আমরা উদ্যোক্তাদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন এবং দায়িত্বশীল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেশের এমএসএমই খাতকে আরো শক্তিশালী করতে মধুমতি ব্যাংক অঙ্গীকারবদ্ধ।

মধুমতি ব্যাংক এসএমই খাতের জন্য কী করছে?

মধুমতি ব্যাংক এসএমই ও সিএমএসএমই খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অর্থায়ন ও সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে। আমরা উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজড অর্থায়ন পণ্য চালু করেছি, যা কার্যকর মূলধন এবং স্থায়ী সম্পদ ক্রয়ের চাহিদা পূরণ করে। আমাদের ঋণ সুবিধা মাত্র ১ লাখ টাকা থেকে শুরু হয়, যাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও সহজে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আসতে পারেন।

বিশেষ করে সিএমএসএমই গ্রাহকদের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার ফাইন্যান্স এবং আর্নেস্ট মানি ফাইন্যান্স সুবিধা চালু করেছি, যা বাজারে তুলনামূলকভাবে বিশেষায়িত ও অনন্য উদ্যোগ। অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন টেন্ডার ও সরবরাহ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে চান, কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে পিছিয়ে পড়েন। আমাদের এ পণ্যগুলো তাদের ব্যবসায়িক সুযোগ কাজে লাগাতে সহায়তা করছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ৭ থেকে ৯ শতাংশ হারে স্বল্প ব্যয়ের অর্থায়ন প্রদান করছি, যা সিএমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। আমরা বিশ্বাস করি অর্থায়নের পাশাপাশি সঠিক পরামর্শও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য মধুমতি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের জন্য কনসালট্যান্সি ও অ্যাডভাইজরি সাপোর্ট প্রদান করে, যেখানে আমরা তাদের ব্যবসার প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে উপযুক্ত অর্থায়ন কাঠামো, নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকৃত অর্থায়ন চাহিদা নির্ধারণে সহায়তা করি। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এ পরামর্শমূলক সহায়তাই অনেক ক্ষেত্রে অর্থায়নের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অর্থনীতির এ চ্যালেঞ্জিং সময়ে এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আরো কী ধরনের ভূমিকা রাখা দরকার বলে মনে করেন?

বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এসএমই উদ্যোক্তারা কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ, বাজার অনিশ্চয়তা এবং অর্থায়ন ব্যয়ের মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা শুধু ঋণদাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

প্রথমত, উদ্যোক্তাদের ব্যবসার প্রকৃতি ও নগদ প্রবাহ বিবেচনায় নিয়ে আরো নমনীয় ও বাস্তবভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দ্রুত ঋণ অনুমোদন ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, বাজার সংযোগ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা পরিকল্পনা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

এছাড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনেকেই ব্যাংকিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে মাঠপর্যায়ে আরো সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা এবং স্বল্প ব্যয়ের তহবিলের মাধ্যমে অর্থায়ন সহজলভ্য করা প্রয়োজন, যাতে উদ্যোক্তারা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে টেকসইভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

নারী উদ্যোক্তা ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কোনো অর্থায়ন বা সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি রয়েছে কি?

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্যও আমাদের বিশেষ উদ্যোগ রয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৭ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি মধুমতি ব্যাংক বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে এবং সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য অর্থায়ন ও ব্যবসায়িক সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগই ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চালিকাশক্তি হবে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এসএমই খাতের অর্থায়ন ও ব্যবসা পরিচালনায় আরো কীভাবে কাজে লাগানো যায়?

ডিজিটাল প্রযুক্তি এসএমই খাতের জন্য একটি গেম চেঞ্জার। ডিজিটাল প্রযুক্তি এসএমই খাতের উন্নয়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে। ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, কিউআর পেমেন্ট, ই-কমার্স প্লাটফর্ম এবং বিকল্প তথ্যভিত্তিক ক্রেডিট মূল্যায়ন ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত ও সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

এছাড়া অনলাইন ঋণ আবেদন, ডিজিটাল ডকুমেন্টেশন, রিয়েল টাইম মনিটরিং এবং তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা আরো কার্যকর ও উদ্যোক্তাবান্ধব করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ও প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

মধুমতি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা যোগ্য ও সক্রিয় ব্যাংকগুলোর অন্যতম। আমরা চেষ্টা করি এসব তহবিলের সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে, যাতে ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোক্তারা স্বল্প ব্যয়ে অর্থায়ন পেতে পারেন। নারী উদ্যোক্তা, নতুন উদ্যোক্তা এবং গ্রামীণ ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা সম্প্রসারণ করছি এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করছি।