তুলনামূলক স্বল্প বিনিয়োগে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতার কারণে এ খাত জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে দেশের শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশই এমএসএমই খাতের মাধ্যমে সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষ, অর্ধদক্ষ ও অদক্ষ শ্রমশক্তির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিএমএসএমই খাতে অর্থায়ন করে আসছে। বর্তমানে ব্যাংকটির ১৫৩টি শাখা, ৫২টি উপশাখা এবং ১৮৯টি এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ এসএমই কর্মীবাহিনী দেশব্যাপী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবা প্রদান করছে। গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী ১০টি, পৃথক ঋণপণ্য চালু রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পাদিত বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন চুক্তির আওতায় সহজ শর্তে অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ব্যাংকটি ক্লাস্টারভিত্তিক অর্থায়ন, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা অর্থায়ন এবং পর্যাপ্ত জামানত নেই, এমন গ্রাহকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট গ্যারান্টি বিভাগের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ঋণ বিতরণ করছে। সিএমএসএমই অর্থায়নকে আরো সহজ ও দ্রুত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়াও বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নে মার্কেন্টাইল ব্যাংক বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘অনন্যা’ নামে একটি বিশেষ ঋণপণ্য চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য রয়েছে ‘উদয়ন’ নামে পৃথক ঋণপণ্য। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এসআইসিআইপি প্রকল্পের আওতায় খুলনা ও নারায়ণগঞ্জে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে এরই মধ্যে ৭৫ জন উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন সহায়তা দেয়া হয়েছে। আগামী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রামে নতুন প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হবে।
বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সময়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল ঋণ বিতরণকারী নয়, বরং উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারে। মূলধন সরবরাহের পাশাপাশি তথ্য সহায়তা, প্রশিক্ষণ, পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার সম্প্রসারণ এবং জামানতবিহীন ঋণ প্রদান কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদেরও ঋণ পরিশোধে দায়িত্বশীল হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অর্থায়ন প্রাপ্তি সহজ হয়।
অধিকাংশ সিএমএসএমই উদ্যোক্তা মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান করায় তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ডিজিটাল প্লাটফর্ম অপরিহার্য। তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে অর্থায়ন আরো সহজ ও কার্যকর হবে। এক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম ও প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নেও মার্কেন্টাইল ব্যাংক সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আটটি অংশগ্রহণমূলক চুক্তির আওতায় গ্রাহককে সর্বনিম্ন ৪ শতাংশ সুদে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি নতুন পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এমএসএমই খাতের বড় চ্যালেঞ্জ জামানত সংকট ও উচ্চ অর্থায়ন ব্যয়। ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম এরই মধ্যে জামানতের বিকল্প হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তবে এর পরিধি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বল্প সুদের তহবিলের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলে অর্থায়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বর্তমানে কিছু স্কিমের আওতায় মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে।
ভবিষ্যতে গ্রুপ গ্যারান্টি, সামাজিক গ্যারান্টি ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্যারান্টির মতো বিকল্প জামানত ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি সহজ হবে এবং এমএসএমই খাত দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে আরো বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।










