প্রথমত, আমরা রাজনীতিতে নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্পেস, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে রাজনীতিকে এখনো নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। এ কারণে অনেক পরিবার নারীদের রাজনীতিতে জড়াতে দিতে চায় না। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক দলগুলোর নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে নিজস্ব অনীহা ও কার্পণ্য আছে। অনেক পুরনো দলেও দেখা যায় তৃণমূলে অনেক নারী কর্মী থাকলেও দলের উচ্চপর্যায়ের ফোরাম বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের রাখা হয় না বললেই চলে। এমনকি অনেক সময় একজন পুরুষের নেতৃত্বকে যতটা উৎসাহ দেয়া হয়, যেভাবে তাকে এগিয়ে যেতে দলীয়ভাবে সহযোগিতা করা হয়; একজন নারীর ক্ষেত্রে তা করা হয় না। ফলে অনেক নারী তৃণমূল থেকেই ঝরে পড়েন। তৃতীয় বিষয়টি হলো অর্থনৈতিক বাধা। নারীরা তুলনামূলক বেশি অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হন। যেমন অনেক সময়ই নির্বাচনের বিশাল ব্যয়ভার বহন করা নারী প্রার্থীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে দলীয় সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। কিন্তু বেশির ভাগ সময় দলগুলোও ফান্ডিং বা গ্রুমিংয়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখায় না। ফলে নারী অনেক সময় চাইলেও সামনে এগোতে পারেন না।
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে ভেতর থেকে নারী নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতে হবে। সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলোয় একজন পুরুষ নেতাকে যেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়, একজন যোগ্য নারীকে সেভাবে সামনে আনা হয় না। এটি একধরনের মানসিক সংকীর্ণতা। এ সংকীর্ণতা পরিহার করতে হবে। দেশের ৫১ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে নারীর পদায়ন কেবল নামমাত্র বা ‘প্রাইজ পোস্টিং’ হলে চলবে না, তা হতে হবে যোগ্যতাভিত্তিক। এছাড়া বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে নারীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ সাইবার বুলিং। কিন্তু দলগুলোর এ বুলিং থেকে তার নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। আমি মনে করি, প্রতিটি দলেরই সাইবার সেল থাকা উচিত, যাতে দলের নারী কর্মীরা সাইবার বুলিং বা হেনস্তার শিকার হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যায়। সহজভাবে বললে একজন নারীকে তৃণমূল থেকে নেতৃত্ব পর্যায়ে উঠে আসতে যেসব চ্যলোঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে।
নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রথমত, নারীদের নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। অনেক গ্রামীণ বা প্রান্তিক নারী জানেনই না যে সম্পত্তিতে বা আইনি ক্ষেত্রে তাদের অধিকার কতটুকু। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়াকে নারীবান্ধব করতে হবে। একজন নারী যখন থানায় অভিযোগ করতে যান, তখন যেন তাকে পুনরায় মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হতে না হয়। এজন্য রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্র ও সব সংস্থাকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে, যেন নারী অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।
মনিরা শারমিন: যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপি










