ভি এস নাইপলের তিনটি ভারতগ্রন্থ— An area of Darkness (1964), India: A Wounded Civilization (1977), India: a Million Mutinies Now (1990)।
পিতৃভূমি ভারতে তাঁর প্রথম আগমন ১৯৬২ সালে, তখন দারিদ্র্য তাঁকে আতঙ্কিত করেছিল। তিনি যে ভারতকে তখন আবিষ্কার করেছেন, সেখানে ভারতীয়রা ‘যেখানে সেখানে মল ত্যাগ করে।’ ভারত ও ভারতবাসী সম্পর্কে এত নোংরা ও হীনধারণা তিনি পোষণ করেছেন যে, তাঁর প্রথম ভারতগ্রন্থ অ্যান এরিয়া অব ডার্কনেস যখন নিষিদ্ধ হয়, উদারপন্থী বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই কাজটিকে যৌক্তিক মনে করেছেন। তিনি পিতৃভূমিতে একাধিকবার এসেছেন এবং এরই রেশ ধরে তিনি ভারতকে একটি বর্বর সমাজ হিসেবে দেখেছেন, এখানে কোনো আইন নেই, ভারত আবার আবিষ্কার করছে দেশটি নির্মম এবং ভয়ঙ্কর সহিংস। ইন্ডিয়া: এ ওন্ডেড সিভিলাইজেশন ভারতের ইতিহাসের ওপর বর্বরোচিত ঘটনাগুলোর প্রভাব তুলে ধরেছেন। ইন্ডিয়া: এ মিলিয়ন মিউটিনিস নাউকে এখন ধরা হচ্ছে আধুনিক ভারতকে অনুধাবন করার জন্য একটি ধ্রুপদ গ্রন্থ। তাঁর ভারতগ্রন্থ যখন তাঁকে শত্রু হিসেবে শনাক্ত করেছে, তার মা তাঁকে দিব্যি দিয়েছেন, ভারত নিয়ে আর নয়, তিনি যেন অন্য কোনো বিষয় নিয়ে লেখেন। ভারত এমনকি তার মাকেও যতই টানুক না কেন তিনি ত্রিনিদাদে কেবল একটিমাত্র হিন্দি শব্দ ব্যবহার করেছেন— বেটা।
নিচে ভারত নিয়ে তার বিভিন্ন সময়ে লেখা বই সম্পর্কে যেসব সাক্ষাত্কার প্রকাশিত হয়, সেসবের চুম্বক অংশ এখানে পত্রস্থ হলো। এসব সাক্ষাত্কারে তিনি ভারত ও পরে ইসলামকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন:
ভি এস নাইপলের পরিবার ভারতের কোন অংশ থেকে উঠে এসেছেন?
খুশবন্ত সিং ও ভাঁইচাঁদ প্যাটেলের সঙ্গে আলাপে তিনি জানাচ্ছেন, এটি তো বেশ কয়েক প্রজন্ম আগের কথা। শতবছর পেরিয়ে পূর্বপুরুষের ভিটাবাড়ির জায়গা শনাক্ত করা খুব কঠিন কাজ। ভারতের বিভিন্ন অংশে অন্তত আটজন প্রপিতামহের খোঁজ করতে হবে। আমি জানি, আমার মায়ের বাবা এসেছেন উত্তর প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে গোরানপুরের কাছের একটি গ্রাম থেকে। ১৯৬২তে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানকার একটি স্থায়ী ঠিকানা ছিল। এখন আমরা তাও হারিয়েছি। চল্লিশের দশকে আমি যখন শিশু, ত্রিনিদাদে তখন পারিবারিক ভাষা হিসেবে হিন্দি ভাষার ব্যবহার কমে আসে। হিন্দি হটিয়ে ইংরেজি সে জায়গা দখল করে নেয়।
আ হাউজ ফর মিস্টার বিশ্বাস কি তাঁর বাবার জীবনকে ভিত্তি করে লেখা?
তিনি বললেন: বাস্তব জীবন এবং ফিকশনের মধ্যে অনেক তফাত। বাস্তব জীবন অনেক বেশি এলোমেলো, এ নিয়ে পরিচ্ছন্ন এপিসোড রচনা করা যায় না। আমার বাবা ছিলেন খুবই সিরিয়াস ধরনের মানুষ। অন্যদিকে মিস্টার বিশ্বাস হচ্ছেন অনেকটাই কমিক চরিত্রের। আমি একটি পরিবার কাঠামো নিয়ে তাঁর ওপর কাহিনীটা বিস্তৃত করতে শুরু করি। এ উপন্যাস ছিল আমার অন্য রকম কল্পনার চর্চা। এর অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে ১৯২০-এর দশকে। আর আমার জন্ম ১৯৩২-এ।
তাঁর ইন আ ফ্রি স্টেট বুকার প্রাইজ পেয়েছে। এটি কি তাঁর শ্রেষ্ঠ বই?
হ্যাঁ, এটি আর আ হাউজ ফর মিস্টার বিশ্বাস। ‘বুকার প্রাইজের বিচারকরা আমাকে একটা পুরস্কার দিতে চেয়েছিলেন। আর পুরস্কার ঝুলিয়ে দেয়ার জন্য ইন আ ফ্রি স্টেট বইটি ব্যবহার করেছে। পুরস্কার নতুন এক ধরনের আবিষ্কার। পুরনো দিনগুলোয় বছরের শেষে উপযুক্ত বইয়ের তালিকা করা হতো। কিছু বই বিলীন হয়ে যেত, কিছু বই ভেসে উঠত। সময়ের সঙ্গে প্রকাশনার অনেক কিছু বদলে গেছে। উপন্যাস এখন এক ধরনের বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত হয়েছে।’
১৯৬২তে তিনি যখন ভারতে এসেছিলেন, তখন খুব হতাশ হয়েছিলেন। আর তা অ্যান এরিয়া অব ডার্কনেস-এ প্রতিফলিত। তাঁর কাছে এটি হতাশা নয়, তিনি আহত হয়েছিলেন। ‘বড় ধরনের ক্ষত। আপনাকে মনে রাখতে হবে ত্রিনিদাদে আমরা খুবই হতাশ একটি সম্প্রদায়। ভারত নিয়ে কোনো গল্প ছিল না। আমরা ধরে নিয়েছিলাম, আমাদের পূর্বপুরুষরা ভয়ানক কোনো জায়গা ছেড়ে ত্রিনিদাদে এসেছেন। আমাদের ভারত ধারণা বড় নির্মম। এই দেশটা আসলে কেমন, তা কখনো আমাদের কাছে বর্ণনা করা হয়নি, কাজেই দেশটি কখনো সত্য হয়ে ওঠেনি। আমি যখন প্রথম এখানে আসি, ভারত নিয়ে লেখার পূর্ণ প্রস্তুতি আমার ছিল না। ভারতের দারিদ্র্য আমাকে হতোদ্যম করে ফেলেছিল।’
ইসলাম ধর্ম প্রসঙ্গে আপনার অভিমত কী?
উত্সভূমি বিবেচনায় ইসলাম একটি আরব ধর্ম। যারা আরব নন, এমন মুসলমানরা সবাই ধর্মান্তরিত মুসলমান। ইসলাম ধর্মের চাহিদাটা বেশি। ধর্মান্তরিত একজন মুসলমানকে পৃথিবী সম্পর্কে তার ধারণা পাল্টে ফেলতে হয়। তার পবিত্র স্থানগুলো অন্য দেশে, তার পবিত্র ভাষা আরবি। তাকে তার নিজের ইতিহাস প্রত্যাখ্যান করতে হয়, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিতে হয়। গভীরভাবে দেখতে চাইলে ধর্মান্তরিত মুসলমানদের ঔপনিবেশিক মানুষ মনে হবে। ... আমি বস্তুনিষ্ঠ হতে চেষ্টা করেছি। আমি ভেতরে ঢুকে ইসলামকে বুঝতে চেয়েছি। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় মৌলবাদীদের কাছে অ-মুসলমান পূর্বকালের বলে যা কিছুই মনে হয়, তারা তা থেকে মুক্তি চায়। ইরানের বেলায়ও এ কথা সত্য। পার্সিয়া বিশাল দেশ ছিল। রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। ইরান ধ্রুপদ গ্রিসকেও চ্যালেঞ্জ করেছে। এখন তারা বলছে, ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার আগের সময়টা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আয়াতুল্লাহ খোমেনির আমলে বিচারক আয়াতুল্লাহ খালখালি পার্সেপোলিসের ধ্বংসাবশেষ এবং আড়াই হাজার বছর আগেকার সাইরাস প্রাসাদের অবশিষ্টাংশ নষ্ট করে ফেলতে চেয়েছেন। এটি পাগলামি।
শিল্পী মকবুল ফিদা হোসেনের বিরুদ্ধে নেয়া পদক্ষেপ কি হিন্দু জাতীয়তাবাদের অভ্যুদয় নয়— তিনি হিন্দু দেবীর নগ্ন ছবি এঁকেছিলেন। তারা তার ছবি নষ্ট করে দিয়েছে, ঘরবাড়ি আক্রমণ করেছে। এটিকে তিনি কীভাবে দেখছেন?
নাইপল মনে করেন, এর মধ্যে এক ধরনের অনুকরণের তামাশাও রয়েছে। হিন্দু পুনরুত্থানবাদীরা মুসলমান মৌলবাদীদের তামাশা করছে। ... খ্রিস্টবাদী ও ইসলাম পরস্পরের প্রতি অসহিষ্ণু। তাদের ইতিহাস অসহিষ্ণুতার ইতিহাস। খ্রিস্টানদের অন্ধকার ইতিহাস রয়ে গেছে। পর্তুগিজরা এ দেশে যেভাবে খ্রিস্টধর্ম এনেছে, তা হীন বুদ্ধিবৃত্তিজাত এবং তা এনেছে অত্যন্ত নির্মমভাবে, বিংশ শতকের খ্রিস্টবাদ বরং অনেকটাই মানবিক। প্রেম ও যৌনতাকেও তিনি ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার সঙ্গে মিলিয়েছেন। ‘যেসব মানুষ পুরোপুরি যৌনতৃপ্ত নন, তারা বঞ্চিত মানুষ এবং তাদের বিপুল ক্ষতি হয়ে গেছে। তারা ভয়ঙ্কর অসুখী এবং অনির্ভরশীল। বহু যৌন অবদমন শেষ পর্যন্ত সহিংস রূপ লাভ করে। যৌন হতাশা থেকে বহু ধরনের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার সৃষ্টি হয়।’
খুশবন্ত সিং লিখছেন নাইপলকে নিয়ে, প্রশংসা যেমন করেছেন, তিতকুটে কথা বলতেও ছাড়েননি
সমকালীন লেখকদের মধ্যে আমার বিবেচনায় সবচেয়ে ভালো লেখক ভিএস নাইপল। তার লেখা উপন্যাসের মধ্যে আমার পড়া প্রথমটি হচ্ছে ‘আ হাউজ ফর মিস্টার বিশ্বাস’। আমি যদিও কখনো ক্যারিবীয় অঞ্চলে যাইনি, আমি বলতে পারি সেখানে ভারত থেকে প্রত্যাবাসিত সম্প্রদায়ের এটি একটি বিশ্বস্ত দলিল। সব চরিত্রই জীবন্ত উঠে এসেছে। তাঁদের কথোপকথন খুব মজার। ইংরেজিভাষী সাহিত্য বিশ্বে একজন উদীয়মান নক্ষত্র হিসেবে সমাদৃত হওয়ার পর তিনি তাঁর পিতৃপুরুষের ভিটামাটি দেখতে এসেছেন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী— খুবই অসুখী দর্শন একজন ইংরেজ মহিলা। তাঁরা যখন দিল্লি এসে পৌঁছলেন, দুজনকেই মনে হলো— যা দেখেছেন, তাতে তাদের মোহভঙ্গ হয়েছে। নাইপল আশা করছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কৃতী সন্তান হিসেবে সমাদৃত হবেন, সম্ভবত স্ত্রীকেও দেখাবেন তিনি এখানে কত প্রশংসিত। সে সময় হাতেগোনা ক’জন সমঝদার নাইপল পড়েছেন।
আমি তাঁদের গাইড হলাম। আমার বন্ধুদের বাড়ি নিয়ে গেলাম। তাদের কেউ কেউ তাঁর লেখা পড়েছেন। তাঁর আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে তাঁদের দুজনকে আমাদের স্থানীয় বইয়ের দোকানে নিয়ে গেলাম। তাঁকে দেখাতে চাই তাঁর বইয়ের চাহিদা কত। আমি এ দম্পতিকে সুরজকুন্ড নিয়ে যাই। তখন ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগ। প্রাচীন দিল্লি শহরের ধ্বংসাবশেষের প্রান্তদেশে উপত্যকায় অরণ্য শিখা ফুল হয়ে ঝলসে উঠছে। তুগলকাবাদ দুর্গের অতিকায় দেয়ালের নিচে আমরা স্যান্ডউইচ ও গরম কফির নাশতা সেরে নিলাম। আশপাশের গ্রামের শিশুরা আমাদের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে রইল। ছেঁড়া কাপড়, নাক দিয়ে সর্দি ঝরছে, নোংরা চোখের পিঁচুটির আঠায় মাছি আটকে আছে। নাইপল তাঁর ‘এরিয়া অব ডার্কনেস’-এ সুরজকুন্ডর মনোহরণ দৃশ্য মাত্র চারটি শব্দে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ময়লার আস্তরণে ঢাকা গ্রামের শিশুদের নিয়ে বিস্তারিতভাবে লিখেছেন। তিনি কাশ্মীরের জাফরান জমিন নিয়ে একই কাজ করেছেন, শরতে প্রস্ফুটিত ক্রোকাসের কথা একটুমাত্র উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তার চেয়ে ঢের বেশি বর্ণনা দিয়েছেন কাশ্মীরি নারীরা কেমন করে তাদের পিরহান উঠিয়ে মলত্যাগ করতে বসে। মনে হয় নাইপলের বাতিক নোংরা আবর্জনা ঘাঁটাঘাঁটিতেই।
তিনি খিটমিটে স্বভাবের মানুষ। শারীরিক স্পর্শে তিনি কুঁচকে যান। কেউ অভিবাদন জানাতে এসে আলিঙ্গন করতে চাইলে সরে যান। কেউ ছবি তুলতে চাইলেও তিনি অ্যালার্জিক। নাইপলের পরবর্তী সফরে তিনি তার প্রাপ্য মর্যাদার পুরোটাই পেয়েছেন। বাইরে কোথায় নিমন্ত্রণ পেতে তিনি আগ্রহী ছিলেন: তিনি যে বই লিখছেন, তার মসলা জোগাড়ে সুবিধা হয়। মোদি পরিবারের একজনের নিমন্ত্রণে তাঁকে একটি পার্টিতে নিয়ে যাই। প্রথম যারা পৌঁছে, আমরা দুজন তাদের মধ্যে রয়েছি। একঝাঁক আকর্ষণীয় তরুণী দেয়ালঘেঁষে লাইনে দাঁড়ানো। আমরা তাদের প্রায় গাঘেঁষে এগোচ্ছি শুধু এটি আবিষ্কার করার জন্য যে, তারা ইংরেজি বলতে পারে না, একঘেয়ে ব্যবসায়ীদের মনোরঞ্জনের জন্য বারবণিতা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু সবসময় তা হয় না। আমি তাঁকে তার সঙ্গীসহ অ্যানিস জুঙ্গের (হায়দরাবাদে জন্মগ্রহণকারী ভারতীয় লেখক ও সাংবাদিক) কাছে নিয়ে এলাম। সেখানে হাজির ছিলেন রাম নিবাস মৃধা। মৃধা নাইপলের সব বই পড়েছেন। সন্ধ্যাটা বেশ নির্বিকারে কেটে গেল।
অন্তত দুবার নিউইয়র্ক টাইমসের সাহিত্য সম্পাদক আমাকে ফোন করে নাইপলের ওপর লেখার জন্য তৈরি হতে বলেছেন। কারণ তিনি আশা করছেন, সে বছরের নোবেল সাহিত্য পুরস্কার ভি এস নাইপলই পেতে যাচ্ছেন। আমি আমার নোটগুলো ঝাড়পোঁছ করে নিয়েছি। সে সময় মনে হয়েছে, তারা কখনো ইংরেজি ভাষায় লিখছে এমন অশ্বেতাঙ্গকে নোবেল পুরস্কার দেবে না। ব্রিটিশ সরকার তাঁকে নাইটহুড দিয়ে এ ধারণায় একটি সংশোধনী এনেছে। কিন্তু নাইটহুড পাওয়া আর নোবেল পুরস্কার পাওয়া তো এক কথা নয়। নাইপল কখনো তার নামের আগে ‘স্যার’ বসান না। অবাক ব্যাপার, তিনি যখন বুঝতে পারলেন নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন না, তাঁর লেখার মানও পড়তে থাকল।
নাইপলের মাধ্যমেই আমি তাঁর মা এবং ছোট ভাই শিবার সঙ্গে পরিচিত হই। আমি বুঝতে পারি, তাদের কারো জন্যই ভিএসের দেয়ার মতো তেমন সময় নেই। তাঁর মায়ের সঙ্গে আমরা অনেকবার খেতে বসেছি। এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, শিবা তাঁর প্রিয় পুত্র। আমি তাঁকে দিল্লির কয়েকটি বইয়ের দোকানে নিয়ে যাই। ডিসপ্লেতে ভি এস নাইপলের বইয়ের সারি। কদাচিত্ শিবার বইয়ের দেখা মেলে।
তিনি দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনারা আমার শিবার বই আরো রাখছেন না কেন?’ তার অল্প কিছু বন্ধু, আমি সন্দিহান ভারত সফর তিনি আদৌ উপভোগ করছেন কিনা।
শিবার সঙ্গে যদিও আমার অল্প ক’বার দেখা হয়েছে [আমাদের ছেলে রহুিলের সঙ্গে তাঁর দেখা সাক্ষাত্ হয়েছে বহুবার]। ভারতীয় পরিবেশে তাঁর ভাই কিংবা মায়ের চেয়ে তাঁকেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য মনে হয়েছে। শিবা অনেক বেশি বহির্মুখী এবং সহজে বন্ধু করে নিতে জানেন। আমার মনে হয়েছে লন্ডন কিংবা ত্রিনিদাদে বাড়ি করার চেয়ে ভারতে করাটাই তিনি অগ্রাধিকার দিতেন।






