এ খাত সরাসরি প্রায় ২.১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ জোগান দেয়। একই সঙ্গে এমএসএমই খাত জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ অবদান রাখে এবং স্থানীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে। বিশেষ করে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, যা আত্মকর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করছে। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এমএসএমই খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য। তাই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ খাতের জন্য সহজ অর্থায়ন, প্রযুক্তিগত সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

আপনার ব্যাংক এসএমই খাতের জন্য কী করছে?

ব্যাংক এশিয়া দীর্ঘদিন ধরে এমএসএমই খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থায়ন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে পৌঁছার জন্য আমাদের বিস্তৃত শাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক কাজ করছে। আমরা উদ্যোক্তাদের ব্যবসার ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধা প্রদান করছি। পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে নারী, তরুণ ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। দ্রুত ঋণ প্রক্রিয়াকরণ, ডিজিটাল সেবা এবং গ্রাহককেন্দ্রিক পরামর্শের মাধ্যমে আমরা এমএসএমই খাতের টেকসই বিকাশে কাজ করে যাচ্ছি।

অর্থনীতির এ চ্যালেঞ্জিং সময়ে এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আরো কী ধরনের ভূমিকা রাখা দরকার বলে মনে করেন?

বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এমএসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা আরো জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে অর্থায়ন, কার্যকর পরামর্শসেবা, ব্যবসা ব্যবস্থাপনা দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সংযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করা জরুরি। একই সঙ্গে ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণ, বিকল্প জামানতভিত্তিক অর্থায়ন এবং ঝুঁকি মূল্যায়নে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি উদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ব্যাংক এশিয়া বিশ্বাস করে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ব্যবসার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক সহায়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নারী উদ্যোক্তা ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কোনো অর্থায়ন বা সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি রয়েছে কি?

হ্যাঁ, ব্যাংক এশিয়া নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন প্রি-রিফাইন্যান্সিংয়ের আওতায় স্বল্পসুদে বা মুনাফায় এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের পাশাপাশি আমরা তাদের ব্যবসা পরিচালনা, আর্থিক পরিকল্পনা এবং বাজার সম্প্রসারণ বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করে থাকি। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন ব্যবসা উদ্যোগে অর্থায়ন এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সহজলভ্য করা হয়েছে।

নারী ও তরুণ উদ্যোক্তারাই দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ। ব্যাংক এশিয়া তাদের ক্ষমতায়নকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে। একজন নারী উদ্যোক্তার সফলতা একটি পরিবারকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং একজন তরুণ উদ্যোক্তার সফলতা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। তাই এই দুই শ্রেণীর উদ্যোক্তাকে সহায়তা করা মানে জাতীয় অর্থনীতির ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করা।

ব্যাংক এশিয়া বিশ্বাস করে নারী ও তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে বিকশিত করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরো গতিশীল হবে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এসএমই খাতের অর্থায়ন ও ব্যবসা পরিচালনায় আরো কীভাবে কাজে লাগানো যায়?

ডিজিটাল প্রযুক্তি এমএসএমই খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। অনলাইন ঋণ আবেদন, দ্রুত ক্রেডিট মূল্যায়ন, ডিজিটাল পেমেন্ট, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং এবং ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট সেবার মাধ্যমে এ খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা সম্ভব। ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা উদ্যোক্তাদের সময়, খরচ ও পরিচালনাগত জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে সক্ষম। একই সঙ্গে ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস উদ্যোক্তাদের জন্য ভবিষ্যৎ অর্থায়নের সুযোগও বাড়িয়ে দেয়। তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ই-কমার্স প্লাটফর্মে অংশগ্রহণ এবং ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসার উৎপাদনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তর ছাড়া এমএসএমই খাতের টেকসই উন্নয়ন কল্পনা করা যায় না। তাই ব্যাংক এশিয়া প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী সেবার মাধ্যমে একটি ডিজিটাল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ও প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল, প্রণোদনা প্যাকেজ এবং নীতিগত সহায়তা এমএসএমই খাতের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ ধরনের নীতিগত সহায়তা এবং ব্যাংক খাতের কার্যকর বাস্তবায়নের সমন্বয় দেশের এমএসএমই খাতকে আরো শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। এসব সুবিধা উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে ব্যাংক এশিয়া মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা শনাক্তকরণ, দ্রুত ঋণ প্রক্রিয়াকরণ এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু রেখেছে। বিশেষ করে নারী, তরুণ এবং নতুন উদ্যোক্তাদের এ সুবিধার আওতায় আনার জন্য আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী ব্যয়ে অর্থায়নের সুযোগ পাচ্ছেন।