আমাদের কার্ড পোর্টফোলিওতে এন্ট্রি-লেভেল থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম সেগমেন্ট পর্যন্ত একাধিক ধরনের কার্ড রয়েছে, যা ভিন্ন ভিন্ন গ্রাহক সেগমেন্টকে টার্গেট করে ডিজাইন করা। আমরা বিশ্বাস করি, ক্রেডিট কার্ড এখন আর শুধু একটি পেমেন্ট ইনস্ট্রুমেন্ট নয়, এটি লাইফস্টাইল এবং ফাইন্যান্সিয়াল ফ্লেক্সিবিলিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই গ্রাহকের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী কার্ড বেছে নেয়ার সুযোগ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

কোন কোন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আপনাদের কার্ড অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র বলে মনে করেন?

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড একটি আন্তর্জাতিক ব্যাংক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের উপস্থিতি থাকায় আমাদের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা দেশে ও বিদেশে সমানভাবে স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য একটি সেবা উপভোগ করতে পারেন। ভ্রমণ, অনলাইন কেনাকাটা কিংবা আন্তর্জাতিক লেনদেন, সব ক্ষেত্রেই তারা গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড সার্ভিস পেয়ে থাকেন। আমাদের লক্ষ্য থাকে গ্রাহকের বাস্তব প্রয়োজন বুঝে কার্ডের সুবিধা তৈরি করা। কারো বেশি খরচ ডাইনিংয়ে, কারো ভ্রমণে, আবার কারো নিয়মিত বাজার বা অনলাইন শপিংয়ে। এ ভিন্ন ভিন্ন খরচের অভ্যাস বিবেচনায় আমরা রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্যাশব্যাক, লাউঞ্জ সুবিধা এবং বিভিন্ন পার্টনার অফার ডিজাইন করি, যাতে প্রতিদিনের খরচ থেকেই গ্রাহক স্পষ্ট সুবিধা পেতে পারেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিস্তি সুবিধা বা ইএমআই একটি বড় চাহিদা। তাই আমরা বিভিন্ন মার্চেন্ট পার্টনারের সঙ্গে কাজ করে সহজ ও দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি সুবিধা দিচ্ছি, যাতে বড় কেনাকাটাও পরিকল্পিতভাবে করা যায়। পাশাপাশি ডিজিটাল সেবাকে আরো সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করতে আমরা নিয়মিতভাবে প্রক্রিয়াগত উন্নয়ন এবং নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নির্ভরযোগ্য ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক হিসেবে গ্রাহকদের জন্য সহজ, স্বচ্ছ ও ঝামেলামুক্ত ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা।

এবারের রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আপনাদের বিশেষ অফারগুলো কী কী?

এ রমজানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড প্রথমবারের মতো গ্রাহকদের জন্য শীর্ষস্থানীয় ইন্টারন্যাশনাল চেইন হোটেল প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও ঢাকা এবং ক্রাউন প্লাজায় এক্সক্লুসিভ ‘পে ওয়ান, ইট ফাইভ’ অফার আয়োজন করেছে, যা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারের আনন্দ ভাগ করে নেয়াকে আরো সহজ করে তুলবে। পাশাপাশি গ্রাহকরা স্বনামধন্য রেস্টুরেন্টগুলোয় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট এবং প্রিমিয়াম হোটেলগুলোয় ‘পে ওয়ান, ইট ফোর’ অফার উপভোগ করতে পারবেন। রমজানজুড়ে প্যান্ডামার্ট, ইউনিমার্ট ও দারাজে থাকছে ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার। খাজানা, গ্যালিটস ও লাহোরের মতো জনপ্রিয় রেস্টুরেন্টগুলোয়ও রয়েছে এক্সক্লুসিভ অফার।

যারা বাসায় স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য ফুডপান্ডায় রয়েছে আকর্ষণীয় ডিসকাউন্ট। ঈদের ছুটিকে আরো আনন্দময় করতে, গ্রাহকরা শেয়ারট্রিপে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারফেয়ারে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত এবং গোজায়ানে ডোমেস্টিক এয়ারফেয়ারে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া ডোমেস্টিক হোটেলে রয়েছে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট।

এ বছর জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ইয়েলোয় ১০ শতাংশ ক্যাশব্যাকসহ দেশের শীর্ষ ফ্যাশন ব্র্যান্ড, জুয়েলারি স্টোর ও বিউটি স্যালনে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট থাকছে। পাশাপাশি হোম অ্যাপ্লায়েন্স, ফার্নিচার ও মোবাইল গ্যাজেট কেনাকাটায় গ্রাহকরা ৩৬ মাস পর্যন্ত শূন্য শতাংশ ইএমআই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া ১২ ক্যাটাগরিতে ৩৪৮ পার্টনার প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ডিসকাউন্ট ও ইনস্টাবাই অফার।

বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড মনে করে কার্ড ব্যবহারে চারটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হলো ভ্যালু প্রপোজিশন, সহজ ব্যবহার, ইনোভেশন ও আস্থা। বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড প্রথম চালু করেছিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। শুরু থেকেই আমরা আমাদের গ্রাহকদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিতে নতুন ও আকর্ষণীয় অফার নিয়ে কাজ করছি, যা তরুণ থেকে প্রিমিয়াম, সব ধরনের গ্রাহকের প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি। গ্রাহকের খরচের ধরন বুঝে আমরা ডাইনিং, ভ্রমণ, সুপারশপ ও অনলাইন শপিংয়ে রিওয়ার্ড, ক্যাশব্যাক ও পার্টনার অফার দিই। বড় কেনাকাটায় শূন্য শতাংশ ইএমআই সুবিধা তো থাকেই। একটি আন্তর্জাতিক ও বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ব্র্যান্ড হিসেবে আমাদের কার্ড ব্যবহার করে গ্রাহকরা দেশে ও বিদেশে নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকেন, যা আমাদের জন্য অনেক বড় একটি প্রাপ্তি। সহজ ডিজিটাল প্রক্রিয়া ও নিয়মিত নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা কার্ড ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরো সহজ ও সুবিধাজনক করে তুলতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।