নিম্নতম ফান্ড ট্রান্সফার রেট অন‍্যতম সেবা, যেখানে কার্ড থেকে নগদ টাকা এনপিএসবি বা বিইএফটিএনের মাধ্যমে যেকোনো ব‍্যাংকে ট্রান্সফার করা যায়। ভিসা মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কার্ডে রেমিট্যান্স গ্রহণ করা যাচ্ছে, যা আমাদের কার্ডের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। গ্রাহক যেমন একদিকে এমএফএস ব‍্যবহার করে প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠাতে পারছেন, অন্যদিকে বিভিন্ন এমএফএস যে আকর্ষণীয় ক্যাশ ব‍্যাক দিচ্ছে, সেটিও উপভোগ করতে পারছেন। এছাড়া এতে রয়েছে রিওয়ার্ড পয়েন্ট সিস্টেম, যেখানে প্রতি ৫০ টাকা খরচে ২ থেকে ৪ পয়েন্ট পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ১ পয়েন্টের সমতুল্য হলো ২০ পয়সা। এসব পয়েন্ট এমডিবি মাই রিওয়ার্ডজ ‘MDB My Rewardz’ হিসেবে জমা হয়, যা বিভিন্ন গ্রোসারি শপের ক্রয়মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। ১৫টি ট্রানজেকশনে বাৎসরিক চার্জ মওকুফ (কার্ড অ্যানিভার্সারিতে চার্জ), বিভিন্ন মার্চেন্টে ২০ শতাংশ ডিসকাউন্ট, হাসপাতালে ৩০ শতাংশ ছাড়, শূন্য শতাংশ হারে ইএমআই, তিনটি ফ্রি সাপ্লিমেন্টারি কার্ড এবং প্রফেশনালদের (সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, আইটি কর্মী) জন্য ফ্রি বার্ষিক ফি— এসবই আমাদের কার্ডকে অনন্য করে তুলেছে। ক্রেডিট শিল্ড ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম একটি অন‍্যতম সুরক্ষা। এখানে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিমাণের উপর ভিত্তি করে একটি নামমাত্র চার্জ ধার্য করা হয়, যা কার্ডহোল্ডারের স্থায়ী অক্ষমতা বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে ব‍্যাংকের বকেয়া পরিশোধে ব্যবহার হয়। এছাড়া মিডল্যান্ড অনলাইন অ্যাপে ঘরে বসে বিল পে, টপ-আপ এবং ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা গ্রাহকদের জীবনকে সহজ করে দিয়েছে। সরাসরি অ্যাপের মাধ্যমে ইউএসডি বিল পরিশোধ করা যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আবার খরচ করা যায়। এছাড়া ব্যাংকের শাখা থেকে সরাসরি বিল পেমেন্ট করা যায়, যেখানে ব্যালেন্স তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাপে আপডেট হয়। মিডল্যান্ড অ্যাপ, ব্রাঞ্চ, এমএফএস এবং এনপিএসবির মাধ্যমে বিল পেমেন্ট সুবিধার পাশাপাশি সিআরএম মেশিনের মাধ্যমে বিল পেমেন্ট সুবিধা আছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক লাউঞ্জ কি-এবং পিক আপ ও ড্রপিং সুবিধা তো আছেই।

গ্রাহকদের জন্য আপনারা কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড বাজারে এনেছেন?

মিডল্যান্ড ব্যাংকে বর্তমানে দুই ধরনের ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। গোল্ড কার্ড এবং প্লাটিনাম কার্ডের সঙ্গে প্রিপেইড কার্ড, ডেবিট কার্ড আছে। এ দুই ধরনের ক্রেডিট কার্ডেই সব ধরনের সুবিধা সমানভাবে প্রযোজ্য, যা গ্রাহকদের জন্য একই স্তরের সেবা নিশ্চিত করে। রিওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে শুরু করে ডিসকাউন্ট এবং ইএমআই সুবিধা—সবকিছুতেই কোনো পার্থক্য নেই। কার্ডগুলো ভিসা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী গৃহীত, যা বিদেশে ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষভাবে সুবিধাজনক। এরই মধ্যে গ্রাহকের প্রয়োজনকে বিবেচনা করে ভিসা সিগনেচার কার্ড ইস্যু করার সব ব্যবস্থা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে মিডল্যান্ড ব্যাংক মাস্টারকার্ড ইস্যু এবং অ্যাকোয়ারিংয়ের লাইসেন্স হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। ফলে কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক সুবিধা প্রাপ্তির পথ প্রশস্ত হয়েছে।

রমজান ও ঈদে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটা নিয়ে আপনাদের কোনো বিশেষ অফার আছে কি?

এবারের রমজান ও ঈদুল ফিতরে আমরা গ্রাহকদের জন্য ব্যাপক অফার ঘোষণা করেছি। রমজানের সময় পরিবার ও আত্মীয় স্বজন নিয়ে বিভিন্ন হোটেলে ইফতার করার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। গ্রাহকদের এ আনন্দকে আরো হাসিখুশি-আনন্দময় করার জন্য আমরা ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান থেকে গেট ফোর’ পর্যন্ত অফারের ব্যবস্থা করেছি। বিভিন্ন মার্চেন্ট পয়েন্টে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ (যেমন আড়ংয়ে) পর্যন্ত ডিসকাউন্ট, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৩০ শতাংশ ছাড়, রেস্তোরাঁয় ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান’ অফার (রেডিসন, লা মেরিডিয়ান, রিজেন্স, হোটেল হানসা, পেনিনসুলা), ই-কমার্স প্লাটফর্মে ক্যাশব্যাক (যেমন দারাজে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট) অফার রয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বলাকা এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জে আমাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের প্রবেশাধিকার রয়েছে। সারাদিন রোজা রাখার পর বিভিন্ন সুস্বাদু খাবারের মাধ্যমে ইফতার করার জন্য গ্রোসারি শপে কেনাকাটার প্রয়োজন হয় এবং সেখানে আমরা ১০ গুণ বেশি রিওয়ার্ড পয়েন্ট দিচ্ছি ( যেমন ডেইলি শপ, স্বপ্ন, মিনাবাজার, আপন সময় ইত্যাদি)। এসব অফার ডিজিটাল কেনাকাটাকে উৎসবে রূপান্তরিত করবে, যাতে গ্রাহকরা নগদ ছাড়ে লাভবান হন।

দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে কার্ডভিত্তিক লেনদেন বৃদ্ধির পথে অন্তরায়গুলো কী কী?

বাংলাদেশে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণে প্রধান অন্তরায় পিওএস মেশিনের শহরকেন্দ্রিকতা। গ্রামাঞ্চলে এর অভাব রয়েছে। অপরদিকে বাংলা কিউআর ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা থাকলেও ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সচেতনতার অভাব, খেলাপি ঋণের ঝুঁকি, এমএফএস প্লাটফর্মের মধ্যস্থতা, প্রতারণা এবং সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কার্ড গ্রহণের জন্য টিআইএনের (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) আবশ্যকতাও গ্রাহকদের মধ্যে কার্ড ব্যবহারের অনাগ্রহ ও ব্যাংকগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব সমস্যা সমাধান না হলে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে পূর্ণাঙ্গ গতিশীল করতে বেগ পোহাতে হবে।

এক্ষেত্রে সরকার কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে?

ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বাংলা কিউআরের মতো ইন্টারঅপারেবিলিটি ব‍্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে, যেখানে এসে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এমএফএস একীভূত হয়। গ্রামীণ এলাকায় পিওএস মেশিন ও কিউআর পেমেন্ট সিস্টেমের (কিউপিএস) প্রসার ঘটাতে সরকার প্রণোদনা ও প্রশিক্ষণ দিতে পারে, যাতে গ্রামাঞ্চলও ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় আসে। এছাড়া পিআইএস (পেমেন্ট ইনিসিয়েশন সার্ভিস) চালু করে কাস্টমারদের এক অ্যাপ থেকে সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করার সুবিধা দেয়া যেতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা আইন আরো কঠোর করে প্রতারণা রোধ করা এবং নিয়মিত জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন চালু করা জরুরি। এসবের পাশাপাশি, ডিজিটাল লিটারেসি প্রোগ্রামের মাধ্যমে গ্রাহকদের কার্ড ও ডিজিটাল পেমেন্টের সঠিক ব্যবহার শেখানো, টিআইএন রেজিস্ট্রেশন সহজ করা এবং ব্যাংকগুলোর সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে কার্ডসহ সব পেমেন্ট মোডের সম্প্রসারণ ঘটবে এবং নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে উঠবে। সরকারের এমন উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।