শিক্ষা গ্রহণে পিছিয়ে থাকায় বাঙালি মুসলমান সমাজ শত বছর পিছিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও বিশিষ্ট চিন্তক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি বলেন, ব্রিটিশরা আসার পর স্কুল-কলেজের শিক্ষা গ্রহণ না করায় বাঙালি মুসলমান সমাজ ১০০ বছর পিছিয়ে পড়ে। তাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বই পড়া তথা শিক্ষার বিকল্প নেই।
শুক্রবার (২০ জুন) বিকালে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসে আয়োজিত বুক অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বুক অলিম্পিয়াড বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি লেখক ও গণমাধ্যমকর্মী মাহফুজ ফারুকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গবেষক ও লেখক ড. কাজল রশীদ শাহীন, লেখক ও সংগঠক নাহিদ হাসান, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, ‘এবং বই’ পত্রিকার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ ও ‘স্বরে অ’ প্রকাশনীর প্রকাশক আবু বকর সিদ্দিক। স্বাগত বক্তব্য দেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেঁজুতি হাসান।
বুক অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্বে দেশসেরা পাঠক নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার মিম। দ্বিতীয় হয়েছেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিতা বিশ্বাস ও তৃতীয় হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার। বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বই তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের বই দিয়ে বরণ করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা, লেখক কথন, উপস্থিত কুইজ, অনুভূতি প্রকাশসহ নানা বই বিষয়ক সেশন। এসব সেশনে বক্তব্য দেন পরিবেশ বিষয়ক লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার ও কবি মনোয়ার লিটন।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে উপস্থাপনা করেন বুক অলিম্পিয়াডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে এইচ খান রোহান, সদস্য সৌরভ মণ্ডল ও সাদিয়া আফরিন।
সারাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী বুক অলিম্পিয়াডের বাছাই পর্বে অংশ নেন। বাছাইয়ে উত্তীর্ণ শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় পর্ব।
প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত পাঠ্য বই ছিল আল মাহমুদের ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আম আঁটির ভেঁপু’, জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’, হুমায়ূন আহমেদের ‘ময়ূরাক্ষী’, মাহফুজ ফারুকের ‘বুকপিডিয়া’ ও ইমরান মাহফুজ সম্পাদিত লিটল ম্যাগ ‘কালের ধ্বনির ‘জুলাই অভ্যুত্থানে আহত কবি ও লেখক সংখ্যা’। নির্বাচিত বইগুলো পাঠ শেষে প্রতিযোগীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন।










