সক্রেটিস যে ছদ্ম ধনিক-গোষ্ঠীতন্ত্রী ছিলেন না, গণতন্ত্রপ্রেমী ছিলেন তার প্রমাণস্বরূপ ভ্লাসটস গণতন্ত্রী কেরেফন ও লাইসিয়াসের সাথে বন্ধুত্বকে হাজির করেন।১ কিন্তু সক্রেটিসের সঙ্গী হিসেবে অধিকতর সংখ্যক স্বৈরাচারী এবং ধনিক গোষ্ঠীবাদীর নাম স্মরণ করিয়ে দিয়ে ই এম উড ও এন উড বলেন যে ‘‌আমাদের যদি বন্ধুত্ব ও মেলামেশার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে গণতন্ত্রী সক্রেটিসের সাথে ক্রিতিয়াস, কারমিদিজ, জেনোফন এবং অন্যান্যদের, এমনকি প্লেটোর বন্ধুত্বকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে; কারণ, ধনিক-গোষ্ঠীবাদী সক্রেটিসের সাথে কেরেফনের বন্ধুত্বকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাকে গণতন্ত্রী হিসেবে দেখতে হচ্ছে। যা হোক, সক্রেটিসের বিচার যত অন্যায্যই হোক না কেন, এ কথা বলা কোনোক্রমেই যুক্তিযুক্ত বলে ধরা যায় না যে সক্রেটিস কাছের এ চরিত্রের লোকজন এথেনীয় জনতার মধ্যে যে সন্দেহের সূচনা করেছিল তা পুরোপুরি অযৌক্তিক ছিল।’২ এই সন্দেহের কথাই ভ্লাসটস তার প্রবন্ধে বলেছেন। যদিও কেবল গণতন্ত্রীদের সাথে মেলামেশার ভিত্তিতে সক্রেটিসকে গণতন্ত্রপ্রেমী প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি, তবু এথেন্সের সংবিধানের প্রতি আইনের প্রতি সক্রেটিসের গভীর আস্থা ও ভালোবাসা তুলে ধরে ভ্লাসটস সক্রেটিসকে গণতন্ত্রপ্রেমী হিসেবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু গণতন্ত্রী শাসকরা এবং জনসাধারণও যে তার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করত, তা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের, আর্খনের দরবারে তা প্রাথমিকভাবে গৃহীত হওয়া এবং তার বিরুদ্ধে দিকাস্তেসদের রায় থেকেই স্পষ্ট হয়।

সক্রেটিস এই অর্থে রাজনীতির শহীদ নন যে তিনি তার প্রাণ হরণকারী রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে প্রাণ দিয়েছিলেন, বা সেই ব্যবস্থাকে অস্বীকার করেছিলেন, বা সেই ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছিল, তাকে তিনি সঠিক বলে মেনে নিয়েছিলেন এবং তিনি সেই ঘটনার শিকার হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। তিনি যে কোনোভাবেই তখনকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার কট্টর বিরোধী ছিলেন না, তার গঠনমূলক সমালোচক ছিলেন, পপারের এক বিশ্লেষণে আমরা তার পরিচয় পাই। ‘‌সক্রেটিস পেরিক্লিজের মতো এথেনীয় গণতন্ত্রের নেতা ছিলেন না, অথবা প্রোতাগোরাসের মতো উন্মুক্ত সমাজের তাত্ত্বিক ছিলেন না। তিনি বরং ছিলেন এথেন্স ও তার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সমালোচক; তাতে কেউ কেউ উন্মুক্ত সমাজের প্রতি প্রতিক্রিয়া প্রদর্শনকারীদের সাথে তার একটি ভাসা ভাসা মিলও দেখতে পাবেন। কিন্তু একজন মানুষ যদি গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সমালোচনা করেন তাহলে তাকে তার শত্রু বলে বিবেচনা করতে হবে, এমন কারণ নেই; যে গণতন্ত্রীদের তিনি সমালোচনা করেন এবং যে সর্বনিয়ন্ত্রণবাদী গণতন্ত্রী শিবিরের বিচ্ছিন্নতা থেকে লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করে, তারা উভয়েই তাকে শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে। গণতন্ত্রের গণতান্ত্রিক ও সর্বনিয়ন্ত্রণবাদী সমালোচনার মৌলিক পার্থক্য আছে। সক্রেটিসের সমালোচনা ছিল গণতান্ত্রিক সমালোচনা, আর বাস্তবিক পক্ষে তা-ই গণতন্ত্রের প্রাণ।’৩ সক্রেটিস যে এথেন্সের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করেছেন তা সত্য, কিন্তু গ্রিসের অন্য কোনো নগররাষ্ট্রের সংবিধান তার শাসন ব্যবস্থা তার কাছে এথেন্সের চাইতে প্রকৃষ্টতর মনে হয়নি।

আমরা সিদ্ধান্ত করতে পারি যে—যদিও প্রকাশ্যে বলা হয়নি—গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা, তথা রাজনৈতিক কারণ সক্রেটিসকে দণ্ডদানের পেছনে মুখ্য কারণ হিসেবে কাজ করেছিল; আর দিকাস্তেসদের মাথার পেছনে কাজ করেছিল রাজনৈতিক ভীতি। তাদের ভয় ছিল, যে-স্বৈরাচারী শাসনের শিকার হয়েছিলেন তারা, আরেকবার যেন তার কবলে না পড়েন। সক্রেটিস যেন শিক্ষক হিসেবে তরুণদের শিক্ষা দিয়ে, প্রণোদনা জুগিয়ে সেই সম্ভাবনাকে জোরদার করতে না পারেন তার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন তারা। এমন মনে করা যায় যে মূল নায়কদের নাগালে না পেয়ে তাদের সাথে মেলামেশার সূত্রে সম্পর্কযুক্ত করে এথেনীয়গণ শেষমেশ সক্রেটিসকে দণ্ডিত করেছিল।

কিন্তু প্রকাশ্যে সক্রেটিসের অধার্মিকতার যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল তা কি জুরিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কাজ করেনি? সক্রেটিস তার প্রথম বক্তৃতার একেবারে শেষ পর্যায়ে বলেন: ‘‌‍বিশেষত এই সময়ে যখন অধার্মিকতার জন্য আমি মেলিতাস কর্তৃক অভিযুক্ত হয়ে এখানে দাঁড়িয়ে।’ আমাদের ধারণা জন্মে যে এই অভিযোগকেই তিনি মূল প্রকাশ্য অভিযোগ মনে করেন। আর ‘তরুণদের কলুষিত করা’ও এ অধার্মিকতার অভিযোগেরই অংশ। মেলিতাসকে জেরা করার মধ্য দিয়ে তা স্পষ্ট হয়— 

সক্রেটিস: মেলিতাস, দয়া করে আমাদের বলো, আমি কীভাবে যুবসমাজকে কলুষিত করছি। তুমি যে অভিযোগ দায়ের করেছ, তাতেই এটি অত্যন্ত স্পষ্ট; আমি আমাদের নগরী স্বীকৃত দেবতাদের বিশ্বাস৪ না করার শিক্ষা দিই, নতুন ঐশ্বরিক সত্তার জন্ম দিই; তা-ই না? তুমি এ কথাই তো বুঝাতে চাচ্ছ—এসব শিক্ষা দিয়েই আমি তাদের কলুষিত করছি। 

মেলিতাস: হ্যাঁ, আমি এ কথাই জোর দিয়ে বলতে চাই।

অধার্মিকতার অভিযোগটি শেষ পর্যন্ত বিচারালয়ে সক্রেটিসের জেরার মুখে নাস্তিকতার অভিযোগ হিসেবে দেখা দেয়। লিখিত এবং উপস্থাপিত মূল অভিযোগ ছিল ‘নগরী যেসব দেবতাকে স্বীকার করে তাদের স্বীকার না করা এবং অন্য নতুন দেবতার উপস্থাপন’; আর প্লেটো যেভাবে এই লেখায় উপস্থাপন করেছেন তা হলো: নগরী কর্তৃক স্বীকৃত দেবতাদের তিনি বিশ্বাস করেন না, বরং তার বদলে নতুন নতুন ঐশ্বরিক সত্তার৫ সূচনা করেন। বিচারালয়ে সক্রেটিসের জেরাটি দাঁড়ায় এমন: 

মেলিতাসকে সক্রেটিস: ব্যাপারটি কি এমন; আমি লোকজনকে এই শিক্ষা দিচ্ছি যে কিছু কিছু দেবতার অস্তিত্ব আছে এবং আমি নিজেও তাদের অস্তিত্বের কথা বিশ্বাস করি; তাই আমি পুরোপুরি নাস্তিক নই এবং ফলে নাস্তিক হওয়ার অপরাধে অপরাধী নই—কিন্তু তারা সেই দেবতা নয়, যাদের এই নগরী বিশ্বাস করে? এটিই কি আমার বিরুদ্ধে তোমার অভিযোগ—অর্থাৎ, এই দেবতারা ভিন্ন দেবতা? নাকি তুমি এ কথা বলছ যে আমি কোনো দেবতাই বিশ্বাস করি না এবং অন্যদেরও তা-ই শিক্ষা দিই? 

মেলিতাস: আমি সেই কথাই বলতে চাচ্ছি—আপনি কোনো দেবতাই বিশ্বাস করেন না। 

সক্রেটিসের পক্ষে এ অভিযোগ খণ্ডন করা খুব একটা সমস্যা হয়ে দেখা দেয় না। মেলিতাসকে জেরা করে তিনি সহজেই পরাভূত ও বিভ্রান্ত করেন।

সক্রেটিসের ধর্মধারণা নিশ্চিতভাবেই এথেনীয় সমাজের প্রচলিত ধর্মবিশ্বাস থেকে ভিন্ন ছিল। সেই বিশ্বাসের ভিত্তি ছিল সক্রেটিসের দার্শনিক প্রত্যয়। তার ব্যক্তিগত দেবতায় বিশ্বাস ব্যতীত আর সবকিছুতেই তিনি নির্ভর করতেন যুক্তিবোধের ওপর। আর তা-ই ছিল তার ধার্মিকতার প্রত্যয়ের ভিত্তি। ভ্লাসটস ইউথিফ্রোর একটি বিশ্লেষণে লিখেছেন: ‘‌তিনি (সক্রেটিস) ইউথিফ্রোর ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন যাতে তিনি এ ব্যাপারে একমত হন যে সত্তাসারে ধার্মিকতা—যৌক্তিকভাবে আবিষ্কারযোগ্য এর প্রকৃতি—দেবতার ভালোবাসার ওপর নির্ভরশীল নয়।’৬ আর এই যুক্তির পথ ধরেই সক্রেটিস এ প্রত্যয়ে পৌঁছেন যে কোনো কিছু যদি সত্তাসারে উত্তম হয়, তবে তা মানুষের ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, দেবতার ক্ষেত্রেও তেমনই প্রযোজ্য। সুতরাং দেবতাদের মন্দ হওয়া, অনৈতিক হওয়া চলে না; তারা কেবল উত্তমই হতে পারেন, নৈতিকই হতে পারেন, তারা মানুষ বা অন্য দেবতার ওপর মন্দ পরিণতি আনতে পারেন না, কেবল উত্তম পরিণতির কারণ হতে পারেন। “হিব্রু ও খ্রিস্টান ঐতিহ্যে এটি কোনোক্রমেই দুঃসাহসী কোনো পরিণাম হিসেবে গণ্য হওয়ার নয়। কিন্তু যারা দেবতার ব্যাপারে গ্রিক বিশ্বাসে জন্মগ্রহণ করেছে, তাদের জন্য এটি বিধ্বংসী পরিণাম বয়ে আনত। অপরাধীর মতো সমভাবেই যা নির্দোষকেও নিপীড়ন করে, ধ্বংস করে, যা তার সৃষ্টি করা নৈতিক ক্ষতির প্রতি নির্বিকার—সেই ধরনের ঐশী কার্যক্রমকে এটি পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করে দিত..।... এ ধরনের মানদণ্ড অর্জন করার প্রয়োজনে নগরীর দেবতাগণ চেনার অতীত হয়ে উঠতেন। তাদের বৈপ্লবিক নৈতিক পরিবর্তনের অর্থ দাঁড়াত পুরনো দেবতাদের ধ্বংসসাধন, নতুন দেবতার সৃষ্টি...।৭

আমরা অনুমান করি, সক্রেটিসের ধর্মীয় মতামত এথেন্সবাসীর ‘‌যৌথ অবচেতনে’ এই ভীতিও সৃষ্টি করেছিল। বারনেট এক বিশ্লেষণে এথেন্সবাসীদের মনে জেগে থাকা এমন ধারণার কথাই ভেবেছেন। তিনি তখনকার এথেন্সের ধর্মীয় আবহ এবং কয়েকটি ঘটনা (ষোলো বছর আগে সংঘটিত হারমিজের মূর্তি ভাঙার এবং ধর্মাচরণের অপবিত্রকরণের জন্য অ্যান্দোসিদিজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, ইউলিসীয় ধর্মানুষ্ঠানের আয়োজন, পাইথাগোরীয় ও অর্ফীয় ধর্মাচরণের উপস্থিতি) উল্লেখ করে মন্তব্য করেন যে ‘‌যদিও এমন মনে করার কারণ নেই যে সক্রেটিসের বিরুদ্ধে সরাসরি এই ঘটনা (হারমিজের মূর্তি ভাঙা) অথবা ধর্মবিরোধী নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু তার জীবনের সাথে সেই ঘটনার সংযোগ প্রতিষ্ঠার মতো পরিস্থিতি বিদ্যমান ছিল।’৮

যদিও এমন বিষয়াদি সংযুক্ত করে সক্রেটিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রণয়ন করা হয়নি, তবু অভিযোগটি ভেতরে ভেতরে মোটামুটিভাবে তা-ই ছিল। সক্রেটিস এর জবাব দিয়েছেন ইউথিফ্রোতে। কিন্তু সেই জবাব দাঁড়িয়েছে এক অজ্ঞেয়বাদীর জবাব, তা কোনো ধর্মপ্রবর্তকের জবাব নয়। এটি মূলতই দার্শনিকের জবাব। সুতরাং, আমরা দেখতে পাই যে সক্রেটিসের বিরুদ্ধে পরোক্ষে এবং ইঙ্গিতে যে অভিযোগ আনয়ন করা হয়েছিল, যেমন রাজনৈতিক অভিযোগ (গণতন্ত্রবিরোধিতা, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা, ধনিক-গোষ্ঠীবাদীদের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ, স্বৈরাচারীদের শিক্ষাদান করে স্বৈরাচারী শাসন পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ) তা সত্য ছিল না; তা ছিল ভুল প্রত্যক্ষণ। হয়তোবা এথেন্সে দুর্দৈবের জন্য সক্রেটিসকে ‘বলির পাঁঠা’ করা হয়েছিল। রবিন ওয়াটারফিল্ড লিখেছেন, ‘আমার ভাবনাটি এমন যে অ্যাপলোভক্ত সক্রেটিস স্বেচ্ছায় “‍বলির পাঁঠা’’ হিসেবে মৃত্যুকে মেনে নিয়েছিলেন।... যুদ্ধপরবর্তী সাময়িক অতি উৎসাহে এথেনীয়রা হয়তো ভেবেছিল, একজন গোলযোগ সৃষ্টিকারী চিন্তকের জীবন নিয়ে নগরীর মধ্যে সৃষ্ট বিভেদ মেটানো যাবে, আপাতদৃষ্টিতে বিভিন্ন রাজনীতিবিদের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টির যে অঙ্গীকার আছে, তা প্রতিষ্ঠা করা যাবে এবং সেই প্রক্রিয়াটিকে তিনি নিজেই যেহেতু অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছেন, তাই তাকে বাস্তবায়িত হতে দেওয়াই যথাযথ। তিনি সহজেই পালিয়ে যেতে পারতেন, তা না করে তিনি নিজেকে খুন হতে দিলেন।’৯

তার বিরুদ্ধে আনীত অধার্মিকতার অভিযোগও (‘‌নগরী কর্তৃক স্বীকৃত দেবতাদের স্বীকার না করা’ এবং ‘নতুন দৈবিক সত্তার সৃষ্টি করা’) সঠিক ছিল না, যদিও সত্তাসারে তা ছিল বিপরীতধর্মী এবং বিপজ্জনক। তার বিপ্লবাত্মক ধর্মপ্রত্যয়ের ভিত্তি ছিল তার দর্শন; তা ছিল সত্তাসারবাদ; তা ছিল যুক্তির আনুগত্য, যুক্তিহীন বিশ্বাসের সাথে বিচ্ছেদ। পরিশেষে তা-ই তিনি ধারণ করেছেন, তা-ই তিনি আমৃত্যু অনুসরণ করতে চেয়েছেন, তার জন্যই তিনি মৃত্যুবরণ করতেও সম্মত ছিলেন। তিনি তার জবানবন্দিতে বলেছেন: ‘‌সহবাসী এথেনীয়গণ, আপনাদের প্রতি রয়েছে আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা; কিন্তু আপনাদের নয়, বরং আমার দেবতাকেই মান্য করব আমি; যতদিন আমার নিঃশ্বাস থাকবে, যতদিন আমি সমর্থ থাকব, দর্শনের অনুশীলন আমি পরিত্যাগ করব না, আপনাদের মধ্যে যার সাথেই আমার সাক্ষাৎ ঘটবে, তাকে, আমার অভ্যস্ত কথা বলে উদ্বুদ্ধ করা এবং পথ দেখানো থেকে বিরত হব না।’ আমরা দেখেছি এটিই ছিল সক্রেটিসের মিশন; অন্য যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিল তাদের তিনি ছদ্ম অভিযোগ মনে করেছেন। আমরাও তা-ই দেখতে পাই। সত্যিকার অর্থে তিনি দর্শনের বেদিতেই শহীদ হয়েছিলেন এবং তার জন্য প্রস্তুতও ছিলেন; সেই অভিযোগও মেনে নিয়েছিলেন। লেসি বল্ডউইন স্মিথ লিখেছেন যে ‘‌শাহাদাত এবং সেই সাথে পৃথিবীর প্রথম রেকর্ডকৃত শহীদের প্রত্যয় পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়ে প্লেটোর মস্তিষ্ক থেকে আবির্ভূত হয়েছিল এবং আজকের দিন পর্যন্তও সক্রেটিসের কৃতী—তার ক্রিয়াকর্মে বরফশীতল উদ্দেশ্য প্রণোদনা, তার মৃত্যুর নাটকীয় স্টাইল এবং যে উদ্দেশ্য মনে রেখে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন তা শাহাদাতের ইতিহাসকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছে, তাকে হতভম্ব করে রেখেছে।’১০ হতভম্ব করা ঘটনাই বটে! আমরা বলছি বটে, সক্রেটিস দর্শনের শহীদ, কিন্তু অভিযোগকারীদের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছিল ভিন্ন কিছু (অধার্মিকতা এবং তরুণদের কলুষিত করা), এথেন্সবাসী জুরিদের ‘যৌথ অবচেতনে’ সক্রেটিসের বিরুদ্ধে অভিযোগও ছিল অন্য কিছু (সক্রেটিসের গণতন্ত্রবিরোধিতা, ধনিক গোষ্ঠীবাদের সমর্থন, তার নেতাদের শিক্ষাদান, প্রতিষ্ঠিত দেবতাদের স্থানে নতুন দেবতার আবির্ভাব ঘটানো), আর মৃত্যুদণ্ড মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে, তথা নিজেকে শহীদ হতে দেওয়ার ক্ষেত্রে সক্রেটিসের দৃষ্টিকোণ ও প্রণোদনাও ছিল ভিন্ন (এথেন্সের সংবিধানের প্রতি, তথা গণতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য; নৈতিক উন্নয়ন সাধনে, নৈতিক জীবনযাপনে মানুষজনকে উদ্বুদ্ধ করা, সত্য প্রতিষ্ঠা করা, এথেন্সে শান্তি ও বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা।) আমরা এভাবেও প্লেটোর লেখা জবানবন্দিকে পাঠ করতে পারি।

আমরা প্লেটো-লিখিত ও জেনোফন- লিখিত জবানবন্দির মধ্যে পরস্পরবিরোধিতা লক্ষ করে এর ঐতিহাসিক মাত্রার ঊনতা দেখতে পাই। জেনোফনের লেখা সক্রেটিসের জবানবন্দির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্লেটোর লেখা হতে ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। (বলে রাখা প্রয়োজন যে প্লেটো সক্রেটিসের বিচারের সময় সশরীরে উপস্থিত ছিলেন, আর জেনোফন ছিলেন না, তিনি হিপ্পোনিকিউস-পুত্র হারমোজিনিজের কাছ থেকে ঘটনা শুনে বর্ণনা করেছেন।) প্লেটো-লিখিত জবানবন্দি সক্রেটিস জীবনের প্রতি অত্যন্ত আশাবাদী মানুষ হিসেবে প্রতিভাত হন, কিন্তু জেনোফনের লেখা থেকে ধারণা হয় যে তিনি মৃত্যুকে স্বাগত করছেন, আহ্বান জানাচ্ছেন। ‘‌মৃত্যুর চেয়ে নিকৃষ্ট এক জীবনের সম্প্রসারণের চাইতে আমি মৃত্যুকেই বেছে নেব।’১১ ‘‌‍...অন্যদিকে তিনি মনে করেননি, অনমনীয়ভাবে মৃত্যুকে প্রতিহত করার চেষ্টা করা উচিত, বরং তিনি বিশ্বাস করেছেন যে এটিই হলো মৃত্যুবরণ করার সুযোগ্য সময়।’১২ দ্বিতীয় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুজনের বর্ণনা ভিন্ন হয়েছে। তা হচ্ছে সক্রেটিস কর্তৃক শাস্তি হিসেবে জরিমানার প্রস্তাব। প্লেটোর লিখিত জবানবন্দিতে আছে: ‘‌সহবাসী এথেনীয়গণ, একটু সময় দিন—এখানে প্লেটো উপস্থিত আছে, তার সাথে ক্রিতো, ক্রিতোবুলাস এবং অ্যাপলোদোরাসও আছে; তারা আমাকে তাড়া দিচ্ছে আমি যেন জরিমানা হিসেবে ৩০ মিনা প্রস্তাব করি—এ পরিমাণ অর্থের জন্য তারা জামিনদার হবে বলে বলছে। সুতরাং, আমি উল্লেখিত পরিমাণ জরিমানাই প্রস্তাব করছি এবং আশা করি তা পরিশোধ করার জন্য এই ব্যক্তিগণই উপযুক্ত জামিনদার বলে বিবেচিত হবে।’ আর জেনোফন লিখছেন: ‘‌...স্বল্পতর দণ্ড প্রস্তাব করার জন্য আদিষ্ট হয়ে তিনি নিজে কোনো দণ্ড প্রস্তাব করেননি, এমনকি তার বন্ধুবান্ধবদেরও প্রস্তাব করতে দেননি; বরং তিনি বলেছেন যে স্বল্পতর দণ্ডের প্রস্তাব করার অর্থ দাঁড়াবে তিনি দোষ স্বীকার করছেন।’১৩

আমরা প্লেটোলিখিত জবানবন্দিতে সক্রেটিসকে এক পর্যায়ে প্রতিশোধস্পৃহু হিসেবে দেখতে পাই; তা সক্রেটিসের বিনয়ী, দর্শনপ্রিয়, চরিত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না। এসব অসামঞ্জস্যকে সাময়িকভাবে স্মরণ রেখেই আমরা প্রশ্ন করতে পারি, প্লেটো কেনই বা ঘটনার বিকৃত উপস্থাপনা করতে চাইবেন? তার উদ্দেশ্য যদি হয় গুরুর জীবন ও দর্শনকে শুদ্ধ, ন্যায়পরায়ণ হিসেবে তুলে ধরা তাহলে যেকোনো অতিচিত্রণ, মিথ্যা-চিত্রণই তো তার সেই উদ্দেশ্যসাধনের পথে বাধা হয়ে দেখা দিত। বারনেটের কথায় বলা যায়, ‘‌প্লেটোর প্রধান লক্ষ্য নিশ্চয়ই ছিল সক্রেটিসের ব্যক্তিত্ব ও ক্রিয়াকাণ্ডকে সত্যিকার আলোতে আলোকিত করে তার স্মৃতিকে অম্লান করার লক্ষ্যে সাফাই গাওয়া; এবং যখন জবানবন্দি প্রকাশিত হয় তখন নিশ্চয়ই বিচারে উপস্থিত লোকজনের অনেকেই জীবিত ছিল, ফলে তিনি যদি সক্রেটিসের মনোভাব এবং তার সাফাই জবাবের প্রধান প্রধান বিষয়ে কাল্পনিক বর্ণনা দিতেন তাহলে তার উদ্দেশ্যই তো মার খেত।’১৪ আমাদের আরো মনে হয়েছে যে সক্রেটিসের যে অবিনয়ের কথা বলা হয়, একগুঁয়েমির কথা বলা হয়, তা তার সত্যের প্রতি অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। সত্য, ন্যায়ের ব্যাপারে সক্রেটিস যে কোনোক্রমেই সমঝোতা করেননি তারই নির্দেশক তা। জরিমানা দেওয়ার ব্যাপারে প্লেটো ও জেনোফনের বর্ণনার ভিন্নতাকে আমরা হারমোজিনিজের ঘটনা অনুধাবনের ভিন্নতা হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারি। আমরা দেখেছি এ নিয়ে প্লেটোর বর্ণনায়ও কিছুটা ধোঁয়াটে ভাব আছে। সক্রেটিস প্রথমে এক মিনা, পরে প্লেটো, ক্রিতো প্রমুখের উপরোধে ত্ৰিশ মিনা দণ্ড পরিশোধের প্রস্তাব করেন এবং সেটি তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধের প্রস্তাব করা হয় না—প্লেটোর বন্ধুরা জামিনদার হবে বলে বলা হয়। এটিই স্বাভাবিক যে প্লেটোর বন্ধুবান্ধব সক্রেটিসের প্রাণ বাঁচানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। তাতে এমন প্রস্তাব করাই স্বাভাবিক। কিন্তু সক্রেটিস অভিযোগ মেনে জরিমানা প্রস্তাব করবেন, তাতে সন্দেহ জাগে। তবে কি তার গুরুর প্রতি দায়িত্ব পালনে, তথা তার জীবন রক্ষার প্রচেষ্টায় প্লেটো যে কোনো অবহেলা করেননি সেই কথা বলতেই এই বিষয়টি তার লেখা জবানবন্দিতে যুক্ত করেছিলেন? এর সমাধান আমরা জানি না। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সন্দেহবাদীর বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর হিসেবে গাথ্রি যা বলেন তা-ই আপাতত আমাদের কাছে এক সুষ্ঠু ও যোগ্য বিশ্লেষণ বলে বিবেচিত হতে পারে। গাথ্রি লিখেছেন, ‘‌‍...আরেকটি বহুলপোষিত মত আছে যে বিচারে সক্রেটিস আত্মপক্ষে যা বলেছিলেন তা পুনর্নির্মাণ করা প্লেটোর লক্ষ্য ছিল না, বরং দার্শনিকপ্রবরের নিজের জবানবন্দিতে পুরো জীবনকে সাজিয়ে আমাদের তার মিশন সম্পর্কে অবগত করা, তার জানা ‘সর্বোত্তম, সবচেয়ে জ্ঞানী এবং সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ’ মানুষটির সামগ্রিক মহত্ত্ব, অনন্য ব্যক্তিত্ব বর্ণনা করাই ছিল তার উদ্দেশ্য। বলা চলে শেষ বিচারে জবানবন্দি বাস্তবিক পক্ষে তার জীবন ও শিক্ষার পক্ষে সাফাই জবাব বই অন্য কিছু নয়...।’১৫ সক্রেটিসের এই জবানবন্দি, তার শাহাদত যুগে যুগে মানুষজনকে দার্শনিক চেতনায় প্রবুদ্ধ হতে, ন্যায়পরায়ণ জীবনযাপন করতে, বিনয়ী হতে, নিজের অজ্ঞতা এবং মনুষ্যজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হতে সাহায্য করেছে। পপার এই রচনাটির প্রতি তার প্রশংসা বর্ষণ করতে গিয়ে বলেছেন: ‘‌যাকে তাঁর সহবাসী ৫০০ জন এথেনীয় জুরি সদস্য মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল, সেই সক্রেটিসকেও আমি ভালবেসেছিলাম, তাকে প্রশংসায় ভূষিত করেছিলাম। তার সাফাই বক্তৃতা, যা তার ছাত্র প্লেটো সক্রেটিসের জবানবন্দি নামে প্রকাশ করেছিল—আমার জানামতে সুন্দরতম দার্শনিক রচনা।’১৬

পরিশেষে আমরা পূর্বে বর্ণিত আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সক্রেটিসের শাহাদতকে উপস্থাপন করতে চাই: সক্রেটিস ছিলেন মূলত দর্শনের শহীদ; তার দার্শনিক মিশনই মূলত তাকে এথেনীয় সমাজের প্রতিপক্ষ করে তুলেছিল। তাকে যে রাজনৈতিকভাবে বিধ্বংসী মনে করা হয়েছিল, তা ছিল একটি ভুল; তাই গণতন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও গোষ্ঠীবাদী মনে করে গণতন্ত্রীরা তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। সক্রেটিসের দর্শন ছিল তার মিশন, তার রাজনৈতিক লক্ষ্য ও তার ধর্মীয় ধারণার এক সংমিশ্রিত রূপ। এথেন্সবাসীর ‘যৌথ অবচেতনে’-এর সব ক্ষেত্রেই তাকে বিধ্বংসী মনে হয়েছিল তাই তারা তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করেছিল। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছিল অজুহাত মাত্র আর সক্রেটিসের দাইমনিয়ন তার দোষী সাব্যস্ত করাতে কোনো ভূমিকাই পালন করেনি।

আমরা যে সক্রেটিসকে দর্শনের শহীদ বলছি তার আরো একটি ব্যাখ্যা হলো সক্রেটিস মনে করেছিলেন তার সকল কাজের লক্ষ্যই ছিল তার দর্শন, তার দর্শনের অনুশীলন, তার প্রতিষ্ঠা। তিনি বিচারালয়ে বলেছিলেন:

ধরুন, এই কথার মুখে আপনারা (জুরি ও বিচারক) বললেন: ‘সক্রেটিস, এইবার আমরা না হয় অ্যানিতাসের কথা শুনলাম না। আমরা আপনাকে ছেড়ে দিতে প্রস্তুত, কিন্তু কেবল এই শর্তে: যেসব বিষয়ে আপনি অনুসন্ধান চালান তা বাদ দিতে হবে, আপনি আর দর্শন অনুশীলন করতে পারবেন না; আর তা করতে গিয়ে আপনি যদি ধরা পড়েন, তবে আপনার মৃত্যু অবধাররিত।’ ‘বেশ, আমি এখনই যে কথা বললাম—ওই সব শর্তে আপনারা যদি আমাকে ছেড়ে দেন তাহলে তার উত্তরে আপনাদের আমি বলব: সহবাসী এথেনীয়গণ, আপনাদের প্রতি রয়েছে আমার গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, কিন্তু আপনাদের নয়, বরং আমার দেবতাকেই মান্য করব আমি; যতদিন আমার নিশ্বাস থাকবে, যতদিন আমি সমর্থ থাকব, দর্শনের অনুশীলন আমি পরিত্যাগ করব না, আপনাদের মধ্যে যার সাথেই আমার সাক্ষাৎ ঘটবে, তাকে, আমার অভ্যস্ত কথা বলে উদ্বুদ্ধ করা এবং পথ দেখানো থেকে বিরত হব না।’

আমাদের সন্দেহ করার কি কোনো কারণ ঘটে যে দর্শন ব্যতীত অন্য কিছু সক্রেটিসের কাছে সমগুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছিল?


তথ্যপঞ্জি

১. G. Vlas tos, His torical Socrates and Athenian Democracy in Socrates: Critical Assessments. Vol. II, Routledge, 1996, P. 40

২. E. M. Wood and N. Wood, Socrates and Democracy: A Reply to Gregory Vlas tos in Socrates: Critical Assesments, Routledge, 1996, P. 40

৩. Karl Popper, The Open Society and Its Enemies, Vol. II Routledge, (5th edition Revised), 1966, 193

৪. এখানে যে গ্রিক শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, তা হলো ‘‌নমিজেইন’। এর অর্থ যেমন বিশ্বাস করা, তেমনই স্বীকার করা ও সম্মান করাও হয়। এটি নমস, তথা আচার প্রথা, আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেক্ষেত্রে ‘‌নমিজেইন’ ভেতরের বিশ্বাস আবার বাইরের আচার পালন, স্বীকৃতিও বুঝাতে পারে। সক্রেটিস এখানে এ অস্পষ্টতা নিয়ে মেলিতাসকে প্রশ্ন করেন।

৫. Daimonia হলো বিশেষ্য Daimonic-এর ক্লীব বহুবচন। এখানে Daimon- দেব/দেবগোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে বোঝানো হয়েছে। এ Daimon রা দেবতা হতে পারে। দেবতাদের বা মানুষের সন্তানসন্তুতিও হতে পারে।

৬. G. Vlas tos, Socratic Piety in Socrates: Critical Appraisal, Vol. II, Routledge, 1996, P. 149

৭. Ibid P 149

৮. John, Burnet, Greek Philosophy: From Thales to Plato, Ibid, P. 187

৯. Robin, Waterfield, Why Socrates Died: Dispelling the Myths, W. W. Norton and Company, New York, London, 2009, P. 204

১০. Lacy Baldwin Smith, Fools, Martyrs, Traitors, Alfred A. Knopf, New York, 1997, P 23

১১. Xenophon, Apology of Socrates, P 8

১২. Xenophon, Ibid 22

১৩. Xenophon, Ibid 23

১৪. Burnet, Ibid  143

১৫. W.K.C. Guthrie, Ibid  79

১৬. Popper, Karl, How I became a Philosopher without Knowing In all life is Problem solving, Routledge, London and New York, 1999. 1

[বর্তমান রচনাটি আমিনুল ইসলাম ভুইয়ার সক্রেটিস: জীবন মৃত্যু দর্শন গ্রন্থের একটি অধ্যায়ের সংক্ষেপিত রূপ]

53

আমিনুল ইসলাম ভুইয়া: লেখক ও অনুবাদক