সে লক্ষ্যেই আমরা বিভিন্ন ক্যাটাগরির কার্ড অফার করছি। মেজরিটি গ্রাহকদের জন্য রয়েছে ভিসা ক্লাসিক, গোল্ড ও প্লাটিনাম কার্ড এবং মাস্টারকার্ড টাইটেনিয়াম ও স্কাইট্রিপ কো-ব্র্যান্ড কার্ড এবং ডাইনার্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল ক্রম কো-ব্র্যান্ড কার্ড। পাশাপাশি প্রায়োরিটি ও প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য ভিসা সিগনেচার, ইনফিনিটি ও মাস্টারকার্ড ওয়ার্ল্ড কার্ড প্রদান করছি। এছাড়া মাস্টারকার্ড স্কিমের প্রথম বায়োমেট্রিক মেটাল কার্ড ওয়ার্ল্ড এলিট কার্ড আমাদের প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য উপলভ্য।
কোন কোন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আপনাদের কার্ড অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র বলে মনে করেন?
ইবিএলের কার্ডগুলো কয়েকটি বিশেষ কারণে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ড থেকে আলাদা বলে আমরা মনে করি। প্রথমত, আমাদের স্কাইলাউঞ্জ সুবিধাটি ইবিএল কার্ডের একটি বিশেষ আকর্ষণ। আমাদের প্লাটিনাম ও তার ঊর্ধ্বতন ক্রেডিট কার্ডহোল্ডাররা ঢাকা এবং চিটাগং এয়ারপোর্টে স্কাইলাউঞ্জে কমপ্লিমেন্টারি অ্যাক্সেস পান। ফলে ভ্রমণের আগে গ্রাহকরা আরামদায়ক পরিবেশে বিশ্রাম ও প্রিমিয়াম সেবা নিতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন কার্ডে অ্যানুয়াল ফি ওয়েভার সুবিধা রয়েছে এবং স্কাই ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাংকে না গিয়েই দ্রুত ও সহজে বিভিন্ন ট্রানজ্যাকশন সম্পন্ন করতে পারেন। কো-ব্র্যান্ড কার্ডগুলোয় সারা বছরজুড়ে এক্সক্লুসিভ অফার, আর অন্যান্য কার্ডে আকর্ষণীয় রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ইএমআই সুবিধা, ভ্রমণ সুবিধা ও বিভিন্ন ডিসকাউন্ট অফার যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে সহজ ব্যবহার, উচ্চমানের নিরাপত্তা ও গ্রাহককেন্দ্রিক সুবিধার সমন্বয়ই ইবিএল কার্ডকে আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে সহজ ব্যবহার, নিরাপত্তা ও গ্রাহককেন্দ্রিক সুবিধার সমন্বয়ই ইবিএল কার্ডকে আলাদা করেছে।
এবারের রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আপনাদের বিশেষ অফারগুলো কী কী?
ইবিএল এ রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ‘Ramadan 2026 Celebration with EBL Cards’ নামে বিশেষ অফার চালু করেছে, যেখানে আমাদের কার্ডহোল্ডাররা বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশেষ ছাড় ও সুবিধা পেতে পারেন। লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে ৭০টিরও বেশি পার্টনার ব্র্যান্ডে ট্রেন্ডি পোশাক অ্যাকসেসরি এবং অন্যান্য লাইফস্টাইল পণ্য কেনার সময় গ্রাহকরা ডিসকাউন্ট ও বিশেষ অফারের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। গ্রোসারি শপিং-এও আমাদের কার্ড ব্যবহার করলে ক্যাশব্যাক এবং ডিসকাউন্টের সুযোগ রয়েছে, যাতে দৈনন্দিন কেনাকাটাও আরো সাশ্রয়ী হয়। ইফতার, সাহরি এবং ডিনারের জন্য ফাইভ স্টার হোটেল ও রিনাউন্ড রেস্টুরেন্টে Buy One Get One এবং এমনকি Buy One Get Three কমপ্লিমেন্টারি ব্যুফে অফার রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে ZIP-এর ক্ষেত্রে টপ থ্রি মার্চেন্ট থেকে ইলেক্ট্রনিক্স আইটেম ও হোম অ্যাপ্লায়েন্সে রয়েছে ইনস্ট্যান্ট ১০ শতাংশ ডিসকাউন্ট এবং অন্য মার্চেন্টদের থেকে ইলেকট্রনিকস ফার্নিচার, মোটরসাইকেল ও স্মার্টফোনে রয়েছে ক্যাশব্যাক। সংক্ষেপে, আমাদের উদ্দেশ্য খুব সহজ কার্ড ব্যবহারকে লাভজনক, সহজ এবং আনন্দময় করে তোলা, যাতে রমজান ও ঈদের কেনাকাটায় মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ক্যাশলেস পেমেন্ট বেছে নেন।
দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের কোন কোন বিষয় কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে অন্তরায় বলে মনে করেন?
দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে উঠলেও কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। এক্ষেত্রে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ আছে। বড় বাধাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কাস্টমারের দিক থেকে ডিজিটাল পেমেন্টে পুরোপুরি অভ্যস্ত না হওয়া। অনেকেই এখনো ক্যাশকেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য মনে করেন, অভ্যাসের কারণে বা ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর আস্থার অভাবে। এছাড়া অনেক সময় কার্ড নেয়া বা ডিজিটাল সেবায় যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটা সাধারণ মানুষের কাছে জটিল মনে হয়। এ জায়গাটা যদি আরো সহজ, দ্রুত ও ঝামেলাহীন করা যায়, তাহলে আরো বেশি মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবহার করবে।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের সব এলাকায় পিওএস মেশিন, ইন্টারনেট ও অন্যান্য ডিজিটাল অবকাঠামো সমানভাবে পাওয়া না যাওয়া, বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকায়। অনেক ছোট ব্যবসায়ীর দোকানেও কার্ড গ্রহণের সুবিধা নেই বা থাকলেও ব্যবহার কম হয়। ফলে গ্রাহকের আগ্রহ থাকলেও ব্যবহার করার সুযোগ সব জায়গায় পাওয়া যায় না। পাশাপাশি সিকিউরিটি ও ফ্রড-সংক্রান্ত উদ্বেগ এবং উচ্চ ট্রানজ্যাকশন চার্জ ছোট ও মাঝারি লেনদেনের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করে।
সারসংক্ষেপে, যদি আমরা গ্রাহক সচেতনতা বাড়াই, নিরাপত্তা নিশ্চিত করি, অনবোর্ডিং আরো সহজ করি এবং সর্বত্র কার্ড গ্রহণ নিশ্চিত করি, তাহলে দেশে কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা আরো দ্রুত সম্প্রসারিত হবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?
আমরা চাই কার্ড ব্যবহারটা মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটার স্বাভাবিক অভ্যাস হয়ে উঠুক। তাই প্রথমেই গ্রাহকের সুবিধার দিকে ফোকাস করি। কন্ট্যাক্টলেস কার্ডের কারণে খুব দ্রুত পেমেন্ট করা যায়, ক্যাশ ক্যারি করার ঝামেলাও নেই। এতে যেমন সময় বাঁচে, তেমনি নিরাপত্তাও বেশি থাকে।
কার্ড ব্যবহারে মানুষের আস্থা বাড়াতে আমরা সিকিউরিটিকে গুরুত্ব দিচ্ছি, যাতে গ্রাহক নিশ্চিন্তে লেনদেন করতে পারেন। পাশাপাশি নিয়মিত ক্যাশব্যাক ও বিভিন্ন মার্চেন্ট অফার দিয়ে কার্ড ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছি। আমাদের ZIP ও EMI সুবিধার কারণে সারা বছরই গ্রাহকরা সহজ কিস্তিতে কেনাকাটা করতে পারছেন, বড় অংকের কেনাকাটাও সহজ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া কো-ব্র্যান্ডেড কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন পার্টনার ব্র্যান্ডের সঙ্গে বছরজুড়ে বিশেষ অফার থাকে।
সব মিলিয়ে আমাদের চেষ্টা একটাই—কার্ড ব্যবহারকে সহজ, নিরাপদ ও লাভজনক করে তুলে ধরা, যাতে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ক্যাশলেস লেনদেনের দিকে আগ্রহী হয়।
ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?
ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে সরকারের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমেই গ্রাম-শহর সব জায়গায় ইন্টারনেট ও ডিজিটাল পেমেন্টের অবকাঠামো আরো শক্তিশালী করা দরকার, যেন সবাই সহজে এসব সেবা ব্যবহার করতে পারে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা নিয়ে নিয়মিত ক্যাম্পেইন করা যেতে পারে, বিশেষ করে যারা এখনো ক্যাশের ওপর বেশি নির্ভরশীল। ছোট ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের কার্ড ও ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে উৎসাহ দিতে সহজ শর্তে টার্মিনাল ও অনবোর্ডিং সাপোর্ট দেয়া জরুরি। পাশাপাশি শক্তিশালী সাইবার সিকিউরিটি ও গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে মানুষের আস্থা আরো বাড়বে।
সব মিলিয়ে, অবকাঠামো, সচেতনতা, ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্তি আর নিরাপত্তা—এ চার জায়গায় সমন্বিত উদ্যোগ নিলেই ডিজিটাল লেনদেন স্বাভাবিকভাবে আরো বেড়ে যাবে।










