বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে নরওয়ের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখলেন আর্লিং হলান্ড। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আজ ভোরে ম্যাসাচুসেটসের বস্টন স্টেডিয়ামে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়েছে নরওয়ে।

ম্যাচের শুরুতে অবশ্য বেশি আক্রমণাত্মক ছিল ইরাক। আইমেন হুসেইনের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, আলি আল হামাদির শটও গোলের ওপর দিয়ে চলে যায়। কিন্তু ২৯ মিনিটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। ডেভিড মোলার উলফের নিচু ক্রস থেকে কাছ থেকে বল জালে পাঠান হলান্ড।

১০ মিনিট পর সমতা ফেরায় ইরাক। আমির আল আম্মারির ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করেন আইমেন হুসেইন। তবে বিরতির আগেই আবার এগিয়ে যায় নরওয়ে। ইরাক গোলরক্ষক জালাল হাসানের ক্লিয়ারেন্সে চাপ সৃষ্টি করে বল জালে পাঠান হলান্ড, ফলে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল পূর্ণ হয় তার।

প্রথমার্ধেই আরো কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করে ইরাক। ইব্রাহিম বায়েশের শট রুখে দেন মোলার উলফ, আলি আল হামাদির প্রচেষ্টা শেষ মুহূর্তে আটকে দেন ক্রিস্টোফার আজের, আর আকাম হাশিমের ভলি অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা কমে এলেও ৭৬ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় নরওয়ে। কর্নার থেকে হেডে গোল করেন লেও অস্তিগার্ড। যোগ করা সময়ে হলান্ড হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া করলেও তার হেড করা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করেন আইমেন হুসেইন। তাতেই ৪-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় নরওয়ের।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘আই’-এ তিন পয়েন্ট নিয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে সমান অবস্থানে রয়েছে নরওয়ে। বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচে একাধিক গোল করা প্রথম নরওয়েজিয়ান ফুটবলার হলেন হলান্ড। দেশের হয়ে টানা ১১টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করার ধারাও বজায় রাখলেন ২৫ বছর বয়সী এই তারকা।

তবে ৪-১ ব্যবধানে জিতলেও নরওয়ের কোচ স্তালে সোলবাক্কেন জানেন, গ্রুপের শীর্ষে উঠতে হলে সেনেগাল ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা দেখাতে হবে। অন্যদিকে হারলেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ভবিষ্যতের জন্য আশার বার্তা দিয়েছে ইরাক।