গৃহকর্মীদের অধিকার, স্বীকৃতি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যৌথ প্রতিশ্রুতি ও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে জাতীয় পরামর্শ সভায়। আজ বুধবার (২০ আগস্ট) ঢাকায় আয়োজিত এই সভার আয়োজন করে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন (ক্যাম্প)।
এই সভায় সরকারি কর্মকর্তা, সিভিল সোসাইটি, ট্রেড ইউনিয়ন ও উন্নয়ন সহযোগীসহ ৬০ জনেরও বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। আলোচনায় প্রায় ৪০ লাখ গৃহকর্মীর মর্যাদা, ন্যায্যতা ও শোভন কাজের অধিকার নিশ্চিতে সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। এই গৃহকর্মীদের বড় অংশই নারী ও কিশোরী।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ.এইচ.এম শফিকুজ্জামান বলেন, গৃহকর্মের কাজ আর অদৃশ্য থাকতে পারে না। তিনি বলেন, এ কাজে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, তদারকি ও শোষণ-নির্যাতন রোধে শক্তিশালী ব্যবস্থা দরকার। গৃহকর্মীদের শ্রম আইন ও সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর আওতায় আনতে মন্ত্রণালয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।

মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম জানান, সরকার গৃহকর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার তাদের অধিকার নিশ্চিত, ন্যায্য আচরণ ও সামাজিক সুরক্ষা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ জন্য অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন করা হবে।
কানাডার হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (ডেভেলপমেন্ট - জেন্ডার ইক্যুইটি) স্টেফোনি সেন্ট লরেন্ট ব্রাসার্ড বলেন, টেকসই পরিবর্তনের মূল হলো সম্মিলিত সহযোগিতা। বিভিন্ন পক্ষ একসঙ্গে কাজ করলে গৃহকর্মীদের দক্ষতা, স্বীকৃতি ও মর্যাদা অর্জনের পথ তৈরি হয়। তিনি জানান, সিকিউরিং রাইটস প্রকল্পসহ নানা উদ্যোগ এই সহযোগিতাকে আরো শক্তিশালী করছে।
বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের মহাসচিব ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য শাকিল আখতার চৌধুরী জানান, কমিশনের পক্ষ থেকে এরইমধ্যে ২৮টি সুপারিশ মন্ত্রণালয় ও সরকারের কাছে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গৃহকর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।
আইএলও বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার নীরান রামজুথান বলেন, শুধু আইন প্রয়োগই নয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য জরুরি। তিনি জানান, গৃহকর্মীদের শোভন কাজ নিশ্চিত করতে আইএলও কনভেনশন ১৮৯ সমর্থন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মাহমুদা সুলতানা বলেন, গৃহকর্মীরা পরিবারে মেরুদণ্ডের মতো ভূমিকা রাখলেও অদৃশ্য থেকে যাচ্ছেন। তাদের প্রকৃত অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার, শ্রমিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সমন্বয় অপরিহার্য। অক্সফাম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করবে, যেখানে বিভিন্ন দেশে গৃহকর্মীদের অধিকার জোরদারে বৈশ্বিক সহযোগিতা গড়ে তোলা হবে।
সভা পরিচালনা করেন ক্যাম্পের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। তিনি বলেন, গৃহকর্মীদের একটি জাতীয় ডাটাবেস তৈরি করতে হবে, যাতে নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সহজ হয়।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম সমন্বয়ক তারকে আজিজ একটি উপস্থাপনায় জানান, ২০১৫ সালের গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি গ্রহণ এবং আইএলও কনভেনশন ১৮৯ সমর্থন সত্ত্বেও গৃহকর্মীরা আইনগত স্বীকৃতি, চাকরির চুক্তি, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক সুরক্ষা না পাওয়ায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন।
সভা শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে ছিল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয় জোরদার, গৃহকর্মকে জাতীয় অর্থনীতির অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া, জাতীয় ডাটাবেস তৈরি করাসহ দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো।
—বিজ্ঞপ্তি










