এর মধ্যে তিনটিই হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ১ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা) একাধিক দলবদলে বিস্মিত হয়েছেন আর্সেনালের কোচ মিকেল আরতেতা। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এত বেশি বাজেটে খেলোয়াড় কেনার পক্ষে নন। তবে বর্তমান বাস্তবতা মেনে একে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন।
আরবি লিপজিগ থেকে ১২০ মিলিয়ন পাউন্ডে আইভরিয়ান ফরওয়ার্ড ইয়ান দিওমান্দেকে দলভুক্ত করেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। ইংল্যান্ডের মর্গান রজার্সকে ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে অ্যাস্টন ভিলা থেকে সই করিয়েছে লন্ডনেরই আরেক দল চেলসি। তাকে কেনার জন্য কয়েক মাস ধরে চেষ্টা করে আসছিল আর্সেনাল। যদিও তারা অ্যাস্টন ভিলার হাঁকানো দাম দিতে রাজি না হওয়ায় সুযোগ বুঝে এ খেলোয়াড়কে লুফে নেয় চেলসি।
নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ইলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ড ফি দিয়ে কিনেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এছাড়া, ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে নিউক্যাসল ইউনাইটেড থেকে সান্দ্রো টোনালিকে দলভুক্ত করেছে টটেনহ্যাম। দলবদলের এখনো ১৬ দিন বাকি। কাজেই এখনো অনেক চমক বাকি আছে।
এখন পর্যন্ত বিগ বাজেটের দলবদলে তিনি বিস্মিত কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে আরতেতা বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। সত্যি বলতে কি, আমি তাদের নিয়ে বাজি ধরতাম না। কিন্তু মার্কেট তো এটাই। কিছু ক্লাব আছে যারা খুশিমনে বিনিয়োগ করে এবং মনে করে এসব খেলোয়াড়ের বাজারমূল্য এমনই। দিন শেষে খেলোয়াড়দের মূল্য সেটাই, যেটা দিয়ে একটি ক্লাব তাকে কিনে নেয়। তারা যেহেতু করেছে, এটাই তার মূল্য এবং এটা ঠিক আছে। কেউ বিক্রি করে আর কেউ কিনে খুশি। মাঝে কোনো খেলোয়াড় এক ক্লাব থেকে আরেক ক্লাবে গিয়ে খুশি হয়। কাজেই আমার মনে হয়, এটা ন্যায্য।’
আর্সেনাল অবশ্য দল গোছানোর কাজ শেষ করেনি। উইলিয়াম সালিবা ও জুরিয়েন টিম্বার ইনজুরিতে পড়ায় অ্যাস্টন ভিলার এজরি কোনসা ও বায়ার লেভারকুসেনের জ্যারেল কুনসাহকে সই করাতে চায় আর্সেনাল, যা নিয়ে আলোচনা চলছে গানারদের।
গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ের পর নতুন মৌসুম সামনে রেখে দলের শক্তি বাড়াতে চায় আর্সেনাল। তারা রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে সই করাতে চেয়েও পারেনি। যদিও তার ব্রাজিল সতীর্থ ব্রুনো গিমারেসকে নিউক্যাসল থেকে সই করিয়েছে। এছাড়া ক্লাব ব্রুগস থেকে গ্রিক উইঙ্গার ক্রিস্টোস জোলিসকে নিয়েছে গানাররা। সেই সঙ্গে বায়ার লেভারকুসেনের পিয়েরে হিনকাপির ধার চুক্তিটা স্থায়ী চুক্তিতে রূপ দিয়েছে লন্ডন জায়ান্টরা। সব মিলিয়ে গ্রীষ্মে ১৪ কোটি ৩৫ লাখ পাউন্ড খরচ করেছে আরতেতার দল।
‘ফ্রি ট্রান্সফার’-এ লিডস ইউনাইটেড থেকে গোলকিপার ইলান মেসলিয়ারকে পেয়েছে আর্সেনাল। গত মৌসুমের স্কোয়াড থেকে বিদায় নিয়েছেন লিওনার্দো ট্রোসার্ড, জাকুব কিবিওর ও ক্রিস্টিয়ান নরগার্ড।
গ্রীষ্মকালীন দলবদল চলবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তার আগে আরো কিছু চুক্তি সম্পন্ন করতে পারে আর্সেনাল।
এদিকে, আর্সেনাল কোচ দলটির সমর্থকদের বলেছেন, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে যেন তারা উদ্বিগ্ন না হন। তিনি চুক্তি নবায়ন করতে চান এবং চুক্তির বাকি থাকা সময় এখানে বড় কোনো ইস্যু নয়। আর্সেনালে তার চুক্তির শেষ ১২ মাসে প্রবেশ করেছেন আরতেতা এবং নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য তিনি মোটেও তাড়াহুড়ো করছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে সমর্থকদের উদ্বেগের কথা। এ নিয়ে আরতেতা বলেন, ‘না, তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। কারণ আমি এখানে থাকতে চাই। এখানে আমি বেশ খুশি। আমি যাদের সঙ্গে কাজ করছি তাদের নিয়েও অনেক খুশি এবং যখন আমরা সময় পাব তখন বিষয়গুলো ঠিকঠাক করে নেব। আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় তো আরো কিছু কাজ আছে এবং আমরা এভাবেই কাজটা করে থাকি। চুক্তিটা এমন সময়ে করতে চাই যখন এটি বড় কোনো ইস্যু হয়ে উঠবে না।’
দল গোছানোর কাজ চলমান, এরই মধ্যে আজ কমিউনিটি শিল্ড ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে আর্সেনাল। বুকায়ো সাকা, ডেক্লান রাইস ও মার্টিন জুবিমেন্দিরা সবাই ফিট হয়ে এ ম্যাচে খেলবেন বলে আশাবাদী আরতেতা। তারা সবাই ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল খেলার সময় চোট পান।
পেপ গার্দিওলার বিদায়ের পর এ প্রথম কোনো ম্যাচ খেলবে ম্যানসিটি। গার্দিওলার খুব কাছের মানুষ ছিলেন আরতেতা এবং সিটিতে তার সহকারী হিসেবে তিন বছর কাজ করেছেন তিনি। গার্দিওলা চলে যাওয়ার পর সিটিতে তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেসকা। এ দুজনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন আরতেতা। তিনি বলেন, ‘তিনি (গার্দিওলা) যা করেছেন আমি সম্ভবত সেই অর্জন মুখে বলে শেষ করতে পারব না। আমি মনে করি, প্রিমিয়ার লিগ ও এ দেশের ফুটবলের জন্য তার বিরাট অবদান রয়েছে। তিনি ফুটবলকে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে শিখিয়েছেন। তিনি প্রিমিয়ার লিগকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছেন এবং এ লিগে এমন কিছু মানদণ্ড সেট করে দিয়েছেন, যা আগে আমরা দেখিনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি কাছ থেকে দেখে খুবই ভাগ্যবান। আমি তো মনে করি, এটা অনন্য। বেশকিছু কারণেই আমার কাছে তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কোচ। তিনি ভিন্ন দেশের হয়ে ভিন্ন উপায়ে এটা করে গেছেন এবং প্রতিটিতে টেকসই আর নিরবচ্ছিন্নভাবে করেছেন, যা কিনা অত্যন্ত কঠিন কাজ। আমি মনে করি, প্রিমিয়ার লিগ তার অভাব অনুভব করবে। ইএসপিএন ও বিবিসি









