ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ের হোয়াইটওয়াশ থেকে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১০৫ রানের ব্যবধানে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে তামিম ইকবালের দল। স্বাগতিক দেশের হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৬ রানের টার্গেট দিয়েছিল টাইগাররা। জবাবে খেলতে নেমে ৩২ ওভার ২ দুই বল খেলে ১০টি উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। সবমিলে ১৫১ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা।
এর আগে আজ বুধবার টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় স্বাগতিকরা। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে আফিফ হোসেন ধ্রুব ও এনামুল হক বিজয়ের হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ৫০ ওভারে ২৫৬/৯ রান সংগ্রহ করে সফরকারীরা।
ব্যাটিংয়ের শুরুটা খারাপ হয়নি বাংলাদেশের। ওপেনিং জুটিতে তামিম ইকবাল ও বিজয় মিলে তোলেন ৪১ রান। ব্যক্তিগত ১৯ করে রান আউটের শিকার হন তামিম। এরপর ৪৭ রানের মাথায় নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম ডাক মেরে আউট হলে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। চতুর্থ উইকেটে বিজয় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৭৭ রানের জুটি গড়ে সে চাপ কিছুটা সামলে নেন। ব্যক্তিগত ৭৬ রানে বিজয় ফিরলেও পঞ্চম উইকেটে আফিফ হোসেনকে নিয়ে আবারো জুটি বড় করার চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু দলীয় ১৭৩ রানের মাথায় রিচার্ড এনগারাভার বলে রিয়াদ বোল্ড হলে ভাঙে এ জুটি। ৬৯ বলে ৩৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে। রিয়াদ আউট হওয়ায় ফের বিপাকে পড়ে সফরকারীরা।
পরবর্তীতে লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে একা লড়াই চালিয়ে যান আফিফ। ব্যাটে বলে সামঞ্জস্য রেখে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৮১ বলে ৮৫ রান করে।
রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল জিম্বাবুয়ে। প্রথম দুই ওভারেই দুই ওপেনারকে বিদায় করে বাংলাদেশ। তাকুদজাওয়ানাশে কাইতানো শূন্য রান এবং তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে মাত্র এক রান করে সাজঘরে ফেরেন। তাকুদজাওয়ানাশের উইকেটটি নেন হাসান মাহমুদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তাদিওয়ানাশে সাজঘরে ফেরেন।
এ ম্যাচ দিয়েই ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া এবাদত হোসেন আসেন ষষ্ঠ ওভারে। এসেই পরপর দুই বলে দুই উইকেট হাতিয়ে নেন তিনি। ওয়েসলি মাধেভেরে (১) এবং সিকান্দার রাজাকে (০) সাজঘরের পথ চেনান এবাদত।
নবম এবং ১৪তম ওভারে দুটি উইকেট নেন তাইজুল ইসলামও। নবম ওভারে ইনোসেন্ট কাইয়া (১০) এবং ১৪তম ওভারে টনি মুনইয়োঙ্গাকে (১৩) থামিয়ে দেন তিনি।
সপ্তম উইকেটের পতন হয় ২১তম ওভারে। মুস্তাফিজুর রহমানের বলে কাভারে এনামুল হক বিজয়ের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেন লুক জংয়ে। তিনি ২৫ বলে ১৫ রান করতে সক্ষম হন। মুস্তাফিজ ২৩তম ওভারে আরো দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। তৃতীয় বলে মাদান্দে (২৪) এবং শেষ বলে ব্র্যাড ইভান্সকে (২) ফেরান এ সাতক্ষীরার সন্তান।
৮৩ রানে ৯ উইকেট হারার পর বাংলাদেশ তখন জিম্বাবুয়ের পরাজয়ের অপেক্ষা করছিল। কিন্তু তখনই শেষ দুই ব্যাটসম্যান রিচার্ড এনগারাভা এবং ভিক্টর নিয়াউচি ক্রিজে দাঁড়িয়ে যান। তবুও শেষ রক্ষা হলো না স্বাগতিকদের। ৩৩তম ওভারে এ জুটি ৫৮ বলে ৬৮ রান তুলে শেষ ইনিংসের রেশ টানেন। ৩৩তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নিয়াউচিকে বোল্ড করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন মুস্তাফিজ।
তিন ম্যাচের সিরিজ আগেই ২-০ তে নিশ্চিত করেছে জিম্বাবুয়ে। আজকের ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ৪০০তম ম্যাচ ছিল। জয় দিয়ে মাইলফলকের ম্যাচটি স্মরণীয় করে রেখেছে টাইগাররা। একই সঙ্গে জিম্বাবুয়ের হোয়াইটওয়াশ থেকে রক্ষা পেল তামিম ইকবালের দল।










