এর মধ্যে রয়েছে ভিসা গোল্ড, ভিসা প্লাটিনাম, ভিসা সিগনেচার, মাস্টারকার্ড টাইটানিয়াম, মাস্টারকার্ড ওয়ার্ল্ড, তায়িবাহ ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড। ভিসা সিগনেচার ও মাস্টারকার্ড ওয়ার্ল্ড ব্র্যান্ডের বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, দেশের প্রখ্যাত সামাজিক ক্লাব, পেশাদারী সংগঠন, খ্যাতনামা মোবাইল কোম্পানির সঙ্গে কো-ব্র্যান্ডেড ক্রেডিট কার্ড রয়েছে। প্রতিটি কার্ড গ্রাহকের আয়, পেশা, বয়স, ব্যয়ধারা এবং ভ্রমণ ও লাইফস্টাইল প্রয়োজন অনুযায়ী সুবিধা প্রদান করে।
কোন কোন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আপনাদের কার্ড অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র বলে মনে করেন?
ঢাকা ব্যাংকের কার্ড যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র বলে মনে করি, তার মধ্যে রয়েছে প্রতিযোগিতামূলক ক্যাশব্যাক ও ডিসকাউন্ট অফার। এছাড়া দেশব্যাপী ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক, শূন্য শতাংশে ইএমআই সুবিধা, রিওয়ার্ড পয়েন্ট ও লাইফস্টাইল বেনিফিট। তারকা হোটেল ও রেস্টুরেন্টে একটি বুফে কিনলে সর্বোচ্চ চারটি ফ্রি বুফের সুবিধা। এছাড়া নির্বাচিত কার্ডের ক্ষেত্রে রয়েছে আন্তর্জাতিক ট্রাভেল সুবিধা ও লাউঞ্জ অ্যাক্সেস। আমরাই প্রথম দেশে প্রায়োরিটি পাশ ছাড়া সরারারি আমাদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার লাউঞ্জ কির মাধ্যমে দেড় হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড দিয়ে ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট সুবিধা রয়েছে। এছাড়া ওটিপি, থ্রিডি সিকিউর ও রিয়েল টাইম মনিটরিংয়ের ভিত্তিতে শক্তিশালী কার্ড নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রয়েছে।
রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আপনাদের বিশেষ অফারগুলো কী কী?
রমজান ও ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ব্যাংক কার্ডহোল্ডারদের জন্য বিশেষ আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক। নির্বাচিত ট্রাভেল পার্টনার, লাইফস্টাইল, ইলেকট্রনিকস, রেস্টুরেন্ট ও ফ্যাশন আউটলেটে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্টের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ইফতার ও সাহরিতে বাই ওয়ান গেট ওয়ানের আওতায় সর্বোচ্চ চারটি ফ্রি অফার, অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বিশেষ ছাড়, ইলেকট্রনিকস ও লাইফস্টাইল পণ্যে সহজ ইএমআই সুবিধা, বিদেশ ভ্রমণ টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ অফারের সুযোগ রাখা হয়েছে। অফারগুলো গ্রাহকদের নিরাপদ ও সুবিধাজনক ডিজিটাল কেনাকাটায় উৎসাহিত করছে।
দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের কোন কোন বিষয় কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে অন্তরায় বলে মনে করেন?
গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পিওএস টার্মিনালের সীমাবদ্ধতা, ছোট ব্যবসায়ীদের মধ্যে এমডিআর নিয়ে উদ্বেগ, ডিজিটাল লেনদেনে সচেতনতার অভাব, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে গ্রাহকদের আশঙ্কা, ইন্টারনেট অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা—এসব বিষয়ই এখন কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়গুলো সমাধান হলে কার্ডভিত্তিক লেনদেন দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।
বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?
জনসাধারণের মধ্যে কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে ঢাকা ব্যাংক যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বিস্তৃত মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও করপোরেট সেগমেন্টে কার্ড সচেতনতা কর্মসূচি, কন্টাক্টলেস পেমেন্টন ও কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট সুবিধা, আকর্ষণীয় রিওয়ার্ড ও লয়্যালটি প্রোগ্রাম, ই-কমার্স প্লাটফর্মের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব ইত্যাদি।
ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?
সরকার ডিজিটাল পেমেন্টকে আরো গতিশীল করতে পিওএস ও ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণে প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি এমডিআর যৌক্তিক ও সহনশীল পর্যায়ে রাখার উদ্যোগ নিতে পারে। পাশাপাশি দেশের সাইবার নিরাপত্তা কাঠামোকে আরো শক্তিশালী করা, ডিজিটাল লেনদেনে ট্যাক্স ইনসেনটিভ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং সরকারি বিল ও সেবায় বাধ্যতামূলক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। ঢাকা ব্যাংক বিশ্বাস করে নিরাপদ, দ্রুত ও স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করতে কার্ডভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্টই ভবিষ্যতের প্রধান মাধ্যম।










