সাশ্রয়ী বার্ষিক ফি এবং দৈনন্দিন কেনাকাটার সুবিধার মাধ্যমে ক্ল্যাসিক ও গোল্ড কার্ডগুলো যেখানে উদীয়মান মধ্যবিত্ত ও তরুণ পেশাজীবীদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে, সেখানে প্লাটিনাম, সিগনেচার, ডায়মন্ড এবং ওয়ার্ল্ড কার্ডগুলো উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের জন্য প্রিমিয়াম লাইফস্টাইল সুবিধা প্রদান করে। এ কার্ডগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকরা দেশ ও দেশের বাইরে বিশেষ রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ডিসকাউন্ট এবং বিশ্বমানের ব্যাংকিং সুবিধা পেয়ে থাকেন।

কোন কোন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আপনাদের কার্ড অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র বলে মনে করেন?

এমটিবি ক্রেডিট কার্ডকে একটি সম্পূর্ণ পেমেন্ট ও লাইফস্টাইল সলিউশন হিসেবে বিবেচনা করি আমরা। অন্যান্য ব্যাংকের মতো বোগো, ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফারের পাশাপাশি আমাদের কার্ডে কিছু ভিন্নধর্মী সুবিধা রয়েছে, যা গ্রাহকদের কাছে এটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

প্রথমত, এমটিবি কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের ছয়টি বিমানবন্দরের আটটি লাউঞ্জে প্রবেশাধিকার এবং বিদেশে LoungeKey প্রোগ্রামের আওতায় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমটিবির বিশেষ পিক অ্যান্ড ড্রপ ও মিট অ্যান্ড গ্রিট সেবা ভ্রমণকে আরো সহজ ও আরামদায়ক করে। পাশাপাশি আমাদের রিওয়ার্ড পয়েন্টের মান তুলনামূলকভাবে বেশি এবং তা বিভিন্ন পণ্য, সেবা ও ভ্রমণ ব্যয়ে ব্যবহারযোগ্য; ফলে গ্রাহকরা দৈনন্দিন লেনদেন থেকেই বাড়তি মূল্য পান।

এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের কার্ড নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে MTB PCI DSS সার্টিফায়েড, যা কার্ডহোল্ডারদের নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করে এবং আমাদের প্রতি গ্রাহকের আস্থা আরো সুদৃঢ় করে।

এবারের রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আপনাদের বিশেষ অফারগুলো কী কী?

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এমটিবি কার্ডহোল্ডারদের জন্য একটি বিশদ ক্যাম্পেইন চালু করেছে, যাতে পবিত্র মাস ও ঈদের কেনাকাটার বাড়তি ব্যয় সহজে পরিচালনা করা যায় এবং উৎসবের আনন্দ অটুট থাকে।

ঈদের প্রস্তুতির কেনাকাটায় গ্রাহকরা আড়ং, অ্যাপেক্স, বাটা, ইয়োলোতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া গৃহস্থালি পণ্য কেনার ক্ষেত্রে র‍্যাংকস, সিঙ্গার, ট্রান্সকমসহ শীর্ষ ইলেকট্রনিক ব্র্যান্ড এবং হাতিল, নাভানার মতো ফার্নিচার আউটলেটে ৩ থেকে ৩৬ মাস মেয়াদে ইএমআইতে ক্যাশব্যাক সুবিধা থাকছে, যা বড় কেনাকাটাকে সহজ কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য করে।

গ্রাহকরা জনপ্রিয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড যেমন ইনফিনিটি, অঞ্জনস, লা রিভ এবং গ্রোসারি চেইন স্বপ্ন ও মীনাবাজারে ১০ গুণ MRewardz পয়েন্ট পাবেন। একইভাবে Air As tra, Biman Bangladesh Airlines, GoZayaan ও ShareTrip-এ টিকিট কিনলেই উপভোগ করবেন অতিরিক্ত রিওয়ার্ড পয়েন্টের সুবিধা।

বিনোদন কেন্দ্র ফ্যান্টাসি কিংডম, ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট ওয়ার্ল্ড, স্টার সিনেপ্লেক্স ও টগি ফান ওয়ার্ল্ড এবং কফিশপ নর্থ অ্যান্ড রোস্টারস ও তাবাক কফিতে পাঁচ গুণ MRewardz পয়েন্ট এবং বিভিন্ন লাইফস্টাইল পার্টনারে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট ও অনলাইন প্লাটফর্মে ২০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ের সুযোগ থাকছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পাঁচ তারকা হোটেলসহ স্বনামধন্য রেস্টুরেন্টে ইফতার ও সাহরিতে থাকছে আকর্ষণীয় বাই ওয়ান গেট ওয়ান/টু/থ্রি/ফোর বুফে অফারও।

দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের কোন কোন বিষয় কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে অন্তরায় বলে মনে করেন?

বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট দ্রুত প্রসার লাভ করলেও কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণে এখনো কিছু কাঠামোগত ও আচরণগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, প্রধান জেলা শহরগুলোর বাইরে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এখনো পর্যাপ্ত পিওএস টার্মিনাল বা কার্ড গ্রহণযোগ্যতা নেই, বিশেষত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে। ফলে গ্রাহক কার্ড ব্যবহার করতে আগ্রহী হলেও অনেক সময় ব্যবহার করার সুযোগ পান না।

দ্বিতীয়ত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের একটি অংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেটকে অতিরিক্ত খরচ হিসেবে দেখেন এবং নগদ লেনদেনকে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য মনে করেন। তৃতীয়ত, সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ এখনো নগদ অর্থ ব্যবহারে অভ্যস্ত এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা তুলনামূলকভাবে কম।

এছাড়া, ই-কমার্স ও অনলাইন পেমেন্টে প্রতারণার ভীতি অনেক গ্রাহককে কার্ড ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে। তবে এরই মধ্যে ব্যাংক ও নেটওয়ার্কগুলো টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন, ওটিপিসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করায় এ আস্থা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এর সঙ্গে কিউআর ট্রানজেকশনের প্রচলনও ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?

কার্ড ব্যবহারকে জনপ্রিয় করতে এমটিবি গ্রাহক ও মার্চেন্ট—উভয় দিকেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে। গ্রাহকদের জন্য আমরা নিয়মিত ক্যাশব্যাক, বোগো অফার, ডিসকাউন্ট, এক্সিলারেটেড রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং শূন্য শতাংশ সুদে ইএমআই সুবিধা প্রদান করছি, যাতে দৈনন্দিন কেনাকাটাও কার্ড দিয়ে করা লাভজনক হয়। এছাড়া ই-কমার্স ট্রানজ্যাকশনের জন্য আন্তর্জাতিক ডেবিট ও অনলাইন-সক্ষম কার্ড চালু করা হয়েছে, যা বৈদেশিক ওয়েবসাইটেও নিরাপদে ব্যবহারযোগ্য।

একই সঙ্গে আমরা গ্রোসারি, ফ্যাশন, ট্রাভেল, রেস্টুরেন্ট, হাসপাতাল ও ই-কমার্স—সব ধরনের খাতে মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করছি, যাতে গ্রাহকরা সর্বত্র কার্ড ব্যবহার করতে পারেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মার্চেন্ট বৃদ্ধির জন্য আমরা দেশের সর্বপ্রথম SoftPOS সলিউশন (MuthoPay-মুঠোপে) চালু করা হয়েছে যাতে স্মার্টফোন দিয়েই পেমেন্ট গ্রহণ সম্ভব হয়। পাশাপাশি গ্রাহক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?

ডিজিটাল লেনদেন আরো বিস্তৃত করতে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের কিছু নীতিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রথমত, সারা দেশে বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, কারণ ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পূর্ণভাবে অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল।

দ্বিতীয়ত, মার্চেন্টদের জন্য কর-সুবিধা বা প্রণোদনা এবং MDR কাঠামো যৌক্তিকীকরণ করলে ব্যবসায়ীরা কার্ড গ্রহণে আরো আগ্রহী হবেন। একই সঙ্গে সরকারি বিল, ফি, ট্যাক্স ও ভর্তুকি বিতরণ সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রহণ-প্রদান বাধ্যতামূলক করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের অভ্যাস তৈরি হবে।

এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে ডিজিটাল আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচি, সাইবার সিকিউরিটি সচেতনতা এবং ভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। এতে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে এবং নগদনির্ভরতা কমে একটি ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে দেশ আরো দ্রুত অগ্রসর হতে পারবে।