এ খাত দেশের উৎপাদন, সাপ্লাই চেইন, গ্রামীণ অর্থনীতি ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে এবং লাখো কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। ইসলামী ব্যাংক বিশ্বাস করে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে এমএসএমই খাতের বিকাশ অপরিহার্য। তাই ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে এসএমই অর্থায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক উদ্যোগে সহায়তা প্রদান করে আসছে।

এসএমই খাতের জন্য ইসলামী ব্যাংক কী কী উদ্যোগ নিয়েছে?

এসএমই খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি, ইসলামী ব্যাংক এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার। আমাদের লক্ষ্য শুধু অর্থায়ন প্রদান নয়; বরং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ব্যবসার টেকসই বিকাশ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করা। এ লক্ষ্যে আমরা দেশব্যাপী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ, দ্রুত ও শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ সুবিধা নিশ্চিত করে যাচ্ছি। আমরা শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের কাছে শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ সুবিধা পৌঁছে দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছি। বিশেষ করে নারী, তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নে আমাদের অঙ্গীকার অব্যাহত রয়েছে।

অর্থনীতির এ চ্যালেঞ্জিং সময়ে এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আরো কী ধরনের ভূমিকা রাখা দরকার বলে মনে করেন?

অর্থনীতির এ চ্যালেঞ্জিং সময়ে এসএমই খাতকে টিকিয়ে রাখা এবং এগিয়ে নিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচলিত অর্থায়নের বাইরে গিয়ে উন্নয়ন সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে হবে। সহজ ও সময়োপযোগী অর্থায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সংযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় কিন্তু অর্থায়ন-বঞ্চিত উদ্যোক্তাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। এর মাধ্যমে এসএমই খাত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির আরো শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এসএমই খাতের অর্থায়ন ও ব্যবসা পরিচালনায় আরো কীভাবে কাজে লাগানো যায়?

ডিজিটাল প্রযুক্তি এসএমই খাতের জন্য একটি গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করতে পারে। ইসলামী ব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ অ্যাপ ‘সেলফিন’, ‘আই-ব্যাংকিং’, ঘরে বসে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা এবং এসএমই ডেবিট কার্ড উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংকিং সেবাকে আরো সহজ, দ্রুত ও সময়সাশ্রয়ী করেছে। এর মাধ্যমে তারা ২৪/৭ লেনদেন, তহবিল স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, হিসাব ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন, ফলে শাখায় যাওয়ার প্রয়োজনও কমে এসেছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট ও ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবসার স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সেবা এসএমই খাতের টেকসই বিকাশে আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ও প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএমএসএমই খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল, প্রণোদনা প্যাকেজ এবং ক্লাস্টারভিত্তিক অর্থায়ন উদ্যোগগুলোকে আমরা দেশের উদ্যোক্তা বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত কার্যকর এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করি। ইসলামী ব্যাংক এ উদ্যোগগুলোর সুফল মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের পরিধি সম্প্রসারণ, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার প্রদান এবং সহজ, দ্রুত ও গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং, ডিজিটাল লেনদেন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক শক্তি বাড়াতে কাজ করছে। আমরা বিশ্বাস করি, শক্তিশালী এসএমই খাতই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

এমএসএমই খাতের বড় চ্যালেঞ্জগুলো—যেমন জামানত সংকট, উচ্চ অর্থায়ন ব্যয় বা বাজারে প্রবেশের সীমাবদ্ধতা মোকাবেলায় কী ধরনের নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

এমএসএমই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে জামানত সংকট, অর্থায়নে প্রবেশাধিকার ও বাজার সংযোগের সীমাবদ্ধতার মতো কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলো দূর করা জরুরি। এ লক্ষ্যে ক্রেডিট গ্যারান্টি ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, বিকল্প তথ্যভিত্তিক অর্থায়ন মূল্যায়ন, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ এবং উদ্যোক্তাদের জন্য বাজার সুবিধা বৃদ্ধি প্রয়োজন। ইসলামী ব্যাংক আরডিএস ও ইউপিডিএসের মাধ্যমে জামানতবিহীন বিনিয়োগ প্রদান করে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে। আমরা মনে করি, এ ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন মডেল ও সহায়ক নীতিমালা এমএসএমই খাতকে আরো প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনশীল ও টেকসই করে তুলবে।