টঙ্গীর শাহাজ উদ্দিন সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিলেন ১৭ বছরের নাফিসা হোসেন। স্বপ্ন ছিল গ্র্যাফিক ডিজাইনার হবেন। এইচএসসি পরীক্ষায় ৪.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণও হন। কিন্তু সে ফলাফল দেখার সুযোগ হয়নি নাফিসার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন নাফিসা।

নাফিসার বাবা আবুল হোসেন পেশায় একজন চা দোকানি। মা কুলসুম বেগম পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২২ সালে বিদেশে পাড়ি জমান। আন্দোলনের সময়টায় নাফিসা তার বাবা আবুল হোসেনের সঙ্গে টঙ্গীর এরশাদনগর একটি ভাড়া বাড়িতে ছিলেন। মায়ের কাছ থেকে মুঠোফোনে অনুমতি নিয়ে নিয়মিত আন্দোলনে যেতেন নাফিসা। এর মাঝে তার বাবা বিষয়টি জানতে পেরে নাফিসাকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেন। এর পরও নাফিসা নিয়মিতই আন্দোলনে যোগদান করেন।

২৮ জুলাই নাফিসা ধামরাইয়ে বড় মামার বাসায় আসেন। পরে ৩০ জুলাই ছোট মামা হযরত আলীর বাসায় যান। এরপর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে সাভারে আন্দোলনে অংশ নিতেন। সেখানে গিয়েও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ৫ আগস্ট সকালে মামাকে জানিয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গাবতলীতে যাবেন। নাফিসার মামা হযরত আলী তাকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করেন; কিন্তু নাফিস নিষেধ শোনেননি। কাউকে কিছু না বলেই বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর মামা নাফিসার মুঠোফোনে কল দিলে জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন। বেলা ১১টার দিকে আবার কল দিলে আর ধরেননি নাফিসা।

দুপুরের দিকে নাফিসার ছোট বোন সাফা হোসেন কল দিলে অপরিচিত একজন কল ধরে জানান ‘নাফিসা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন’ এবং তাদের ল্যাবজোন হাসপাতালে যেতে বলেন। নাফিসার গুলিবিদ্ধ হওয়ার সংবাদ শুনে তার মামা হযরত আলী ল্যাবজোন হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে নাফিসাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা নাফিসাকে মৃত ঘোষণা করেন।