বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহে হাজারো শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সরকার শিক্ষা খাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন ও বিদ্যালয়গুলোকে আরো সহনশীল করে তোলার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
‘ক্লাইমেট স্মার্ট এডুকেশন সিস্টেম ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউনেস্কো, ইউনেস্কো-আইআইইপি ও সেভ দ্য চিলড্রেন। আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন।
বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৩ (ব্যনবেইস) অনুযায়ী, গত বছর দেশে ১৫ হাজার ৯০০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও চরম তাপপ্রবাহের কারণে বহু বিদ্যালয় অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে, পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
নতুন এ উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদাররা জানতে পারবে কোন অঞ্চল ও বিদ্যালয়গুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এবং কিভাবে প্রমাণভিত্তিক নীতি ও বিনিয়োগ পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে জলবায়ু-সহনশীল করা যায়।
গত সোমবার হোটেল আমারী ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্লেষণ’ শীর্ষক তিন-দিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালায় শিক্ষা ও প্রাথমিক মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর—বানবেইস, এনএপিই, এনসিটিবি, ডিপিই, ডিএসএইচই, ডিটিই, ডিএমই এবং আট বিভাগীয় শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এছাড়া বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, এডিবি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও এফসিডিও-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন অংশীদারের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের (উন্নয়ন দায়িত্বপ্রাপ্ত) অতিরিক্ত সচিব বদরুন নাহার বলেন,`এ বিশ্লেষণ আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে কোথায় এবং কীভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা জলবায়ু ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এটি প্রমাণভিত্তিক ও জলবায়ু-সংবেদনশীল পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. সুসান ভাইজ বলেন, `জলবায়ু আঘাতে শিক্ষা সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু শিক্ষা-ই হতে পারে সহনশীলতার ভিত্তি। সঠিক তথ্য ও পরিকল্পনা থাকলে প্রতিটি শিশুর শেখা নিরাপদ ও অব্যাহত রাখা সম্ভব।'
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পরিকল্পনা) যুগ্ম সচিব মো. শইফুল ইসলাম বলেন, `জলবায়ু-সহনশীল স্কুল গড়ে তোলা মানে হলো প্রতিটি শিশুর শিক্ষার অধিকার রক্ষা করা— এমনকি দুর্যোগের সময়েও।’
ইউনেস্কো-IIEP-এর বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু ঝুঁকির উপাত্ত বিশ্লেষণ, বিদ্যালয়ের দুর্বলতা মূল্যায়ন এবং ঝুঁকির মানচিত্র তৈরির পদ্ধতি নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন।
এ কার্যক্রমের ফলাফল থেকে প্রস্তুত করা হবে একটি জাতীয় শিক্ষা খাত জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণ প্রতিবেদন, যা ভবিষ্যতের শিক্ষা খাত পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রম সংস্কার ও অবকাঠামো নীতিতে দিকনির্দেশনা দেবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম সারির দেশগুলোর একটি হিসেবে শিক্ষা খাতে জলবায়ু ঝুঁকি বিশ্লেষণকে নীতি ও পরিকল্পনায় সংযুক্ত করার অগ্রণী উদাহরণ স্থাপন করছে।- বিজ্ঞপ্তি










