আকাশবালিকাদের ভালোমন্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এয়ারলাইনসের সুনাম-দুর্নাম। ক্যাপ্টেন প্রকৌশলী, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার, সেলসম্যান যার যে ভূমিকাই থাকুক না কেন, প্রত্যেক এয়ারলাইনসের মুখমণ্ডল হচ্ছে তাদের কেবিন ক্রু। আপনি কোথায় যাচ্ছেন— ব্রিসবেন না লিসবোঁয়া, লংকাভি না কক্সবাজার, বিজনেস ক্লাসে যাচ্ছেন না ইকোনমিতে— এসব মোটেও ফ্যাক্টর নয়। উড়োজাহাজে পা রাখার মুহূর্ত থেকে প্রত্যাশা একই— বিমানবালা যেন সুন্দর, হাসিখুশি, উষ্ণ ও সেক্সি হয়।

এ মাপকাঠিতে এয়ারলাইনসকে বিচার করতে হলে কেবিনে কর্মরত একজন বা দুজন সুন্দরীকে বিবেচনা করলে চলে না, একটি গ্রুপ বা ক্লাস্টার হিসেবে একটি ব্র্যান্ডের আওতায় তাদের দেখতে হয়। যেমন কোন এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রুরা বেশি আকর্ষণীয়— জার্মান বিমান সংস্থা লুফথানসা না হংকংয়ের ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার

 ক্যাথে প্যাসিফিক, বাংলাদেশ বিমান না আমেরিকান এয়ারলাইনস?

সৌন্দর্য, স্মার্টনেস, উচ্চতা, প্রাণচাঞ্চল্য ও সেক্সের প্যারামিটারগুলো ব্যবহার করে বিশিষ্ট এভিয়েশন লেখক এজাজ খান ১০টি এয়ারলাইনসের একটি তালিকা করেছেন: দশম থেকে প্রথম পর্যন্ত। এ তালিকার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ রয়েছে।

দশম: ভার্জিন আটলান্টিক

রিচার্ড ব্র্যানসন ১৯৮৪ সালে ভার্জিন আটলান্টিক এয়ারওয়েজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। লাল স্যুট ও স্টাইলিশ নেক টাই পরা ভার্জিন আকাশবালিকাদের এমনিতেই হাজার মানুষের সামনে মাথা তুলে দাঁড়ানো মনে হয়। ২০১১ সালের একটি সমীক্ষায় তাদেরই বলা হয়েছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় কেবিন ক্রু।

নবম: থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল

১৯৬০ সালে স্ফ্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারওয়েজের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত থাই এয়ারওয়েজের যাত্রীসেবা সর্বোচ্চমানের। যাত্রীদের খুঁটিনাটি সমস্যাগুলোও তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারে না। তাদের বেগুনি রঙের ইউনিফর্মটিও শ্রেষ্ঠ ইউনিফর্ম হিসেবে সমাদৃত হয়ে আসেছে।

অষ্টম: লুফথানসা

বৃহত্তম জার্মান এয়ারলাইনস লুফথানসা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু করে ১৯৫৫ সালে। ইউরোপিয়ান এয়ারলাইনসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় লুফথানসা। এর কেবিন ক্রুর বহরটি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত। ইউরোপীয় সেরা সুন্দরীদের কেউ কেউ জার্মানির এ এয়ারলাইনসে ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট হিসেবে কর্মরত।

সপ্তম: এয়ার এশিয়া

টনি ফার্নান্দেজের হাতে ২০ ডিসেম্বর ১৯৯৩ মালয়েশিয়ার ব্যক্তিমালিকানা খাতের এ এয়ারলাইনস যাত্রা করে। লাল ইউনিফর্মে এয়ার এশিয়ার নারী কেবিন ক্রুদের দিকে তাকালে চোখ ফেরানো যায় না। এয়ার এশিয়ার খাবারের মতোই গরম এর কেবিন ক্রু। কখনো তার চেয়েও বেশি।

ষষ্ঠ: এমিরেটস

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সমর্থনপুষ্ট এয়ারলাইনস এমিরাত বা এমিরেটস মূলত পিআইএর একটি উড়োজাহাজ ও ক্রুদের নিয়ে ১৯৮৫ সালে যাত্রা করে। এখন গোটা বিশ্ব এমিরেটসের নেটওয়ার্কে ধরা পড়ে গেছে। আকর্ষণীয় এয়ারহোস্টেসদের ইউনিফর্মও চোখে লেগে থাকার মতো।

পঞ্চম: ক্যাথে প্যাসিফিক

এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ এয়ারলাইনস ক্যাথে প্যাসিফিকের যাত্রা ১৯৪৬ সালে। এটি হংকংয়ের ন্যাশনাল ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার। আগাগোড়া লাল পোশাক, সোনালি কলার— ক্যাথে প্যাসিফিকের আকাশবালিকারা পেশাগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ।

চতুর্থ: কিংফিশার এয়ারলাইনস

কিংফিশার বিয়ার বিশ্ববাজার দখল করে আছে। কিংফিশারের কর্ণধার বিজয় মালিয়া ২০১২ সালে সুন্দরী, লাস্যময়ী ও প্রাচ্য ঘরানার সেবাব্রত নিয়ে যাত্রীদের সেবা করবেন, এমন একঝাঁক আকাশবালিকা ও নতুন কিছু উড়োজাহাজ নিয়ে আকাশে উড়ালেন লাল উড়োজাহাজ। অল্প দিনের মধ্যেই হুমকির মধ্যে পড়ে গেল এয়ার ইন্ডিয়া ও জেট এয়ার। কিন্তু ২০১৫তে এসেই বিভিন্ন ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলে দেশ ছাড়লেন বিজয় মালিয়া। থেমে গেল কিংফিশারের অগ্রযাত্রা। গ্রাউন্ডেড হয়ে গেল সব ক্রু ও উড়োজাহাজ।

তৃতীয়: এরোফ্লোট এয়ার

১৯২৩ সালে সৃষ্ট রাশিয়ার জাতীয় এয়ারলাইনসটি পুরনো আকাশ পরিবহনকারীদের অন্যতম। রুশ সুন্দরীদের এমনিতেই সুখ্যাতির শেষ নেই। সেক্ষেত্রে চমত্কার চেক টাই ও স্মার্ট ক্যাপ পরিহিত সেবাব্রত নিয়ে চাকরিতে যোগ দেয়া ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টদের অতিথিপরায়ণতার কোনো তুলনা নেই।

দ্বিতীয়: সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস

পেশাগত দক্ষতায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস সবাইকে ছাড়িয়ে ঈর্ষণীয় একটি স্থান দখল করে আছে। এর জন্ম ১৯৪৭ সালে মালয়েশিয়ার একটি এয়ারলাইনস হিসেবে। ১৯৬৪তে মালয়েশিয়া সিঙ্গাপুর দ্বীপটিকে যখন ছেড়ে দিল, স্বাধীনভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে হলো সিঙ্গাপুরকে আর এর ফ্ল্যাগ ক্যারিয়ার হিসেবে বিশ্বে সিঙ্গাপুরকে পরিচিত করাল সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। সিঙ্গাপুর-সুন্দরীদের মনোরম কর্মক্ষেত্র সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস। অতিথিপরায়ণতা ও গুণগত কেবিন সার্ভিস প্রদানের জন্য টানা ১৭ বার ওয়ার্ল্ডস বেস্ট কেবিন ক্রু সার্ভিস পুরস্কার পেয়েছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস।

প্রথম: এয়ার ফ্রান্স

এয়ারলাইনসের যাত্রা ১৯৩৩-এ। এত পুরনো হলেও ইউরোপের এ প্লাস ক্যাটাগরির এয়ারলাইনস এটি নয়। এয়ার ফ্রান্সের ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণ মোটেও আরামদায়ক কোনো অভিজ্ঞতা নয়। কিন্তু এর আকাশবালিকাদের সেবা, ছোঁয়া ও ভালোবাসা ভ্রমণের কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। তাই বলে একজন পুরুষ যাত্রী যদি এয়ার ফ্রান্সের একজন কেবিন ক্রুর চুম্বন আশা করেন, তা বরং ভুল হবে। যাত্রী যোগ্য পাত্র হলে কেবিন ক্রুর সঙ্গে প্রেমও হয়ে যেতে পারে। তার পর আর চুম্বনের শেষ নেই।