ব্র্যান্ডে আকিজ বোর্ড বেশকিছু ইনোভেটিভ সারফেস সলিউশন বাজারজাত করছে, যেমন হাই গ্লস ইউভি বোর্ড, আল্টিমেট ইউভি বোর্ড, সিনক্রো মেলামাইন বোর্ড, পেট-জি বোর্ড, অ্যাক্রিলিক বোর্ড, গ্লাস অ্যাক্রিলিক বোর্ড, এইচপিএল বোর্ড।
সাধারণ ফার্নিচার ও ইন্টেরিয়রের কাজে ব্যবহার হয় এ বোর্ডগুলো। এছাড়া আর্দ্রতাপ্রবণ জায়গার জন্য রয়েছে এইচএমআর বা হাই ময়েশ্চার রেজিস্ট্যান্ট বোর্ড, যা মূলত রান্নাঘরের কেবিনেট, বাথরুম ভ্যানিটি, লন্ড্রি কেবিনেট ও শেলফের মতো জায়গায় ব্যবহার করা যায়।
আবার কাঠের স্বাভাবিক চেহারা ইন্টেরিয়রে রাখতে চাইলে ব্যবহার করা হয় ভিনিয়ার্ড বোর্ড। এটি অনেকটাই কাঠের মতো একটি আবহ তৈরি করে।
বাংলাদেশে প্রথম আকিজ বোর্ড নিয়ে এসেছে সিনক্রো মেলামাইন বোর্ড।
একমাত্র আকিজ বোর্ড-ই প্রিমিয়াম সারফেস সলিউশন সিনক্রো মেলামাইন বোর্ড লুমিনো ব্র্যান্ডে বাজারজাত করছে। যেখানে টেক্সচার ও ডিজাইন নিখুঁতভাবে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুত করা হয়। ফলে বোর্ডের কাঠের নকশা যেমন দেখা যায়, স্পর্শেও তেমনই প্রাকৃতিক অনুভূতি মেলে। এ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বোর্ডকে দেয় বাস্তব কাঠের মতো লুক, হ্যান্ড-ফিল ও উন্নত ফিনিশিং।
হাই গ্লস ইউভি বোর্ড হলো একটি প্রিমিয়াম ডেকোরেটিভ বোর্ড, যার ওপরের সারফেসে ইউভি (আল্ট্রাভায়োলেট) থার্মাল সেটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অতিরিক্ত গ্লসি ও মিরর-লাইক ফিনিশ তৈরি করা হয়। এ বোর্ড দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও এর রঙের উজ্জ্বলতা ও শাইন বজায় রাখতে সক্ষম। সাধারণ ঘরের আলো ও প্রাকৃতিক আলোর পরিবেশে প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত রঙ ফেড হওয়া বা শাইনের পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া সরাসরি সূর্যের আলো বা অতিরিক্ত শক্তিশালী লাইটের নিচেও প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত এর রঙ ও গ্লস স্থিতিশীল থাকে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি একই রকম প্রিমিয়াম ও আকর্ষণীয় লুক বজায় রাখতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশের এইচপিএল বাজারে অনন্যভাবে আকিজ বোর্ড দিচ্ছে সামনের ও পেছনের একই রঙের ফিনিশ (সেম কালার ব্যাকার/লাইনার), যা একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অ্যাপ্লিকেশন প্রক্রিয়ায় এইচপিএল সারফেস এবং কোর বোর্ডের মাঝে দৃঢ় ও অভিন্ন বন্ধন তৈরি হয়, ফলে কোনো ফাঁকফোকর বা বাতাস ঢোকার সুযোগ থাকে না। ফলে লুমিনো এইচপিএল বোর্ডের টেকসইতা ও গুণগত মান ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায় তৈরি এইচপিএল বোর্ডের তুলনায় অনেক বেশি।
আকিজ পার্টিকেল বোর্ড উৎপাদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো ‘ফ্লেকিং’, যেখানে কাঠের টুকরো নিখুঁতভাবে কেটে প্রয়োজনীয় পুরুত্বের ফ্লেক তৈরি করা হয়। ফলে বোর্ডের কাঙ্ক্ষিত স্থায়িত্ব ও চমৎকার যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে এমডিএফ বা মিডিয়াম ডেনসিটি ফাইবার বোর্ড তৈরি হয় কাঠের তন্তু, ওয়্যাক্স ও রেজিন বিন্ডার দিয়ে, যা উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে নির্দিষ্ট ঘনত্ব বজায় রাখে।
বোর্ডের ব্যবহার বদলের সঙ্গে বদলেছে এর চেহারাও। কাঠের প্রাকৃতিক রঙের পাশাপাশি বিভিন্ন মার্বেল, কালো, সাদা, হলুদ, কমলার মতো রঙও রয়েছে এতে। এছাড়া আমেরিকান টিক, বার্মা টিক, হাভানা ওক, রেড ওক, ওয়ালনাট ও চেরি কাঠের অনুকরণে তৈরি শেডও পাওয়া যায়।
প্রস্তুতকৃত বোর্ড কাঠের জায়গা পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে বিষয়টি এমন নয়, বরং প্রয়োজন অনুযায়ী উপকরণ বেছে নেয়ার সুযোগ বাড়িয়েছে। ঘরের আসবাব, কিচেন কেবিনেট, দেয়াল প্যানেলিং কিংবা পার্টিশনের মতো বিভিন্ন কাজে বর্তমানে বোর্ডের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। পরিবেশবান্ধব আকিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিশাল সক্ষমতায় উৎপাদিত এ বোর্ড কাঠের বিকল্প হিসেবে বনজ সম্পদ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ফলে আধুনিক স্থাপত্য ও নির্মাণ খাতে কাঠের বিকল্প হিসেবে এসব উপকরণের ব্যবহার এখন শিল্প খাতের একটি প্রধান ধারায় পরিণত হয়েছে।










