এ উদ্যোগের ফলে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাঠ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে শুকানো সম্ভব হবে যা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, ব্যাটের গুণগত মান উন্নয়ন এবং উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নবনির্মিত সোলার কিলনে সূর্যের তাপকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মাধ্যমে কাঠ শুকানো হবে। ফলে কাঠে ফাটল, বাঁকানো কিংবা ছত্রাক আক্রমণের ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে জ্বালানি খরচ ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাওয়ায় এটি একটি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে যা এ খাতের উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সোলার কিলনটি নির্মাণ করা হচ্ছে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সার্বক্ষণিক পরামর্শে।

নরেন্দ্রপুর ক্রিকেট ব্যাট ক্লাস্টারটি যশোর জেলাধীন ১৪ নং নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন এর ৮/১০টি গ্রামের উদ্যোক্তা নিয়ে গঠিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগে থেকেই এখানে মানুষ ক্রিকেট ব্যাট তৈরির সঙ্গে যুক্ত। তারও অনেক আগে থেকেই এসব গ্রামের মানুষজন কাঠের তৈরি গরুর গাড়ির চাকা, কাঠের ইলেকট্রিক বোর্ড, লাটিম, বেলন, দাঁড়িপাল্লা ও আসবাবপত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমানে পার্শ্ববর্তী এলাকা বলরামপুর ও রুদ্রপুরসহ ক্লাস্টারটিতে ব্যাট তৈরির প্রায় ৭০টি কারখানা রয়েছে। যেখানে নারী-পুরুষসহ ৫৫০-৬০০ জন কর্মী ব্যাট তৈরির সঙ্গে জড়িত। ক্লাস্টারটিতে বার্ষিক লেনদেন ৪৫-৫০ কোটি টাকা। ক্লাস্টারটির উৎপাদন প্রক্রিয়ার মূল উপকরণ হলো বিভিন্ন গাছের কাঠ, যার মধ্যে তুলনামূলক হালকা কদম, আমড়া, জীবন, নিম ও কড়ই ইত্যাদি প্রধান। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ব্যাট তৈরিতে ব্যবহৃত মৌলিক যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক স’, ম্যানুয়াল ফাইল, উড রাইটার, ম্যানুয়াল প্ল্যানার, হাতুড়ি ইত্যাদি।

নরেন্দ্রপুর ক্রিকেট ব্যাট ক্লাস্টারটি বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় গ্রামীণ শিল্প ক্লাস্টার হিসেবে বিকশিত হচ্ছে। এখানে উৎপাদিত ক্রিকেট ব্যাট সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হচ্ছে, পাশাপাশি বিদেশেও রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এ শিল্পের অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল কাঠ সঠিকভাবে ও মানসম্মতভাবে শুকানোর অভাব। বর্ষাকালে উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়তেন কাঠ শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত সূর্যের আলো না পাওয়ায়। ফলে তাদের বর্ষাকালের প্রস্তুতি হিসেবে কাঠ স্টক করে রাখতে হতো। এর ফলে কাঠের পচন ও ছত্রাক আক্রমণজনিত অপচয় রোধ করা সম্ভব হতো না।

কাঠ ভালোভাবে সিজনড না হওয়ায় পণ্যের পাইকারি ডেলিভারি-পরবর্তী প্রায় ২০ শতাংশ ব্যাট বিভিন্ন ত্রুটি বা অভিযোগসহ (রিপোর্টিং পণ্য) ফেরত আসে, যার মূল্য পাইকাররা পরিশোধ করেন না। ব্যাটে ব্যবহৃত এসব কাঠ যদি সঠিকভাবে ও মানসম্মতভাবে শুকানো (সিজনিং) হয় তবে বিক্রয়-পরবর্তী ‘রিপোর্টিং পণ্য’-এর শতাংশ কমে আসবে। এর ফলে পুরো ক্লাস্টারে ব্যাপক পরিমাণে অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।

সোলার কিলন কী? সোলার কিলন হলো একটি আধুনিক কাঠ শুকানোর প্রযুক্তি, যেখানে সূর্যের তাপশক্তি ব্যবহার করে কাঠ নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় নিয়ন্ত্রিতভাবে শুকানো হয়। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং কম খরচে পরিচালনা যোগ্য। বিশ্বব্যাপী এটি একটি জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি।