জমিদার একটি ফারসি শব্দ এবং মোগল আমল থেকেই এর ব্যবহার হয়ে আসছে। ফারসি শব্দ ‘যামিন’, যার অর্থ জমি এবং ‘দাস্তান’ যার অর্থ ধারণ বা মালিকানা। এই দুটি ফারসি শব্দের বাংলা অপভ্রংশের সঙ্গে ‘দার’ শব্দটি যুক্ত হয়ে ‘জমিদার’ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে, যার অর্থ ‘জমির মালিক বা ভূস্বামী’। জমিদার ও জমিদারবাড়ি সম্পর্কে সবারই কমবেশি আগ্রহ রয়েছে। তবে সঠিকভাবে জানা নেই যে কবে থেকে এই বঙ্গে জমিদারি প্রথা শুরু হয়েছিল। অনেকেরই ধারণা, ব্রিটিশ আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে এই বঙ্গে জমিদারি প্রথা চালু হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে আজ থেকে ৬০০ বছরের বেশি সময় আগে থেকেই পূর্ববঙ্গে জমিদারি প্রথা চালু ছিল।
মূলত তুর্কি, আফগান বা সুলতানি শাসনামল থেকেই বঙ্গে জমিদারি ব্যবস্থা চালু ছিল বলে ঐতিহাসিকরা ধারণা করেন। ১৫১০ সালে বাংলার স্বাধীন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের শাসনামলে বনগাঁ কাগজ পুকুরিয়ার জমিদার ছিলেন রামচন্দ্র খাঁ। তিনি রাজস্ব প্রদান করতে অস্বীকার করলে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ জমিদার রামচন্দ্র খাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে তাকে পরাজিত করেন। এছাড়া মোগল ও নবাবি শাসনামলে বঙ্গে সনদ প্রদানের মাধ্যমে জমিদারি প্রদান করা হতো। সে সময় প্রথা অনুযায়ী জমিদারি ছিল বংশগত। তখনকার জমিদাররা জমির স্থায়ী স্বত্বাধিকারী বা মালিক না হলেও রাষ্ট্রকে নিয়মিত রাজস্ব প্রদানের মাধ্যমে বংশপরম্পরায় জমিদারি পরিচালনা করতেন। গুরুতর কোনো অপরাধ না করলে সেই সময় সাধারণত কোনো জমিদারকে জমিদারি থেকে উচ্ছেদ করা হতো না। ওই সময়ে রায়ত বা সাধারণ কৃষক ছিল জমির ভোগদখলকারী, জমিদাররা ছিলেন রাষ্ট্রের অধীন ভূমি-রাজস্ব আদায়কারী এবং রাষ্ট্র ছিল জমির প্রকৃত মালিক। ১৭৬৫ সালে ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয়। ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা প্রবর্তনের মাধ্যমে বঙ্গে প্রচলিত জমিদারি প্রথাকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হয়।
এ প্রথার মাধ্যমে রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, ওড়িশার জমিদারদের জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা প্রদান করা হয়। ফলে জমিদারদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়। ধীরে ধীরে তারা ধনিক শ্রেণীতে পরিণত হন। অন্যদিকে বংশপরম্পরায় বসবাস ও চাষাবাদ করে আসা প্রজারা জমির পুরনো স্বত্ব হারায়। ফলে তারা অন্য কারো কাছে তাদের জমি হস্তান্তরে ব্যর্থ হয়। এসব কারণে প্রজাদের জমিদারের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হতো। অনেক সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও এ দেশে এই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা প্রায় ২০০ বছর টিকে ছিল।
জমিদার ও জমিদারির ইতিহাস
ক. প্রাচীন যুগ (৬০৬ সাল পর্যন্ত)
প্রাচীন যুগের জমির মালিকানা সম্পর্কিত তথ্যাদি অপ্রতুল। সেই সময় জনসংখ্যার তুলনায় সম্পদের প্রাচুর্য থাকায় জমির মালিকানার বিষয়টি তখন তেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তখন মানুষ তার নিজ বসতবাড়ির চারপাশের পতিত জমি ও জঙ্গল পরিষ্কার করে তাতে চাষাবাদ করত। তিনি জমির মালিক হতেন। জমি হস্তান্তরের বিষয়টি মালিকের স্বীকৃত অধিকার ছিল। কৃষিজমি কৃষকদের স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হতো। তারা বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকারসূত্রে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে রীতিমাফিক কিংবা রাজা প্রণীত আইনের ভিত্তিতে প্রদেয় অর্থ পরিশোধ করে ওই জমি চাষাবাদ করত। যিনি রাজা বা শাসনকর্তা থাকতেন তিনিই রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন। তিনি রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করতেন।
প্রাচীন যুগে ভূমির প্রকৃত মালিক কে ছিলেন সে বিষয়ে মতভেদ থাকলেও বিভিন্ন সময়ে ভূমি ব্যবস্থা সম্বন্ধে যেসব তথ্য পাওয়া যায় তাতে অনুমান করা যায় যে রাজা বা রাষ্ট্র এ দেশের সব জমির মূল স্বত্বাধিকারী এবং মূল মালিক দুই-ই ছিলেন। গুপ্ত যুগের যে কয়টি লিপি পাওয়া গেছে তার প্রতিটিতেই দেখা গেছে যে জমিবিক্রেতা হচ্ছেন রাজা বা রাষ্ট্র এবং বিক্রীত জমি ধর্মাচারের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত হতো বলে রাজা দানপুণ্যের এক-ষষ্ঠ ভাগের অধিকারী হতেন। তবে রাজা ভূমির অধিকারী হলেও দান বিক্রয়ে যথেচ্ছাচার করতেন না। প্রস্তাবিত জমি দান ও বিক্রীত হলে গ্রামবাসীদের কৃষি ও অন্যান্য কর্মের কোনো অসুবিধা হবে কিনা এসব চিন্তা করা হতো।
খ. বৌদ্ধ ও হিন্দু যুগ (৬০৬-১১৬০ সাল ও ১১৬১-১২৬০ সাল)
বৌদ্ধ ও হিন্দু যুগে ভূমি-রাজস্ব প্রশাসন ব্যবস্থা সম্বন্ধে সঠিক কিছু জানা যায় না। তবে বৌদ্ধ যুগে রাজারা জমির স্বত্বাধিকারী না হলেও প্রজাদের কাছ থেকে কর হিসেবে ফসলের অংশবিশেষ গ্রহণ করতেন। আর হিন্দু যুগে জমিতে প্রজাদের মুখ্য ও ব্যক্তিগত অধিকার থাকায় পরিবারের প্রধান তার ইচ্ছানুযায়ী জমি দান, বিক্রয় বা অন্য কোনোভাবে জমি হস্তান্তর করতে পারতেন। কৃষকেরা যারা তাদের জমি চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন না, রাজা তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারতেন। প্রাচীন যুগের মতো বৌদ্ধ ও হিন্দু যুগেও মোট উৎপাদনের এক-ষষ্ঠাংশ রাজার প্রাপ্য অংশ হিসেবে বহাল ছিল। বৌদ্ধ ও হিন্দু যুগে সাধারণত শস্যের মাধ্যমে রাজস্ব প্রদান করা হতো। রাজার তরফ থেকে রাজস্ব আদায়কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা রাজস্ব সংগ্রহ করতেন। পরবর্তী সময়ে বাংলায় সেন রাজাদের আমলে ধাতব মুদ্রার মাধ্যমে রাজস্ব প্রদান ব্যবস্থার প্রচলন হয়।
গ. মুসলিম আমল (১২০৩/১২০৪-১৫৯০)
সুলতানি আমল থেকে ভূমি ব্যবস্থা সম্পর্কিত কিছু তথ্য পাওয়া যায়। বাংলায় সুলতানি শাসকরা, শেরশাহ ও কররানী বংশের শাসনামল ছিল মুসলমান শাসকদের রাজত্বকাল। শুরুর দিকে লক্ষ্মণাবতীর মুসলিম শাসকরা হিন্দু ও বৌদ্ধ যুগের প্রবর্তিত ভূমি ব্যবস্থাই অনুসরণ করতেন। পাল ও সেন আমলে যে রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়, মুসলিম শাসনামলে তার গুরুত্ব বেড়ে যায়। ফলে রাজা ও রায়ত বা কৃষকের মাঝে আরো বেশি করে নানা ধরনের স্বত্বাধিকারী বা ভূস্বামী তৈরি হয়। তারা রাজস্ব আদায়কারী হলেও কার্যত ভূস্বামীই ছিলেন। অনেক সময় তারা বংশানুক্রমিকভাবে ভূমির স্বত্ব ভোগ করতেন।
সুলতানি শাসনামলে পরগনা শব্দটি প্রথম প্রচলন হয়। একগুচ্ছ গ্রাম মিলে একটি পরগনা গঠিত হতো। সুলতানি আমলে ভূমি মধ্যস্বত্ব বন্দোবস্ত ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল জায়গির ব্যবস্থা। এর আওতায় জমি বা তালুক বরাদ্দ করা হতো। সুলতানরা আগের মতোই অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রজাদের কাছ থেকে সরাসরি জমির রাজস্ব আদায় করেন আর এ কর সংগ্রহের কাজে প্রাদেশিক শাসনকর্তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই ভূমি-রাজস্ব আদায়ে অবশ্য ‘মাজমাদার’ পদবিধারী মধ্যবর্তী একটি শ্রেণীর অস্তিত্ব ছিল। ‘মাজমাদারি’ ব্যবস্থাটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কতটা ব্যাপক ও সংগঠিত ছিল তা খুব স্পষ্ট না হলেও সুলতানরা যে রাজস্ব আদায়ের কাজে সম্পর্কিত চাষীদের মাধ্যমে জমির খাজনা সংগ্রহ শুরু করেছিলেন তার সাক্ষ্য পাওয়া যায়। ভারতের প্রাচীন শাসকদের নিভি-ধর্ম মধ্যস্বত্ব প্রদানের মতো সুলতানরাও ধর্মীয় ও দাতব্য সংগঠন এবং ব্যক্তিবিশেষকে লাখেরাজ বা নিষ্কর জমির মঞ্জুরি দিতেন, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের মঞ্জুরির ভিন্ন ভিন্ন নাম ছিল।
সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৩-১৫১৯ সাল) প্রথম রাজস্ব প্রশাসনের ভিত্তি স্থাপন করেছেন বলে ধারণা করা হয়। ওই সময় সমগ্র রাজস্ব এলাকাকে দেওয়ানিখানা নামক অনেকগুলো প্রশাসনিক ইউনিটে বিভক্ত করা হয়। এগুলোই সেই সময়ের রাজস্ব প্রশাসনের ভিত্তি। পরবর্তী সময়ে এগুলো পরগনা হিসেবে পরিচিত হয়। ১৫৩৮ সালে দিল্লির সম্রাট শের শাহ বাংলার সর্বশেষ স্বাধীন সুলতান গিয়াসউদ্দীন মাহমুদ শাহর রাজধানী গৌড় জয় করে তার প্রশাসকদের হাতে তা ন্যস্ত করেন। কিন্তু তিনি বাংলার সর্বত্র তার ক্ষমতা সংহত করতে পারেননি। তার বিরুদ্ধে উচ্ছেদকৃত শাসকদের সমর্থকদের কমপক্ষে তিনটি বিদ্রোহের দৃষ্টান্ত রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলার নদীবিধৌত এলাকা সবসময়ই কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য একটি সমস্যা ছিল। এ সমস্যা সমাধানকল্পে শেরশাহ বঙ্গ দেশকে ১৯টি সরকারে বিভক্ত করেন। এই ১৯টি সরকার আবার ৩২টি মহল বা পরগনায় বিভক্ত হয়।
ঘ. বারোভূঁইয়া শাসনামল
১৫৩৮ সালে দুইশ বছরের পুরনো স্বাধীন সালতানাতের পতনের পর পূর্ব বাংলায় বিরাজমান বিশৃঙ্খল অবস্থার সুযোগে বারোভূঁইয়ারা শক্তি সঞ্চয় করেছিলেন। দাউদ খান কররানীর মৃত্যু এবং মোগলদের দ্বারা রাজধানী তাণ্ডা অধিকৃত হওয়ার পরে মান সিংহ কর্তৃক ওড়িশা থেকে বিতাড়িত হয়ে খাজা উসমান ও তার ভাইয়েরা বাংলায় আসেন। সাতগাঁও ও ভূষণার মধ্য দিয়ে তারা বুকাইনগরে (বর্তমান বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায়) আসেন এবং নিজেদের জন্য একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। এটা স্পষ্ট যে স্বাধীন সালতানাতের পতনের পর (১৫৩৮ সাল) এবং বিশেষত শেরশাহর প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণের পর পূর্ব বাংলার ভাটি অঞ্চলে বিশৃঙ্খল অবস্থা এবং সংহতিনাশক শক্তি বিরাজ করছিল। এ বিশৃঙ্খল সময়ে বারোভূঁইয়ারা শক্তি সঞ্চয় করেন এবং ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। পরবর্তী সময়ে বাংলার বারোভূঁইয়ারা দুইশ বছর স্থায়ী বাংলার স্বাধীন সালতানাতের উত্তরাধিকারী হন।

দিনাজপুরের রতনপুর জমিদারবাড়ি ছবি: রোহান/উইকিমিডিয়া কমনস
বারোভূঁইয়ারা কোনো রাজপরিবারের বংশধর ছিলেন না। তারা ছিলেন বড় জমিদার এবং বাংলার স্থানীয় প্রধান। বারোভূঁইয়া শব্দটি বড় ভূঁইয়া শব্দের অপভ্রংশ। সেই সময় বাংলায় জমিদার মাত্রই ভূঁইয়া নামে পরিচিত ছিল। তখন বাংলায় ছোট-বড় অসংখ্য ভূঁইয়া ছিল। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় জমিদারদের বারোভূঁইয়া বলা হতো। মূলত তারা ছিলেন ভাটি এলাকার লোক এবং ভাটিতেই তাদের উত্থান ঘটেছিল। প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মোগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এ দেশের বিভিন্ন এলাকা বহু জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তারা কখনো যৌথভাবে এবং বেশির ভাগ সময় পৃথকভাবে মোগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধস্বাধীন শাসকরূপে তাদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন। সেখানে কোনো কেন্দ্রীয় শাসন ছিল না, কিংবা থাকলেও সেটা ছিল নামমাত্র। এ অবস্থায় বহু ভূঁইয়া বিদ্রোহ করেছিলেন।
মোগল ঐতিহাসিক আবুল ফজল আকবরনামা ও মির্জা নাথান বাহারিস্তান-ই-গায়েবিতে যেসব বারো ভূঁইয়ার কথা জানান, তারা হলেন:
১. ঈসা খান (মসনদ-ই-আলা), সোনারগাঁ; ২. চাঁদ রায়-কেদার রায়, বিক্রমপুর (শ্রীপুর); ৩. কন্দর্প রায়/পরামন্দ রায়, চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল); ৪. মুকুন্দরাম রায়, ভূষণা (ফরিদপুর); ৫. প্রতাপাদিত্য যশোর, খুলনা; ৬. হাম্বীরমল বা বীর হামির, বিষ্ণুপুর (বাঁকুড়া); ৭. ফজল গাজী, ভাওয়াল (ঢাকা); ৮. চাঁদ গাজী-চাঁদ প্রতাপ, মানিকগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ; ৯. জগৎ নারায়ণ রায়, বাদুরিয়া (মালদহ-রাজশাহী অঞ্চল); ১০. কংসনারায়ণ রায়, তাহেরপুর (দিনাজপুর); ১১. রামচন্দ্র ঠাকুর, পুঠিয়া (রাজশাহী অঞ্চল); ১২. মজলিস প্রতাপ, ভাওয়াল সংলগ্ন ময়মনসিংহ অঞ্চল; ১৩. ফতেহখান-তরফ, (সিলেট); ১৪. করিমদাস মুসাজাই ও ইব্রাহিম মোড়ল, কিশোরগঞ্জ; ১৫. আনোয়ার খান, বানিয়াচং (মৌলভীবাজার); ১৬. তাজ খান ও সালিম খান, হিজলি; ১৭. শামস খান, বীরভূম; ১৮. মাসুম খান কাবুলি, পাবনা; ১৯. উসমান খান লোহনি, বোকাইনগর (ময়মনসিংহ); ২০. বায়েজীদ কররানী, সিলেট; ২১. রাজা রায়, শাহজাদপুর (পাবনা); ২২. বিনোদ রায়/মধু রায়, চাঁদপ্রতাপ।
ঙ. মোগল আমল
মোগল শাসকরা ভূমি বন্দোবস্ত পদ্ধতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সাধন করেন। মোগল ব্যবস্থার আওতায় জমি রাষ্ট্রের মালিকানাধীন হলেও অনেক ক্ষেত্রেই জমির ব্যক্তি বা বেসরকারি মালিকানা স্বীকার করে নেয়া হয়েছিল। পণ্ডিতদের বিশ্বাস, মোগল শাসকরা ব্যক্তিপর্যায়ে জমি বিক্রয় করে এবং তাদের ওই জমি বা ভূসম্পত্তির মালিক হিসেবে মেনে নিয়ে জমিজমার বেসরকারি মালিকানাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। তবে এ ধরনের মালিকানা কোনো প্রচলিত বিষয় ছিল না, বরং ব্যতিক্রমই ছিল এবং সাধারণভাবে জমি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিই রয়ে গিয়েছিল। সরকার জমিদার ও তালুকদার নামে অভিহিত রাজস্ব সংগ্রাহক নিয়োগ করতেন। জমিদার ও তালুকদাররা সাধারণত উত্তরাধিকারসূত্রে বংশানুক্রমে রাজস্ব আদায়ের অধিকার ভোগ করতেন। মোগল সম্রাট আকবর প্রশাসনিক সুবিধার্থে ১৫৮২ সালে সুবাহ বাংলাকে ১৯টি সরকারে এবং ৬৮২টি পরগনায় বিভক্ত করেন।
সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে মুর্শিদকুলী খাঁ বাংলার দিউয়ান (পরবর্তী সময়ে নবাব) ছিলেন। মুর্শিদকুলী খাঁ তার সময়ে সুবাহ বাংলার ভূমি-রাজস্ব ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করেন এবং এ অঞ্চলে একটি ভূমি-জরিপ সম্পন্ন করেন। মুর্শিদকুলী খাঁ পূর্ববর্তী রাজস্ব ব্যবস্থা ভেঙে দিয়ে সমগ্র সুবাহ বাংলাকে ‘চাকলা’ নামক একাধিক বৃহত্তর বিভাগে বিভক্ত করেন। এ ব্যবস্থার অধীনে সমগ্র সুবাহ বাংলায় ১৩টি চাকলা সৃষ্টি করা হয় এবং পরগনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৬০।
চ. ব্রিটিশ আমল
কোম্পানির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসায় মুনাফা ও ভূমি-রাজস্ব সংগ্রহ করা। কোম্পানি সরকার তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য সমস্ত অমানুষিক নির্যাতন-উৎপীড়ন ব্যবস্থা প্রজাসাধারণের ওপর চাপিয়েছিল। মোগল সরকারের ব্যবস্থা মোতাবেক জমিদারদের ওপর ভূমি-রাজস্ব আদায়ের ভার ছিল। কিন্তু বাংলা-বিহারের ইজারা নিয়ে কোম্পানি দেশীয় জমিদারদের সন্দেহের চোখে দেখতে থাকে। জমিদারদের রাজস্ব আদায়ের হিসাবনিকাশ তদারকের জন্য কোম্পানি সরকার প্রতিটি জমিদারিতে একজন ‘সুপারভাইজার’ নিযুক্ত করে। ‘সুপারভাইজাররা’ কোম্পানির পক্ষ থেকে হিসাবপত্র পরীক্ষা করত এবং আনঅফিশিয়ালি উৎকোচ গ্রহণ করত। এভাবে রাজস্ব ব্যবস্থায় জনসাধারণের ওপর প্রথম নিপীড়ন শুরু হয়। সুপারভাইজারদের প্রতি কোম্পানি সন্তুষ্ট না থাকায় গভর্নর জেনারেল হেস্টিং সুপারভাইজারের পদ লোপ করে দিয়ে প্রতি জেলায় একজন করে ইংরেজ কালেক্টর নিযুক্ত করেন। ব্রিটিশ আমলের প্রথমদিকে নোয়াখালী, রংপুর, ঢাকা ও মোমেনশাহী এই চারটি জেলা কালেক্টরেটের সাহায্যে বিশাল এ দেশ শাসন করা হতো। এছাড়া জনসাধারণের ওপর বর্ধিত হারে রাজস্ব আদায়ের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়। ১৭৭২ সালের এ নতুন কর আদয়ের ভিত্তিতে জমিদারদের সঙ্গে সরকারের একটি পাঁচসালা বন্দোবস্ত চুক্তি হয়। জনসাধারণ রাজস্ব দিতে অস্বীকার করলে কোম্পানির সামরিক বাহিনী (লাঠিয়াল বাহিনী) রাজস্ব আদায়ে অমানুষিক নিপীড়ন করত। এখানে উল্লেখ করা যায় যে ১৭৬৫ সালে কোম্পানির বাংলা-বিহারের ইজারা লাভের পর ‘অভিজাত জমিদার গোষ্ঠী’ (যারা মোগল সরকারের নিয়োগকৃত) বিলীন হয়ে যায়। এর মধ্যে মুসলমান জমিদারির সংখ্যাই বেশি ছিল, যা বাংলা ও বিহার থেকে প্রায় বিলীন হয়ে যায়। ওই স্থানগুলো দখল করে ইংরেজ সরকারের পা-চাটা দালাল, অত্যাচারী ও নিপীড়নকারী কুখ্যাত কিছু লোক, যাদের নিকট ধর্মাধর্ম ও ন্যায়-অন্যায় বলে কোনো বিষয় ছিল না।
পাঁচসালা বন্দোবস্ত প্রজাসাধারণের কাছে মরণফাঁদ হয়ে দেখা দেয়। নতুন জমিদার সম্প্রদায় ও কোম্পানির অবাধ লুণ্ঠনের ফলে ১৭৭০ সালে (বাংলা ১১৭৬ সালে) বাংলায় ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এ সময় বাংলার এক-তৃতীয়াংশ লোক অনাহারে মৃত্যুবরণ করে। এরপর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিশ এর প্রতিকার হিসেবে জমির পরিমাপ ও এর উৎপাদন শক্তির কোনো প্রকার হিসাব গ্রহণ না করেই ১৭৯৩ সালে ‘বোর্ড অব ডাইরেক্টরস’ নির্দেশে ‘চিরস্থায়ী’ বন্দোবস্ত ঘোষণা করেন। জমিদাররা কোম্পানি সরকার কর্তৃক নতুন ভূমি ব্যবস্থার আওতায় নিজ নিজ জমিদারিতে ‘মধ্যস্বত্বাধিকারী’ নিযুক্ত হন। ভারতবর্ষের ইতিহাসে কোম্পানি এই প্রথম ভূমির প্রকৃত মালিক সেজে বসে। আর এ ভূমির ওপর কর্তৃত্ব দেয়া হলো মধ্যস্বত্বাধিকারী জমিদারের ওপর। জমিদাররা প্রজা ও সরকারের মধ্যে রাজস্ব আদায়ের ব্যাপারে সংযোজক শক্তি হিসেবে কাজ করতে থাকে।
কমপক্ষে একটি পরগনার ইজারাদারদের জমিদারি হিসেবে গণ্য করা হয়। এ জমিদাররা সরকারকে প্রদেয় রাজস্ব কালেক্টরিতে জমা দিতে বাধ্য থাকত। এছাড়া খণ্ড তালুক ও খণ্ড জমিদারির প্রাপ্ত গাতিদাররাও কালেক্টরিতে তাদের রাজস্ব দিতে বাধ্য হতো। ওই তিন সংখ্যক মধ্যস্বত্বাধিকারী ছাড়াও বাংলা ও বিহার আরো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মধ্যস্বত্বভোগীর জন্ম দেয়, যারা তাদের দেয় সরকারি রাজস্ব নিজ নিজ এলাকার জমিদারদের কাচারিতে জমা দিতে বাধ্য থাকত।
দ্বৈত শাসনামলে (১৭৬৫-১৭৭২ সাল) রাজস্ব আদায়ের মোগল ব্যবস্থা মোটামুটি বহাল রাখা হয়। এ ব্যবস্থার আওতায় জমিদার, তালুকদার ও লাখেরাজদার প্রতিষ্ঠানকে তেমন কোনো বড় রকমের পরিবর্তন ছাড়াই বহাল রাখা হয়। ১৭৯৩ সালে এ ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন আনা হয়। এ পরিবর্তনের আওতায় জমির পুরনো মালিকদের পাশ কাটিয়ে খামার পদ্ধতির প্রবর্তন করা হয়। খামার পদ্ধতিতে জমির মালিকদের তাদের জমির দখল থেকে সরিয়ে দিয়ে ওই জমি বিভিন্ন ভাগে ভাগ করে পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য সর্বোচ্চ ডাকদাতাকে ইজারা দেয়া হয়। তবে খামার পদ্ধতি সরকারের লক্ষ্য অর্জনে নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়। ১৭৭৮ সালে জমিদারির অধিকারগুলো পুনরায় বলবৎ করা হয়। তবে এক্ষেত্রে বন্দোবস্ত দেয়া হয় একটা সীমিত মেয়াদের জন্য মাত্র। এ মেয়াদ ছিল ন্যূনতম এক বছর থেকে সর্বাধিক তিন বছর। পিটের ‘ভারত শাসন আইন ১৭৮৪’-এর আওতায় কলকাতায় সরকারকে রাজস্ব প্রশাসন নিয়ে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়া হয় এবং জমিদার ও অন্যান্য সনাতন জমির মালিকদের সঙ্গে রফা করে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা প্রবর্তনের নির্দেশ দেয়া হয়। ওই নির্দেশ অনুসারে ১৭৯৩ সালের ২২ মার্চ ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ প্রথা প্রবর্তন করা হয়।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের নিয়ামক প্রবিধানগুলোর আওতায় জমিদাররা জমিতে তাদের স্বত্বাধিকার প্রাপ্ত হন। জমির মালিক হিসেবে এর পর থেকে জমিদার তার জমি অবাধে বিক্রয়, দান, ইজারা ইত্যাদি আকারে হস্তান্তর করার অধিকারী হন। জমিদারদের কাছে সরকারের রাজস্বের দাবি চিরস্থায়ীভাবে নির্ধারিত হয়ে যায়। জমিদাররা তাদের জমিতে মালিকানার অধিকার পেলেও কোম্পানি আমলে জমিদারদের অধীন রায়তদের মর্যাদা কী হবে সেই বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। অথচ মোগল আমলে এ রায়তদের তাদের জমিতে বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার ছিল এবং তাদের প্রদেয় খাজনার হার রীতিপ্রথা ও আচার অনুযায়ী নির্ধারিত ছিল। আর নীতিমাফিক নির্ধারিত হার জমিদার ও অন্যান্য খাজনা আদায়কারী প্রতিনিধিমূলক প্রতিষ্ঠান তাদের ইচ্ছামতো বদলাতে পারত না। অবশ্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে নিয়ামক প্রবিধানগুলোয় কৃষক সমাজের লোকজন এতদিন ঐতিহ্যগতভাবে যে অধিকার ভোগ করে আসছিল, সেই একই অধিকার তাদের এখন রইল কিনা এতে সে বিষয়টির কোনো সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই। এর পরিণামে দেওয়ানি আদালতে বিচারকরা রায়তদের রীতিপ্রথা অনুযায়ী অধিকারের বিষয়ে পরস্পরবিরোধী রায় দিতে থাকেন। কোনো কোনো আদালত এ মর্মে মত প্রকাশ করেন যে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে জমিতে চাষীর রীতিপ্রথাগত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়নি।
বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের (১৮৮৫) আওতায় ভূমির মালিকানা সম্পর্কিত ম্যাপ ও খতিয়ান প্রণয়ন কাজ পরিচালনার লক্ষ্যে ১৮৮৫ সালে ‘বোর্ড অব রেভিনিউ’- এর নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ভূমি রেকর্ড ও কৃষি’ নামে একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৮৮৮ সালে ‘ভূমি রেকর্ড দপ্তর’ নামে একটি স্বতন্ত্র দপ্তর গঠন করা হয়। তখন জরিপকাজ ‘সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র ওপর ন্যস্ত ছিল। ১৯১৯ সালে জরিপের কাজ ভূমি রেকর্ড দপ্তরের ওপর ন্যস্ত করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে এটি ‘ভূমি রেকর্ড ও জরিপ পরিদপ্তর’ হিসেবে রূপান্তরিত হয়।
এ দেশের কৃষি ও ভূমিসংক্রান্ত আইন বলতে প্রধানত ছিল ১৭৯৩ সালের বঙ্গীয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবিধান ও বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন, ১৮৮৫। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যে স্যার ফ্রান্সিস ফ্লাউডের নেতৃত্বে ১৯৩৮ সালে ‘ফ্লাউড কমিশন’ গঠন করা হয়। কমিশন একটি প্রতিবেদন দেয়। ফ্লাউড কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেশ বিভাগের পর ১৯৪৮ সালের ৩১ মার্চ পূর্ববঙ্গ জমিদারি তথা রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব বিল প্রস্তুত করা হয়। রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ (পূর্ববঙ্গ আইন) (The State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (East Bengal Act) আইনটি ১৬ মে ১৯৫১ তারিখে কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে পূর্ববঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জমিদারি প্রথার বিলুপ্তি ঘটে। ওই আইনে এ দেশের সব জমিদারের কাছ থেকে জমি সরকার কর্তৃক গ্রহণ করে সব জমির মালিকানা জমি চাষাবাদকারী কৃষকদের মধ্যে প্রদান করা হয়। ফলে কৃষকরা জমির মালিকে পরিণত হন। তবে জমিদারদের কাছ থেকে ভূমি অধিগ্রহণ করতে সরকারকে নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। এছাড়া জমিদাররা তাদের বসবাস ও ভরণপোষণের জন্য তাদের অধীন বিভিন্ন খাসজমির ১০০ একর পর্যন্ত ভোগদখলের অধিকার লাভ করেন। জমিদারি বিলুপ্ত হওয়ার পর দেশের সব জমিদারদের জৌলুস কমে যায়।
সমগ্র বাংলাদেশে আনুমানিক পাঁচ শতাধিক ছোট-বড় জমিদার বাড়ি ছিল। তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে জমিদার বাড়ির সংখ্যা ১৩২। বিভাগের গাজীপুর ১১, গোপালগঞ্জ ৯, টাঙ্গাইল ১৫, ঢাকা ১৫, নরসিংদী ৫, নারায়ণগঞ্জ ৮, ফরিদপুর ১৮, মাদারীপুর ৭, মানিকগঞ্জ ১১, মুন্সিগঞ্জ ১০, রাজবাড়ী ৫, শরীয়তপুর ৪ এবং কিশোরগঞ্জে ১৪টি। ময়মনসিংহ বিভাগে জমিদারবাড়ির সংখ্যা ২১টি। তন্মধ্যে ময়মনসিংহ ৭, জামালপুর ১, নেত্রকোনা ৭ এবং শেরপুরে ৬টি।
চট্টগ্রাম বিভাগে মোট জমিদার বাড়ির সংখ্যা ৯৬। তার মধ্যে কুমিল্লা ২২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১৫, চাঁদপুর ১৪, লক্ষ্মীপুর ৯, নোয়াখালী ৬, ফেনী ৫, খাগড়াছড়ি ১, রাঙ্গামাটি ১, বান্দরবান ১, চট্টগ্রাম ১৯ এবং কক্সবাজার ৩টি। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে জমিদার বাড়ির সংখ্যা ৩২। সিলেট জেলায় ৩, মৌলভীবাজার ৩, হবিগঞ্জ ১৬ এবং সুনামগঞ্জ ১০টি।
খুলনা বিভাগে জমিদার বাড়ির সংখ্যা ৬৭। খুলনায় ৭, চুয়াডাঙ্গা ৩, ঝিনাইদহ ৯, নড়াইল ৫, বাগেরহাট ১১, কুষ্টিয়া ১১, মাগুরা ৮, মেহেরপুর শূন্য, যশোর ৫ এবং সাতক্ষীরায় ৮টি। পাশাপাশি বরিশাল বিভাগে জমিদারবাড়ির সংখ্যা ৩২। বরিশাল জেলায় ১০টি, পটুয়াখালী ৬, ভোলা ৩, পিরোজপুর ৫, বরগুনা ১ এবং ঝালকাঠি ৭টি।
রাজশাহী বিভাগে জমিদারবাড়ির সংখ্যা ৬৬। তার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৬, জয়পুরহাট ২, নওগাঁ ৬, নাটোর ৮, পাবনা ১৭, বগুড়া ৭, রাজশাহী ৮, সিরাজগঞ্জ ১২টি। রংপুর বিভাগে জমিদারবাড়ির সংখ্যা ৪৫। কুড়িগ্রামে ৮, গাইবান্ধা ৭, ঠাকুরগাঁও ৬, দিনাজপুর ৫, নীলফামারী শূণ্য, পঞ্চগড় ৪, রংপুর ১৩ এবং লালমনিরহাট ২টি।
[রচনাটি লেখকের পূর্ববঙ্গের জমিদারবাড়ি (২০২৪) গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়ের ঈষৎ সংক্ষেপিত রূপ ]
মোঃ মাহমুদ আলী: পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব)
নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর এবং পিএইচডি গবেষক








