বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ ও পর্যটকেরা এখন ‘ব্লু জোন’ ঘোষিত অঞ্চলগুলোতে বসবাস করতে আগ্রহী। ব্লু জোনের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হল —এ অঞ্চলগুলোতে মানুষ অনেক বেশি সময় বেঁচে থাকেন, অনেকেই ১০০ বছর পার করেন। গবেষকেরা বলছেন, ফিনল্যান্ডের ওস্ট্রোবোথনিয়ায় মানুষেরা স্বাস্থ্যকর খাবার খান, সক্রিয় জীবনযাপন করেন এবং কম মানসিক চাপে থাকেন। তাই এটি হতে পারেনতুন ব্লু জোন। খবর দ্য মেইল।

ব্লু জোনে বসবাসকারী মানুষ জীবনে উদ্দেশ্য নিয়ে বাঁচেন। তারা দৈনন্দিন কাজের মাধ্যমেই শরীরচর্চা করেন এবং কম মানসিক চাপে থাকেন। এখানে প্রবীণরা সামাজিকভাবে সক্রিয়, স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশগ্রহণ বেশি, ডিপ্রেশন ও একাকীত্বের হার কম। বিশ্বে পাঁচটি অঞ্চলকে ব্লু জোন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো, গ্রিসের ইকারিয়া, জাপানের ওকিনাওয়া, কোস্টারিকার নিকোয়া, ইতালির ওগলিয়াস্ত্রা এবং ক্যালিফোর্নিয়া লোমা-লিন্ডা। গবেষকরা বলছেন, এবার এ তালিকায় যুক্ত হতে পারে ফিনল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় ওস্ট্রোবোথনিয়া।

zone

ব্লু জোন স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বের পাঁচ অঞ্চল। ছবি- ডেইলি মেইল

ব্লু জোনে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ফিনল্যান্ডের ওস্ট্রোবোথনিয়া অঞ্চলে যে গবেষণা হয়েছে, সেটার নেতৃত্ব দিয়েছেন সারাহ আকারম্যান। তিনি আবো একাডেমি ইউনিভার্সিটির সমাজনীতি গবেষক। গবেষণাটিতে দেখা গেছে, এ অঞ্চলে জীবন প্রত্যাশা গড়ের চেয়ে অনেক বেশি, এবং মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দেখা যায়। তবে এ তথ্য পুরোপুরি নিশ্চিত করতে আরও ভালোভাবে জনসংখ্যাগত গবেষণা করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের দীর্ঘায়ুর সত্যতা যাচাই করতে আরও কঠোর জনসংখ্যাগত গবেষণা প্রয়োজন।

এমনকি এ স্টাডিতে গবেষকেরা ফিনল্যান্ডের তিনটি অঞ্চল বিশ্লেষণ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় ওস্ট্রোবোথনিয়াকেই বেছে নিয়েছে। এখানে নবজাতকের সম্ভাব্য গড় আয়ু ৮৩.১ বছর, যা ফিনল্যান্ডের জাতীয় গড় ৮১.৬ এবং বিশ্বের গড় ৭৩.১ বছরের চেয়ে বেশি।

‘ব্লু জোন’ ধারণাটি প্রথম চালু করেন আমেরিকান সাংবাদিক ড্যান বুয়েটনার। তিনি পরে এ নামে বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডও তৈরি করেন। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ এ তত্ত্বকে ‘অবৈজ্ঞানিক’ ও ‘প্রতারণামূলক’ বলে দাবি করেছেন। তাদের মতে, এটি বাছতে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া জন্মসনদ, ত্রুটিপূর্ণ তথ্য এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

বেলজিয়ান জনসংখ্যা গবেষক, মিশেল পুলেইন এবং তার সহকর্মীরা প্রথম ব্লু জোন শনাক্ত করেন। তারা সার্ডিনিয়ার ওগলিয়াস্ত্রা অঞ্চলকে কঠোর যাচাইয়ের মাধ্যমে বেছে নিয়েছিলেন। তবে এ গবেষণাটির নানান সূচক বলছে, স্বাস্থ্য ও জীবনধারা সবসময় একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয়। ‘সুস্থভাবে বাঁচলে আয়ু বাড়তে পারে’ এটা নিয়ে আরো ভালোভাবে গবেষণা করা দরকার।