ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য জামানতের বাধ্যবাধকতা কমিয়ে ট্রেড লাইসেন্সের ওপর ভিত্তি করে ‘‌ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম’ (সিজিএস) ও গ্রুপ গ্যারান্টির মাধ্যমে জামানতবিহীন ঋণের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিকালে এসএমই ঋণের সুদহার কমিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সাশ্রয়ী সুদে মূলধন সরবরাহ করা যেতে পারে।

বর্তমান বাজারের তারল্য সংকট বিবেচনা করে কিস্তি (ইএমআই) পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানো এবং নতুন ও পুরনো উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ নবায়নের সুযোগ সহজ করা যেতে পারে।

ঋণ বিতরণের পর ব্যবসা পরিচালনা ও নতুন বাজার সৃষ্টি, লেনদেনের ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহারসহ ব্যবসায়িক বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান।

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা হেল্প ডেস্ক, জামানতবিহীন সহজ শর্তে বিশেষ তহবিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম জোরদার করা।

আপনার ব্যাংক এসএমই খাতের জন্য কী করছে?

রূপালী ব্যাংক পিএলসি এসএমই খাতের বিকাশে ২০১০ সালে ‘সাধারণ ঋণ ও এসএমই বিভাগ’ নামে একটি পৃথক বিভাগ চালু করেছে। সরকারের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে এসএমই খাতের প্রচার, প্রসার ও বিকাশে এ বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা এবং বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজ সিএমএসএমই লোন প্রডাক্টস চালু করেছে। নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে ঋণ কার্যক্রম সজহীকরণের লক্ষ্যে এসএমই বিভাগের অধীনে পৃথক নারী উদ্যোক্তা ইউনিট চালু আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন/প্রাক-অর্থায়ন স্কিম, স্টার্ট-আপ ফান্ড, ক্লাস্টার ফাইন্যান্স, ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ পোর্টফোলিও অর্জনে এসএমই ঋণের বার্ষিক লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা মাঠ পর্যায়ে বিভাজনের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তদারক করা হয়। সে ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে এসএমই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। এসএমই ঋণ কার্যক্রম গতিশীল করতে ও নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয়ের সভাপতিত্বে মাঠ পর্যায়ের সব শাখা, জোনাল অফিস ও বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রধানদের সঙ্গে মাসে কমপক্ষে একটি জুম মিটিং আয়োজন করা হয়। মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয়ের নেতৃত্বে এসএমই বিভাগের নিয়মিত ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ, তদারক ও নির্দেশনার মাধ্যমে রূপালী ব্যাংক পিএলসি এসএমই খাতকে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য কাজ করছে এবং ১৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৯২৬ দশমিক ৪৮ কোটি টাকা এসএমই ঋণ বিতরণ সম্ভব হয়েছে।

নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আপনার প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কোনো অর্থায়ন বা সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি রয়েছে কি?

নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে রূপালী ব্যাংক বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, অগ্রাধিকারভিত্তিক ঋণ প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জামানত সুবিধায় শিথিলতা প্রদানের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প ব্যয়ে অর্থায়ন সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনভিত্তিক অর্থায়ন প্রদান করা হয়। এছাড়া উৎপাদন, সেবা ও বাণিজ্যভিত্তিক বিভিন্ন খাতে উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়।

পাশাপাশি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের ব্যবসা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সচেতনতা এবং ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরামর্শমূলক সহায়তা প্রদান করে। নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল অর্থায়ন পরিবেশ সৃষ্টি, টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখাই রূপালী ব্যাংকের অন্যতম অঙ্গীকার।

বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই খাতের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ও প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন?

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ও বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজের সুফল এমএসএমই উদ্যোক্তাদের নিকট কার্যকরভাবে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে রূপালী ব্যাংক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে আসছে। এ লক্ষ্যে ব্যাংকের শাখা পর্যায়ে নির্দেশনা প্রদান, সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা চিহ্নিতকরণ, ঋণ আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় অর্থায়ন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিশেষভাবে, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ৫ হাজার কোটি টাকার সিএমএসএমই খাতের চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল এবং ৩ হাজার কোটি টাকার ‘ক্লাস্টার অর্থায়ন স্কিম’ পুনঃঅর্থায়ন তহবিলে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি (পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। চুক্তি সম্পাদনের পর এসব তহবিলের আওতায় যোগ্য এমএসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্বল্প ব্যয়ে অর্থায়ন সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

এছাড়া নারী উদ্যোক্তা, নতুন উদ্যোক্তা ও ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্প উদ্যোগকে অগ্রাধিকার প্রদান, পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ঋণ বিতরণ ও তদারক কার্যক্রম শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এমএসএমই খাতের উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরো কার্যকর অবদান রাখা সম্ভব হবে।