দেশের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য নারী প্রধানমন্ত্রীও আমরা পেয়েছিলাম। যদিও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান পেছনের দিকে বলে আমি মনে করি। এবারের সংসদে আসনবিন্যাসের ক্ষেত্রেও সেটি লক্ষ করা গেছে। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন সরকারের সহযোগিতা। যেমন যোগ্যতা অনুযায়ী নারীদের ক্ষমতাবিন্যাস করা উচিত। কিন্তু তা না হয়ে লেজুড়বৃত্তি বেশি হচ্ছে। এর পাশাপাশি পরিবারতন্ত্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পরিবারের ভালো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি থাকলে অবশ্যই তাকে মূল্যায়ন করা হবে। এবারের সংসদের মন্ত্রীদের অনেকেই পরিবারেই অতীতে মন্ত্রী ছিল। তারা যে যোগ্য নন, এমন নয়। বরং আরো যারা আছে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে।

নির্বাচনেও নারীদের সমঅবস্থানটি দেখা যায়নি। নারী প্রার্থীর উপস্থিতি ছিল হতাশাজনক। অন্যদিকে বৃহৎ একটি দল জামায়াতে ইসলামী তো এবার কোনো নারীকে মনোনয়নই দেয়নি, যা খুবই দুঃখজনক। পরে নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেলেও নারীদের শুধু মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় দিয়ে রাখলে হবে না। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নারীকে অবশ্যই অনেকগুলো সেক্টরে ভাগ করে দিতে হবে। এবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শামা ওবায়েদ এসেছেন। তিনি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। নারীরা এগোচ্ছে। কিন্তু এটি আরো বৃদ্ধি করতে হবে। একজন নারী যেভাবে সমাজকে দিচ্ছেন, তার প্রতিদানে সেই জন্য নারীকে বিভিন্ন খাতে পৌঁছে দিতে হবে। নারীর সম্মানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। আমরা এখনো মানবিক শিক্ষায় এগোতে পারিনি। নারীদের কীভাবে সম্মান করতে হয়, তা অনেকেই জানে না। নির্বাচনে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি প্রশাসনও হয়তো বোঝেনি নারীকে কীভাবে সম্মান দিতে হবে।

শাসন ব্যবস্থায় নারীদের অবস্থানটি অন্যদের চেয়ে ভিন্ন বলে আমি মনে করি। নারীরা কম দুর্নীতিগ্রস্ত হয় বলে আমি দেখেছি। তাদের মধ্যে শাসন ব্যবস্থা ভালো থাকে। যদিও সবাই এক রকম হবে, তা না। তা সত্ত্বেও মেয়েদের যেহেতু মাতৃত্ববোধ বেশি আছে, তাই সে কারণে তারা কাজটি খুব সুন্দরভাবে করে। কিছু ক্ষেত্রে নারীদের বলা হয়, আপনি কী বোঝেন? অথচ তারা যা বোঝে, আমরাও তা-ই বুঝি। ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। আমরা সবাই মানুষ। এ নারী দিবসে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব যে নারীকে যোগ্য স্থান দিলে যোগ্য দেশ ও সমাজ পাবেন। নারীদের যার যার সেক্টর ভাগ করে সুযোগ দিন। শুধু তাদের বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে নয়, তাদের কর্ম দিয়ে মূল্যায়ন করুন। নারী দিবস উপলক্ষে আমি মনে করি সব নারী একত্র হয়ে আমরা যদি আমাদের ন্যায্য অধিকার তুলে ধরতে পারি, তবে তা আমাদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।

কাজী রেহা কবির সিগমা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী