জরুরি মুহূর্তে কোন ডাক্তার কোথায় আছেন, কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা যায়, কোথায় অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে কিংবা রক্তদাতা পাওয়া যাবে—এসব তথ্য খুঁজতে গিয়ে অনেক রোগী ও স্বজনকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ বাস্তব সমস্যার সমাধানকে সামনে রেখে কাজ করছে এইডফাস্ট (AidFast)। নামটির মধ্যেই রয়েছে এর মূল লক্ষ্য—এইড অর্থ সাহায্য এবং ফাস্ট অর্থ দ্রুত। অর্থাৎ দ্রুত চিকিৎসা-সংক্রান্ত সাহায্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়াই এইড ফাস্টের উদ্দেশ্য।
এইডফাস্ট একটি স্বাস্থ্যসেবাভিত্তিক ডিজিটাল প্লাটফর্ম, যেখানে রোগী ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহজ যোগাযোগের সেতুবন্ধ তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ডাক্তার, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ডেন্টাল ক্লিনিক, ফিজিওথেরাপি সেন্টার, ব্লাড ডোনার এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবার তথ্য লোকেশনভিত্তিক সহজেই খুঁজে পেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সময় সাশ্রয়। একজন রোগী যদি ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যান, তাহলে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত, ভুল সিদ্ধান্ত এবং চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়। এইড ফাস্ট সেই লক্ষ্যেই একটি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার ও যোগাযোগ প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় শত শত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এ প্লাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এরই মধ্যে এইডফাস্ট আওতাভুক্ত গ্রাহক প্রায় দুই লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে মাসে ৫০ হাজারের বেশি গ্রাহককে সেবা দিচ্ছে, যা আগামী বছরের শেষ দিকে পাঁচ থেকে সাত গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা খুঁজে পাওয়া আগের তুলনায় আরো সহজ হচ্ছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এমন উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের সমস্যা কমানো এবং সেবা গ্রহণকে সহজ করা। এইডফাস্ট সেই দর্শনকে সামনে রেখে কাজ করছে—যাতে প্রয়োজনের মুহূর্তে মানুষ দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত তথ্য ও সহায়তা পেতে পারে।
স্বাস্থ্যসেবায় সহজ যোগাযোগ, দ্রুত তথ্যপ্রাপ্তি এবং রোগীর ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা এইডফাস্ট নামটি হয়তো আগামী দিনে বাংলাদেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার পরিচিত একটি নাম হয়ে উঠবে।










