পদ্মাতীরের ছোট্ট কুঠিবাড়ি থেকে দেশের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পার করেছে গৌরবময় ৭২ বছর। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই যাত্রা শুরু করা এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও সংস্কৃতিতে রেখেছে বিশেষ অবদান। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি। আছে ১ হাজার ১২ জন শিক্ষক ও অসংখ্য গবেষক। ৭৫৩ একরের ক্যাম্পাসজুড়ে ১২টি অনুষদ, ৫৯টি বিভাগ, ৬টি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ১৭টি হল, আধুনিক গ্রন্থাগার, আইসিটি সেন্টার, জাদুঘর, স্টেডিয়াম, সুইমিং পুলসহ নানা সুবিধা রয়েছে।
শিক্ষা ও গবেষণায় নানামুখী সফলতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় দেশ-বিদেশে সমীহ জাগানো অবস্থান তৈরি করেছে। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. মনজুর হোসেন হারানো মসলিন পুনরুদ্ধার ও আর্সেনিক দূষণমুক্ত পানি প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন। ফার্মেসি বিভাগের ড. এএইচএম খুরশীদ আলম চার সবজি থেকে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান ও তুঁতের ক্যান্সার-হৃদরোগ প্রতিরোধী গুণ বের করেছেন। ফিশারিজের ড. ইয়ামিন হোসেন বিলুপ্ত দেশি মাছ ফিরিয়ে এনেছেন। ফলিত রসায়নের ড. তৌফিক আলম চামড়া সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি ও ইইই বিভাগের ড. মামুনুর রশিদ তালুকদার কৃষিতে প্লাজমা টেকনোলজি প্রয়োগ করেছেন।
বিদেশী শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ দেশের ৩৩ জন বিদেশী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। নেচার ইনডেক্সের সর্বশেষ র্যাংকিংয়ে রাবি দেশের শীর্ষে আছে। ইউএস গ্লোবাল র্যাংকিংয়ে বিশ্বে ৬৩৮তম ও ওয়েবমেট্রিক্সেও দেশসেরা।
উচ্চশিক্ষা-বিসিএস-বিজেএসে সাফল্য
গত ছয় মাসে ৩৪ জন শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষায় গেছেন। ৪৪তম বিসিএসে ৬২ জন বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। বিজেএসে সবশেষ ২৮ জন সহকারী জজ হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবনা
জনসংযোগ দপ্তরের অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার জানান, বাজারমুখী শিক্ষার্থী তৈরি ও কারিকুলাম আধুনিকায়নের উদ্যোগ চলছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, গবেষণা-র্যাংকিংয়ে রাবি দেশের সেরা, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হচ্ছে। শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে নানা সংস্কার চালু হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র্যালি, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণসহ নানা আয়োজন হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদযাপিত হচ্ছে।










