ইউরোপীয় উপনিবেশায়নের
ফলে মেসো
আমেরিকার আদিবাসীদের
প্রতি পরিচালিত
সহিংসতা একটি
সুপরিচিত সত্য।
এ উপনিবেশায়ন
আদিবাসী সমাজ,
সংস্কৃতির ওপর
যে ভয়াবহ
প্রভাব ফেলেছিল,
ঐতিহাসিকরা তা
বিশদভাবে জানিয়েছেন।
বিজয়াভিযানের ইতিহাসে
সাধারণত আদিবাসীদের
ওপর চাপিয়ে
দেয়া সামাজিক,
রাজনৈতিক ও
অর্থনৈতিক পরিবর্তনের
কথা বলা
হয়েছে। কিন্তু
বেঁচে থাকার
মূল অবলম্বন
খাদ্যের বিষয়টি
সেভাবে বিবেচনা
করা হয়নি।
তবুও খাদ্য
ছিল উপনিবেশনের
একটি প্রধান
হাতিয়ার। আসলে
খাদ্য ও
খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি
বিবেচনায় না
নিয়ে উপনিবেশায়নকে
সঠিকভাবে বোঝা
যাবে না।
মনে করুন
আপনি একজন
স্পেনবাসী, বিদেশী
ভূখণ্ডের উপকূলে
সদ্য আগমন
করেছেন। এ
সময় আপনার
বেঁচে থাকা
দুটি বিষয়ের
ওপর নির্ভর
করছে—সুরক্ষা
(নিজেকে বিপদ
থেকে রক্ষা
করা) এবং
পুষ্টি (খাবার
এবং টিকে
থাকার জন্য
প্রয়োজনীয় অন্যান্য
বস্তু)।
সুরক্ষার প্রশ্নে
ইউরোপীয়রা আমেরিকার
উপকূলে এসে
পৌঁছেছিল নিজেদের
নিরাপত্তার জন্য
পুরোপুরি সজ্জিত
হয়ে। ঘোড়ায়
চড়ে, উন্নত
অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে
এবং ইউরোপীয়
রোগ-ব্যাধি
পেছনে ফেলে
স্প্যানিশরা সবচেয়ে
সহিংস উপায়ে
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর
মুখোমুখি হয়েছিল।
অন্যদিকে পুষ্টি
একটি ভিন্ন
বিষয় ছিল।
স্প্যানিশরা যখন
মেসো আমেরিকায়
পৌঁছেছিল তখন
তারা মায়া,
আজটেক ও
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ
আদিবাসী গোষ্ঠীর
মুখোমুখি হয়েছিল।
ভূমি ছিল
উর্বর ও
সমৃদ্ধ। সেখানে
শিম, কুমড়ো,
মরিচ, অ্যাভোকাডোস,
ইল্ডারবেরি, পেয়ারা,
পেঁপে, টমেটো,
নারিকেল, তুলা,
তামাক, হেনকোইন,
নীল, ম্যাগি,
ভুট্টা ও
কাসাভা উত্পন্ন
হতো। ইউরোপীয়রা
এ অঞ্চলজুড়ে
একই জাতীয়
কৃষিকাজের সঙ্গে
পরিচিত হয়েছিল।
তবে উপনিবেশবাদীদের
কাছে এসব
খাদ্য নিম্নমানের
এবং ইউরোপীয়
মানুষের শরীরে
যথার্থ পুষ্টি
সরবরাহের অযোগ্য
বিবেচিত হয়েছিল।
বিজয়াভিযানের সময়
ইউরোপীয় খাদ্যতালিকায়
মূলত রুটি,
জলপাই তেল,
জলপাই, মাংস
এবং ওয়াইন
ছিল। যদিও
এ তালিকা
ইউরোপ থেকে
আমেরিকা যাওয়ার
সফরে কিছুটা
হলেও টিকে
ছিল, কিন্তু
আমেরিকায় উপস্থিত
হওয়ার পর
ইউরোপীয়রা তাদের
বেঁচে থাকার
জন্য প্রয়োজনীয়
খাবারের অভাব
বোধ করছিল।
ইউরোপীয়রা যখন
এই ‘নতুন’
ভূখণ্ডে মারা
যেতে শুরু
করল, তখন
উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু
খাবারের দিকে
চলে গেল।
মূলত কলম্বাস
নিজেই নিশ্চিত
করেছিলেন যে
স্প্যানিশরা মারা
যাচ্ছে কারণ
তাদের ‘স্বাস্থ্যকর
ইউরোপীয় খাবারের’
অভাব রয়েছে।
এ সময়
‘সঠিক
খাবার’ (উচ্চতর
ইউরোপীয় খাবার)
বনাম ‘ভুল
খাবার’ (আদিবাসী
খাবার) এ
ঔপনিবেশিক বক্তব্য
চালু হয়েছিল।
স্প্যানিশরা মনে
করেছিল যে
‘সঠিক
খাবার’ ছাড়া
তারা মারা
যাবে বা
তাদের অবস্থা
আরো খারাপ
হবে। তাদের
মনে হয়েছিল
এ খাবারের
অভাবের কারণে
তারা স্থানীয়
আদিবাসীদের মতো
হয়ে উঠবে।
‘সঠিক
খাবার’ বনাম ‘ভুল খাবার’
ইউরোপীয়রা
বিশ্বাস করত
যে খাদ্যই
তাদের দেহের
আকার দিয়েছে।
অন্য কথায়,
ইউরোপীয় সংবিধান
আদিবাসীদের তুলনায়
আলাদা। কারণ
স্প্যানিশ খাদ্যতালিকা
আদিবাসীদের খাদ্যতালিকা
থেকে পৃথক
ছিল। অধিকন্তু
খাদ্যতালিকার কারণে
দৈহিক পরিবর্তন
হতে পারে।
ফলে তাদের
এ আশঙ্কা
ছিল যে
‘নিম্নমানের’
স্থানীয় খাবার
গ্রহণের ফলে
স্প্যানিশরা শেষ
পর্যন্ত ‘তাদের
মতো’ হয়ে
উঠবে। কেবল
সঠিক ইউরোপীয়
খাবারই ইউরোপীয়
দেহের উচ্চতর
প্রকৃতি বজায়
রাখতে পারে
এবং শুধু
এ ‘সঠিক
খাবারই’ ঔপনিবেশিকদের
‘নতুন
বিশ্বের’ এবং
এর অপরিচিত
পরিবেশ দ্বারা
সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ
থেকে রক্ষা
করতে সক্ষম
হবে।
ইউরোপীয়দের মানসিকতায়
খাদ্য কেবল
স্প্যানিশদের শারীরিক
শ্রেষ্ঠত্ব বজায়
রাখতে কাজ
করেনি, এটি
সামাজিক পরিচয়
সৃষ্টিতেও ভূমিকা
রেখেছিল। যেমন
স্পেনে অভিজাতরা
সাধারণত রুটি,
মাংস ও
ওয়াইন খেত।
স্পেনের দরিদ্রদের
অবশ্য এ
জাতীয় বিলাসিতার
সামর্থ্য ছিল
না এবং
এর পরিবর্তে
তারা বার্লি,
ওট, রাই
ও সিদ্ধ
সবজি জাতীয়
খাবার খেত।
এমনকি শাকসবজিকে
সামাজিক মর্যাদার
ভিত্তিতে শ্রেণীবদ্ধ
করা হয়েছিল।
যেমন কিছু
ক্ষেত্রে শিকড়যুক্ত
শাকসবজি অভিজাত
ব্যক্তিদের খাওয়ার
উপযোগী হিসেবে
বিবেচিত হতো
না, কারণ
সেগুলো ভূগর্ভে
বেড়ে উঠেছে।
অভিজাতরা গাছপালা
থেকে আসা
খাবার গ্রহণ
করতে পছন্দ
করত, যা
সাধারণ বিশ্বের
কলুষতা থেকে
মুক্ত ছিল।
এভাবে খাদ্যকে
সামাজিক শ্রেণীর
পরিচায়ক হিসেবে
চিহ্নিত করা
হয়েছিল।
এছাড়া বিজয়াভিযানের
সময় স্পেনের
অভ্যন্তরীণ বিভাজন
শুরু হয়েছিল।
স্পেনের মুসলমানদের
পাশাপাশি ইহুদিদেরও
দেশটি থেকে
বিতাড়িত করার
প্রয়াসে রাজা
পঞ্চম ফার্দিনান্দ
এবং রানী
প্রথম ইসাবেলা
‘রিকনকুইস্টা’
নামে পরিচিত
স্পেনের পুনর্বিজয়
নীতির প্রচলন
করেছিলেন। রিকনকুইস্টা
ধারণার ফলে
শক্তিশালী স্প্যানিশ
পরিচয় তৈরি
হওয়ার সঙ্গে
সঙ্গে খাদ্য
স্প্যানিশ সংস্কৃতির
একটি শক্তিশালী
প্রতীক হয়ে
উঠেছিল। উদাহরণস্বরূপ
শূকরের মাংসের
কথা বিবেচনা
করা যেতে
পারে। স্পেনে
কেবল ক্যাথলিকরা
শূকরের মাংস
খেতে পারত।
পুনর্বিজয় নীতির
সময় কোনো
ব্যক্তি খাঁটি
স্প্যানিশ রক্তের
মানুষ কিনা
তা পরীক্ষা
করার জন্য
প্রায়ই খাওয়ার
জন্য শূকরের
মাংস দেয়া
হতো। শূকরের
মাংস খাওয়ার
ব্যাপারে যেকোনো
ধরনের অস্বীকৃতিকে
লোকটা সত্যিকারের
ক্যাথলিক স্প্যানিশ
না হওয়ার
প্রতীক হিসেবে
বিবেচনা করা
হতো। এবং
পরবর্তী সময়ে
স্পেন থেকে
তাকে বহিষ্কার,
নিপীড়ন বা
হত্যা করা
হতো।
স্প্যানিশরা যখন
‘নতুন
বিশ্বে’ পৌঁছেছিল
এবং আমেরিকায়
ইউরোপীয় উপনিবেশের
সূচনা করেছিল,
তখন তারা
তাদের সঙ্গে
সাংস্কৃতিক ও
শ্রেণীভিত্তিক পার্থক্যের
ধারণাও নিয়ে
এসেছিল, যা
মানুষের খাবারের
ধরনের ভিত্তিতে
প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
যেমন স্প্যানিশরা
নির্ধারণ করে
যে গিনিপিগ
মূলত স্থানীয়
আদিবাসী ইন্ডিয়ানদের
খাদ্য, সুতরাং
যারা গিনিপিগ
খেত তাদের
রেড ইন্ডিয়ান
বিবেচনা করা
হতো। ভুট্টা
ও মটরশুঁটি
জাতীয় স্থানীয়
প্রধান খাবারের
ক্ষেত্রেও তাদের
একই ধারণা
ছিল। স্পেনীয়রা
এ জাতীয়
স্থানীয় খাবারকে
‘দুর্ভিক্ষের
খাবার’ বলত।
অন্য সব
‘সঠিক
খাবার’ সম্পূর্ণরূপে
নিঃশেষ হয়ে
গেলেই কেবল
সেগুলো খাওয়ার
জন্য উপযুক্ত
বলে বিবেচিত
হতো।
গরু, শূকর,
ছাগল ও
ভেড়ার আগমন
বর্তমানে
লাতিন আমেরিকা
হিসেবে পরিচিত
অঞ্চলে ইউরোপীয়রা
উপস্থিত হওয়ার
সময় সেখানে
বেশ কয়েক
প্রজাতির গৃহপালিত
প্রাণী বিদ্যমান
ছিল। এর
মধ্যে কুকুর,
লামা, আলপাকা,
গিনিপিগ, টার্কি,
চীনা হাঁস
ও এক
ধরনের মুরগি
ছিল। মেসো
আমেরিকায় যেকোনো
ধরনের মাংস
ও চামড়া
খাওয়া বা
ব্যবহার করা
হতো বন্যপ্রাণী
শিকার করার
মাধ্যমে। সাধারণত
শ্রমের জন্য
কোনো প্রাণী
ব্যবহার করা
হতো না,
একমাত্র কুকুর
ছাড়া। কুকুরকে
কোনো কিছু
টেনে নেয়ার
কাজে ব্যবহার
করা হতো।
ইউরোপীয়রা খাদ্য
ও কাজের
জন্য উপযুক্ত
প্রাণীর এ
অভাবকে অগ্রহণযোগ্য
ঘোষণা করেছিল।
তাই ঘোড়া,
কুকুর, শূকর,
গরু, ভেড়া
ও ছাগলের
চালান নিয়ে
১৪৯৩ সালে
কলম্বাসের দ্বিতীয়
সমুদ্রযাত্রা সংঘটিত
হয়েছিল। এই
চতুষ্পদ জন্তুগুলোর
অভিবাসনের ফলে
মূলত আদিবাসীদের
জীবনযাত্রা চিরকালের
জন্য বদলে
গিয়েছিল।
লাতিন আমেরিকায়
আগে যে
গৃহপালিত প্রাণী
ছিল তাদের
তুলনায় এ
আমদানীকৃত প্রাণীগুলো
অধিক সুবিধা
ভোগ করছিল।
এ প্রাণীগুলো
কোনো নতুন
রোগে আক্রান্ত
হয়নি এবং
এ প্রাণীদের
খাদ্যের উৎস
ছিল অবারিত।
স্প্যানিশরা আক্ষরিক
অর্থেই এ
নতুন ভূখণ্ডের
যেকোনো উন্নত
প্রজাতির ঘাস,
ফল ও
অন্যান্য খাবার
এসব প্রাণীর
জন্য উন্মুক্ত
করে দিয়েছিল।
খাবারের আধিক্য
ও তাদের
অস্তিত্বের প্রতি
কোনো প্রকৃত
হুমকি না
থাকায় এ
প্রাণীগুলো আশ্চর্যজনক
দ্রুতগতিতে বংশবিস্তার
করছিল। ১৭০০
শতাব্দীর মধ্যে
গরু, শূকর,
ভেড়া ও
ছাগলের সংখ্যা
কয়েক লাখ
হয়ে গিয়েছিল
এবং সমগ্র
মহাদেশে তারা
বিচরণ করছিল।
ফলে মাংসের
দাম হ্রাস
পেয়েছিল এবং
মাংস খাওয়ার
প্রবণতা বৃদ্ধি
পেয়েছিল। স্পেনে
মাংস খাওয়া
একটি বিলাসবহুল
বিষয় ছিল।
কিন্তু নতুন
বিশ্বে প্রাণীর
সহজলভ্যতা এ
বিলাসিতা সবার
নাগালে নিয়ে
এসেছিল। এ
সময়ে আমেরিকায়
প্রাণীদের সাধারণ
পণ্য হিসেবে
বিবেচনা করা
হয়েছিল এবং
সেখানে একটি
বর্ধনশীল মাংস
শিল্প গড়ে
উঠেছিল। প্রকৃতপক্ষে
এই সময়ে
পশুপালন খামারগুলো
সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল
এবং তারা
এত বেশি
পরিমাণে গৃহপালিত
পশুর মাংস
উত্পন্ন করছিল
যে প্রায়
প্রত্যেকেই যথেষ্ট
পরিমাণে প্রাণিজ
আমিষ গ্রহণ
করছিল। মাংস
খাওয়া পশুপালনের
একটি অর্থনৈতিক
সুবিধা হিসেবে
বিবেচিত হয়েছিল,
তবে এটিই
একমাত্র লক্ষ্য
ছিল না।
প্রমাণ রয়েছে
যে দুগ্ধজাত
খাদ্য গ্রহণের
প্রবণতা বৃদ্ধি
পেয়েছিল এবং
ঔপনিবেশিক রান্নায়
জলপাই তেলের
ঐতিহ্যবাহী ব্যবহারের
বিকল্প হিসেবে
শূকরের চর্বি
ব্যবহূত হচ্ছিল।
এমনকি চামড়া
ও চর্বির
(প্রায়ই মোমবাতি
তৈরিতে ব্যবহূত
হতো) চাহিদা
মাংসের চেয়েও
বেশি ছিল।
নতুন বিশ্বে খাদ্যের অভিযোজন
নতুন
বিশ্বে আদিবাসী
ও ইউরোপীয়
খাবারের অভিযোজনে
বেশ কয়েকটি
কারণ ভূমিকা
পালন করেছিল।
প্রথমত, উপনিবেশায়ন,
ইউরোপীয়করণ প্রক্রিয়াকে
পৃষ্ঠপোষকতা করা
হয়েছিল। প্রথমদিকে
ক্যাথলিক ধর্মে
ধর্মান্তরিত হওয়া
এবং স্প্যানিশ
সংস্কৃতি, রীতিনীতি
ও বিশ্বাস
গ্রহণ করা
একটি বাধ্যতামূলক
বিষয় ছিল।
সময়ের সঙ্গে
সঙ্গে স্পেনীয়রা
আদিবাসীদের জীবনযাত্রার
রূপান্তর করার
জন্য অন্যান্য
পদ্ধতি অবলম্বন
করেছিল। যেমন
যাজকরা আদিবাসী
পুরুষদের ক্যাথলিক
ধর্মে ধর্মান্তরিত
করার চেষ্টা
করতেন। ধর্মান্তরের
বিনিময়ে তাদের
পশুপাল দেয়ার
প্রলোভন দেয়া
হতো। পশুপালের
মালিকানা একটি
আকর্ষণীয় বিষয়
ছিল। পশুপাল
ছিল আয়ের
উৎস এবং
স্প্যানিশ মানদণ্ড
অনুসারে এ
জাতীয় প্রাণীর
মাংস খেতে
পারা উচ্চমর্যাদার
বৈশিষ্ট্য ছিল।
যেহেতু খাদ্য
সামাজিক মর্যাদার
একটি সূচক
ছিল এবং
আদিবাসীরা স্পেনীয়
সংস্কৃতি গ্রহণ
করে ঔপনিবেশিকদের
মতো তাদের
মর্যাদা বৃদ্ধি
করতে পারত,
তাই অনেক
আদিবাসী ঔপনিবেশিক
সমাজে উচ্চতর
মর্যাদা অর্জনের
উপায় হিসেবে
রান্নাবান্নাসহ বিভিন্ন
স্প্যানিশ রীতি
গ্রহণ করেছিল।
সর্বশেষ ওপরে যেমন বলা হয়েছে খাদ্যের সহজলভ্যতা খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। যে জমি আগে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা মেটাত, তা এখন রফতানির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের চাহিদা মেটাতে ব্যবহূত হচ্ছিল। তবুও স্পেনীয় রাজা স্থানীয় স্প্যানিশ কর্তৃত্বকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন, যেন কোনো বিজেতা অতিরিক্ত ক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। এ নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজা কিছু জমি আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবিকা নির্বাহের জন্য সংরক্ষণের অনুমতি দিয়েছিলেন। এসব জমিতে আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোকে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য যা প্রয়োজন তা উত্পন্ন করার অনুমতি দেয়া হয়েছিল। যাই হোক, এটি রাজার পক্ষ থেকে জনহিতৈষী কোনো পদক্ষেপ ছিল না। এটি ছিল স্থানীয় শক্তির ওপর তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার একটি প্রচেষ্টা। সময়ের পরিক্রমায় রাজা একাধিক অর্থনৈতিক ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। যখন এ ঘাটতি শাসকগোষ্ঠীর অর্থনীতিকে প্রভাবিত করত, তখন তারা সাধারণ ভূমির ওপর নজর দিত। সে সময় তারা মনে করত যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রয়োজন মেটাতে আদিবাসীদের জমিও ব্যবহার করা উচিত। ইউরোপীয়দের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আদিবাসীদের জমিগুলোও বড় বড় বাগান ও সম্পদে পরিপূর্ণ হচ্ছিল। তাদের উত্পন্ন দ্রব্য এ সময় সরাসরি ইউরোপীয় বাজারগুলোর চাহিদা মেটাত। ধীরে ধীরে, তবে অবশ্যই এ সম্পদগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল।





