প্রতি বছরের মতো এবারো রমজান ও ঈদ উপলক্ষে মেঘনা ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের জন্য ১ লাখ টাকার বেশি সাশ্রয়ের সুযোগসহ আকর্ষণীয় অফার রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেক্টিভ রেস্টুরেন্টে বাই ওয়ান গেট ওয়ান/টু/থ্রি অফার, আড়ংয়ে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ বা সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক, শীর্ষ গ্রোসারি স্টোরে ১০ শতাংশ বা ৫০০ টাকা ক্যাশব্যাক, ফুডপান্ডায় ২৫ শতাংশ বা ৬০০ টাকা ক্যাশব্যাক, সিলেক্টিভ কফি শপে ৫০ শতাংশ বা ৫০০ টাকা ক্যাশব্যাক এবং স্টার সিনেপ্লেক্সে ২৫ শতাংশ বা ৫০০ টাকা ক্যাশব্যাক সুবিধা।
দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের কোন কোন বিষয় কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে অন্তরায় বলে মনে করেন?
প্রথমত, কার্ডের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা সম্পর্কে গ্রাহকদের সচেতনতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে কার্ড ব্যবহারে তাদের আস্থা ও আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয়ত, একটি ভারসাম্যপূর্ণ পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা জরুরি, যেখানে পেমেন্ট স্কিম, ব্যাংক, মার্চেন্ট এবং কার্ডহোল্ডার—সব অংশীজনের জন্য আর্থিকভাবে লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি হবে এবং সবাই অংশগ্রহণে উৎসাহিত হবে। তৃতীয়ত, ক্যাশ ইন ও ক্যাশ আউট চার্জ কমানো এবং ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে পেমেন্ট করলে গ্রাহকের খরচ কমে, লেনদেন দ্রুত ও নিরাপদ হয় এবং ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?
বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ এবং বর্তমান প্রজন্ম পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ব্র্যান্ডকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মেঘনা ব্যাংক ১০০ শতাংশ রিসাইকেলড ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড চালু করেছে, যা পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিংয়ে আমাদের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।
ডিজিটাল পেমেন্ট খাতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে কার্ডধারীদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক ফ্রি অ্যাড মানি ট্রানজেকশন সুবিধা দেয়া হয়। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা সহজে ও কম খরচে ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন, যা কার্ড ব্যবহারে উৎসাহ বাড়ায়।
এছাড়া শীর্ষ রেস্টুরেন্ট, শপিং মল, ট্রাভেল ও বিভিন্ন রিটেইল স্টোরে বিশেষ ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক অফার, নিয়মিত থিমভিত্তিক ক্যাম্পেইন, ডিজিটাল পেমেন্ট বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, লেনদেনের বিপরীতে আকর্ষণীয় রিওয়ার্ড পয়েন্ট সুবিধাসহ নানামুখী উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের মধ্যে কার্ডভিত্তিক লেনদেনকে আরো সহজ, লাভজনক ও জনপ্রিয় করে তুলতে কাজ করছি।
গ্রাহকদের জন্য আপনারা কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড বাজারে এনেছেন?
মেঘনা ব্যাংক বর্তমানে সিলভার, গোল্ড, প্লাটিনাম, উইমেন ও গ্রিন প্লাটিনাম—এ পাঁচ ক্যাটাগরিতে গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ডসেবা প্রদান করছে। গ্রাহকের আয়, প্রয়োজন ও লাইফস্টাইল বিবেচনায় আমরা ভবিষ্যতে আরো বৈচিত্র্যময় প্রডাক্ট আনার পরিকল্পনা করছি।
কোন কোন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আপনাদের কার্ড অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র বলে মনে করেন?
মেঘনা ব্যাংকই প্রথম ব্যাংক হিসেবে শতভাগ রিসাইকেলড ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড চালু করেছে। মেঘনা ব্যাংকের পাঁচ ক্যাটাগরির ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে সর্বাধিক প্রিমিয়াম কার্ড গ্রিন প্লাটিনাম, যা ব্যবহারে বছরে ২ লাখ টাকার বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। নারীদের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা উইমেন প্লাটিনাম কার্ড রয়েছে, যেখানে বছরে ব্যবহারে ১ লাখ টাকার বেশি সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি রয়েছে নিয়মিত প্লাটিনাম কার্ড ও গোল্ড কার্ড।
এসব কার্ডে রয়েছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক লাউঞ্জ সুবিধা, বাই ওয়ান গেট ওয়ান/টু/থ্রি অফার, শীর্ষ মার্চেন্টদের সঙ্গে বিশেষ ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক সুবিধা। এছাড়া গ্রাহকদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধাসমৃদ্ধ সিলভার কার্ডও।
সব ধরনের কার্ডের ক্ষেত্রেই প্রথম বছরের বার্ষিক ফি মওকুফ এবং পরবর্তী বছরে নির্দিষ্টসংখ্যক লেনদেন বা রিওয়ার্ড পয়েন্ট অর্জনের মাধ্যমে ফি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। আরো আছে নির্দিষ্টসংখ্যক ফ্রি ওয়ালেট অ্যাড মানি সুবিধা, টোল-ফ্রি কল সেন্টার সেবা, এক্সক্লুসিভ রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও বীমা সুবিধা।
ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?
ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে সরকারকে একটি সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে, যেখানে পেমেন্ট স্কিম, ব্যাংক, মার্চেন্ট ও কার্ডহোল্ডার—সব অংশীজনের জন্য আর্থিকভাবে টেকসই ও লাভজনক পরিবেশ নিশ্চিত হবে। এতে অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগে সবার আগ্রহ বাড়বে। এছাড়া ‘বাংলা কিউআর’-এর মতো কিউআর-ভিত্তিক লেনদেন সুবিধা আরো বিস্তৃত করা এবং সার্বিক সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ, সহজ ও কম খরচের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে উঠলে দেশে ডিজিটাল লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।










