ধর্মহীনতা ও তরুণদের বিপথগামী করাটাই ছিল প্রধান অভিযোগ। শাস্তি হিসেবে সক্রেটিসকে মৃত্যুদণ্ড দেয় এথেন্সের আদালত। সেটা কার্যকরও করা হয়। হেমলক পানে সক্রেটিসের মৃত্যু চিন্তার ইতিহাসে সবচেয়ে পরিচিত ও প্রভাবসঞ্চারী ঘটনার একটি। আর কেবল এ একটি সিদ্ধান্তই যেন ঝাপসা করে দেয় এথেন্সের সব বৌদ্ধিক ও রাজনৈতিক প্রাপ্তিকে। কিন্তু সক্রেটিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঠিক কতটুকু যৌক্তিক, নাকি অন্য কোনো বাস্তবতা লুক্কায়িত আছে—সে প্রশ্নটা থেকেই যায়। প্রথমত, সে সময়কে বিবেচনায় নিলে ধর্মহীনতা কোনো অভিযোগের মধ্যেই পড়ে না আর দ্বিতীয়ত, তরুণদের পথভ্রষ্ট করাটাও ঠিক স্পষ্ট না। তাই সক্রেটিসের মৃত্যুদণ্ডে তৃতীয় কোনো কারণ থাকা নেহাত অস্বাভাবিক না। বরং তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও এথেন্সের রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে সমালোচনা তাকে শাসকদের শত্রু করে তোলে। ফলে গণতন্ত্রপন্থীরা ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা তাকে সরাতে মনস্থ করেন। 

সক্রেটিসের মৃত্যু সম্পর্কে জানতে সবচেয়ে বিস্তারিত উৎস হতে পারে প্লেটোর অ্যাপোলজি। কিন্তু অনেক ঐতিহাসিকই মনে করেন এথেন্সের আদালতে সক্রেটিসের আলাপ আলোচনার প্লেটোনীয় সংস্করণ অনেকটাই কাল্পনিক। তাই তার ওপর অন্ধভাবে আস্থা রাখা কিংবা মাত্রাতিরিক্ত ভরসা করাটাও ঠিক উচিত হবে না। ছাত্র হিসেবে শিক্ষকের প্রতি পক্ষপাত তো থাকতেই পারে। তার পরও প্লেটো যেহেতু একজন প্রত্যক্ষদর্শী। জবানবন্দি নিয়ে লিখেছেন মৃত্যুর অল্প কিছু দিনের মধ্যেই। ফলে অন্যসব উৎসের তুলনায় তার রচনার গ্রহণযোগ্যতা বেশি। অন্তত আরেক বিস্তৃত উৎস জেনোফনের ডিফেন্স অব সক্রেটিসের তুলনায় এগিয়ে।

সক্রেটিসের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ, তিনি প্রচলিত ধারার দেবদেবীতে বিশ্বাস করেন না। বরং এমন কোনো দেবতার কথা শোনান, যা নগরবাসী আগে শোনেনি। অভিযোগটির মধ্যে এথেনীয় না, অনেকটাই মধ্যযুগের ইউরোপীয় ঘ্রাণ। প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকেই গ্রিসের ধর্মীয় জীবনের সঙ্গে মিশেছিল নানা ধরনের দেবদেবী। কে কোথায়, কার উপাসনা করছে তাতে কারো আপত্তি ছিল না। বাণিজ্যিক সম্পর্কের সূত্রে এথেন্সের সঙ্গে বিদেশী সংস্কৃতির যোগাযোগ ছিল, যার সূত্র ধরে হাজির ছিল দেশী ও বিদেশীদের নানা ধর্ম। ধর্মীয় এ বৈচিত্র্যের পাশাপাশি বিস্তার ঘটেছিল ধর্মের প্রতি বিরাগ। বিশেষ করে পেলোপনেসীয় যুদ্ধের পরই সৃষ্ট প্লেগের কারণে অনেকে ধর্মবিরুদ্ধ কাজ করতে থাকে। তাছাড়া ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে মশকরা করার ঐতিহ্য তো গ্রিসে আগে থেকেই বিদ্যমান। মহকবি হোমার, ইউরিপিডিস ও পিন্ডারের মতো কবিরাও গ্রিক দেবতাদের নানাভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। নাট্যকার এস্কিলাস দেবতা জিউসকে হেয় করে লিখেছেন ওরেস্টিয়ান ট্রিলজি। দেবতাদের নিয়ে হাস্যরস করে নাটক ও কবিতা লেখা পরিণত হয়ে গিয়েছিল সাধারণ চর্চায়। এমনকি যে মেলিতাস সক্রেটিসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, সে মেলিতাসেরও ধর্মবিরোধিতা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা ছিল না। ফলে ধর্মহীনতা সক্রেটিসের বিরুদ্ধে ঠিক যৌক্তিক অভিযোগ না। 

সক্রেটিসের ধর্মবিশ্বাস ছিল শুদ্ধবাদী। মৃত্যু-পরবর্তী জীবন সম্পর্কে দুটি বিষয়কে সামনে আনেন তিনি। প্রথমটি সম্পূর্ণ ভিন্ন জগৎ ও দ্বিতীয়টি কিছুই না থাকা। কিন্তু এটা তো নতুন কিছু না। একই কথা বলেছেন গ্রিসে ধার্মিক হিসেবে সুপরিচিত চরিত্র সেফালাস, যাকে প্লেটো তার রিপাবলিকে স্মরণ করেছেন। একই মতের জন্য একজন মৃত্যুদণ্ড পাবে আর একজন সম্মানিত থাকবে, এটা অসম্ভব। ‌ডিফেন্স অব সক্রেটিস বইয়ে জেনোফন দাবি করেন, এথেন্সের প্রচলিত বিশ্বাসের বাইরে নতুন কিছুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি সক্রেটিস। ফলে ধর্মহীনতা ও ধর্মীয় অবমাননার যুক্তিটা ঠিক ধোপে টেকে না।

তরুণদের বিপথগামী করার অভিযোগটাও নাকচ করে দেয়া যায় সহজে। সক্রেটিস নাকি তরুণদের এমনভাবে প্রভাবিত করছেন, যেন তারা বাবা-মাকে সম্মান না করে। সক্রেটিসের কারণে তাদের আদবকায়দা বিকৃত হচ্ছে। এ অভিযোগের পাটাতন মূলত এ ধারণার জন্য যে সক্রেটিস একজন সোফিস্ট ছিলেন। সে সময় সোফিস্টরা সম্মানীর বিনিময়ে অলংকারশাস্ত্র ও অন্যান্য বিদ্যা শিক্ষা দিতেন। সোফিস্টদের ঘৃণা করা হতো তাদের কার্যক্রমের জন্য। কিন্তু সক্রেটিসের মধ্যে সোফিস্টদের কোনো বৈশিষ্ট্যই ছিল না। তিনি মানুষকে সবার সামনেই শিক্ষা দিতেন। প্রায় সারাটা দিন ব্যয় করতেন বাজারে। যারা আগ্রহী তাদের সঙ্গেই আলাপ করতেন। কোনো ধরনের সম্মানী ছাড়া। এমনকি শিক্ষার বিষয়াবলি নিয়েও সক্রেটিস ছিলেন সোফিস্টদের তুলনায় আলাদা। তার পরও তাকে তরুণদের পথভ্রষ্ট করার দায়ে অভিযুক্ত হতে হলো। জবানবন্দির সময় সক্রেটিস আহ্বান করেন, যারা তার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন, তারা যেন সাক্ষী দেন। কিন্তু কোনো সাবেক ছাত্র কিংবা তাদের পরিবারের কেউ বিচারের সময় সাক্ষী দিতে এগিয়ে আসেননি। এটাই প্রমাণ করে সক্রেটিস তরুণদের বিপথগামী করছেন, এমন অভিযোগ তারা নিজেরাও বিশ্বাস করত না।

অর্থাৎ সক্রেটিসের বিরুদ্ধে আনীত দুটি অভিযোগই উড়িয়ে দেয়ার মতো। তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার প্রধান কারণ ছিল দুই বিখ্যাত অভিজাত ও একজন দেশদ্রোহীর সঙ্গে তার সম্পর্ক। পেলোপনেসীয় যুদ্ধের পর ৪০৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অভিজাতদের একটা দল এথেন্সের ক্ষমতা দখল করে, যারা পরিচিতি পায় থার্টি টাইরÅান্টস নামে। এ অভিজাত আন্দোলনের শীর্ষ দুই নেতা ক্রিতিয়াস ও কারিমিদিজ ছিলেন সক্রেটিসের ছাত্র। সক্রেটিস নিজেও ছিলেন সে অভিজাততন্ত্রের সমর্থক। ৪০৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে অভিজাততন্ত্র উচ্ছেদ করা হয় ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক স্থিতাবস্থার জন্যই জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাধারণ ক্ষমার কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এর মানে এই নয় যে নতুন রাজনীতিকরা থার্টি টাইরÅান্টদের কথা ভুলে গেছেন। ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারাই অদৃশ্য প্রতিশোধ নিতে চাইলেন। অভিজাতদের শিক্ষক হিসেবে নিশ্চয়ই তিনি তাদের পক্ষে ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাছাড়া অভিজাততন্ত্রের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে এথেন্সে ১ হাজার ৫০০ জন সম্পদশালী মানুষ নিহত হয় ও ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। অথচ সক্রেটিসের তখন কিছুই হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই নতুন শাসকদের সন্দেহের তীর ছিল সক্রেটিসের দিকে। অর্থাৎ অভিজাত ক্রিতিয়াস ও কারিমিদিজের সঙ্গে থাকা সম্পর্কই সক্রেটিসের পরিণতির পেছনে অনেক বেশি যৌক্তিক কারণ। প্রথমত, নতুন শাসকরা ভেবে নিয়েছিল সক্রেটিস এথেনীয় গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান রাজনীতিবিদ ও তাদের কার্যক্রমের সমালোচনা তাদের সন্দেহকে দৃঢ় করেছে। শাসকগোষ্ঠী মনে করেছিল সক্রেটিস জনতাকে ক্ষেপিয়ে তুলতে চাচ্ছেন বিদ্যমান শাসকের বিরুদ্ধে। সক্রেটিসের অবস্থান ছিল তখনকার এথেনীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী। তিনি এমন ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে কর্মকর্তারা নির্বাচিত হয়। জেনোফনের ডিফেন্স অব সক্রেটিসে দেখা যায়, সক্রেটিস তার অনুসারীদের প্রতিষ্ঠিত আইনকে অবজ্ঞা করতে প্ররোচিত করতেন। বিদ্যমান নির্বাচন ব্যবস্থার পক্ষে ছিলেন না তিনি। তার প্রধান যুক্তি ছিল কেউ নির্মাতা ও বংশীবাদককে নির্বাচন করে না। পৃথিবীর কোনো শিল্পের জন্যই কেউ কাউকে নির্বাচন করে না। অথচ এসব কাজের তুলনায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অনেক বড় কিছু। রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ছোটখাটো ভুল অনেক বড় পরিণাম নিয়ে আসতে পারে। ফলে যদি কম গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রেও মেধাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়, তাহলে এথেনীয় রাজনীতিতেও মেধাকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। রাজনীতিবিদ নির্বাচিত হবে তাদের যোগ্যতা বিবেচনায়।

সক্রেটিস প্রায়ই বিষয়টি নিয়ে সরব ছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি তার জনপ্রিয় যুক্তিকৌশলকেই ব্যবহার করেছেন অস্ত্র হিসেবে। রাজনীতিবিদ অ্যানিতাসের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ অনুসিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে গণতান্ত্রিক শাসক পেরিক্লিজ আসলে এথেনসের নৈতিক গুণাবলির অগ্রগতি সাধন করতে সক্ষম হননি। আলোচনার এক পর্যায়ে অ্যানিতাস বলেন, ‘‌আমি তোমাকে সতর্ক করে দিচ্ছি সক্রেটিস। সম্ভবত পৃথিবীর প্রতিটি শহরেই মানুষের ভালো করার চেয়ে খারাপ করা সহজ। আর সেটা এথেন্সের জন্যও সত্য।’ এভাবে অ্যানিতাসই একমাত্র নয়, যিনি সক্রেটিসকে হুমকি দিয়েছেন। সমকালীন রাষ্ট্রনায়ক ক্যালিক্লিজের সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে সক্রেটিস দাবি করেন, তার সময়ে তিনিই একমাত্র আদর্শ রাজনীতিক। কথাটা শুনে ক্ষেপে যান ক্যালিক্লিজ। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, সমকালীন রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্যের কারণে সক্রেটিসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হতে পারে। সক্রেটিসও স্বীকার করেছেন, তার এ ধরনের আলোচনা তার অনেক শত্রু তৈরি করেছে। তারা অনেকেই বিপজ্জনক। সত্যিকার অর্থেই এথেনীয় রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে সক্রেটিসের এমন সীমাহীন সমালোচনার কারণে অভিজাতরা তাকে অবিশ্বাস করতে থাকে।

পেলোপনেসীয় যুদ্ধের পর এথেন্স উল্লেখযোগ্য ভূমি হারায়। সে সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরো বেড়েছে সৃষ্ট মহামারীর কারণে। মহামারীতে মারা যায় এথেন্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় নানাভাবে। ঠিক সে সময়ে থার্টি টাইরÅান্টদের শাসন আরো ক্রোধ তৈরি করেছে জনমনে। তারা অনেককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, অনেককে দিয়েছে নির্বাসন। সে সরকারকে উচ্ছেদ করা হয় ৪০৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে। এথেন্স তখন ভঙ্গুর নগররাষ্ট্র, যার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অনেকটাই দুর্বল। রাজনীতিবিদরা দেশের মধ্যেকার বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন। ৪০৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অপরাধীদের ক্ষমা ঘোষণা করা হয় স্থিতিশীলতা তৈরির জন্যই। এমন পরিস্থিতিতে থার্টি টাইরÅান্টদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি রাষ্ট্রের সমালোচনায় মুখর থাকাকে হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করেছিল এথেন্স সরকার। সক্রেটিসের সব ধরনের সক্ষমতা ছিল একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করার। সক্রেটিস নিজেই নিজেকে রাষ্ট্রের মুখের সামনে ভনভন করতে থাকা ডাঁশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। গণতন্ত্রের সমালোচনা, গণতান্ত্রিক ব্যক্তিদের সমালোচনা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সমালোচনা সক্রেটিসকে রাজনৈতিকভাবে হুমকি হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। 

কেউ মনে করতে পারেন, সক্রেটিসের মৃত্যুর পেছনে সোফিস্টদের শক্ত ভূমিকা আছে। এ কথা সত্য, সক্রেটিস সোফিস্টদের সমালোচনা করতেন বলে সে সময়কার সোফিস্টরা তার ওপরে ক্ষেপে ছিল। কিন্তু সক্রেটিসকেই প্রায়ই সোফিস্ট হিসেবে আখ্যা দেয়া হতো। এজন্যই দেখা যায, তার মৃত্যুদণ্ডের আগেই অ্যারিস্টোফেনিজ ক্লাউড কমেডিতে সক্রেটিস দ্য সোফিস্ট হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া। ফলে শত্রুজ্ঞান করলেও সক্রেটিসকে নিয়ে বাড়াবাড়ি তাদের নিজেদের জন্যই নেতিবাচক ছিল। সক্রেটিসের মৃত্যুদণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকাই বেশি যৌক্তিক ও অর্থবহ। অর্থাৎ খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে সক্রেটিসের মৃত্যুর পেছনে দৃশ্যমান কারণগুলো নেহায়েত সাদাসিধা। সেখানে সত্যিকার কারণ ছিল রাজনৈতিক। সেটা প্রথমত, থার্টি টাইরÅান্টদের সঙ্গে তার সম্পর্ক, যা প্রমাণ করে তিনি নিজেও অভিজাততন্ত্রী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি গণতন্ত্রের ব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠান ও শাসকদের সমালোচনা করেছেন। সবিশেষ সেখানকার রাজনৈতিক অস্থিরতা সরকারকে একটা প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দেয়। সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ হলেও থামিয়ে দেয়া হয় বিরুদ্ধমত। বলা যায় সক্রেটিসের রাজনৈতিক মতপ্রকাশের জন্য সময়টাই সঠিক ছিল না। 

[ডেভিড বোউলেজ রচিত Wrongfully Accused: The Political Motivations Behind Socrates’ Execution প্রবন্ধ অবলম্বনে]

আহমেদ দীন রুমি: লেখক