আফগানিস্তানকে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারাল বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সাফল্যের ধারায় থাকল টাইগাররা। আইসিসি ও এসিসির বড় আসরে খুব ভালো করতে না পারলেও দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে এ বছর বাংলাদেশের জয়জয়কার। লাল-সবুজ জার্সিধারীরা জিতল টানা ৪টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। এটা সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯তম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের কীর্তি।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ জিতলেই আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করবে টাইগাররা। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় করে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। ২০২৫ সালে ষষ্ঠ সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। আরব আমিরাত ও পাকিস্তানের মাঠে সিরিজ হারলেও এরপর থেকে জয়ের ধারায় টাইগাররা। শুরুটা শ্রীলংকা সফরে ২-১-এ সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়ে। পাল্লেকেলেতে প্রথম ম্যাচ হারলেও পরে টানা দুই ম্যাচ জিতে নেয় লিটন দাসের দল। শ্রীলংকা থেকে ফিরেই হোম সিরিজে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ওই সিরিজটাও লিটন ও তার সতীর্থরা জিতে নেন ২-১-এ। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের মাঠে ৩-০তে সিরিজ হারের প্রতিশোধ ঘরের মাঠে নেয়া হলো।
এশিয়া কাপের প্রস্তুতি হিসেবে ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসকে আতিথ্য দেয় বাংলাদেশ। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সিলেটে তিন ম্যাচের এ সিরিজটা ২-০তে জিতে নেয় টাইগাররা। শেষ ম্যাচটি বৃষ্টিতে পণ্ড না হলে ৩-০তে জেতার সুযোগ ছিল। সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে এরই মধ্যে ২-০তে এগিয়ে বাংলাদেশ। আজ জিতলে প্রতিপক্ষকে ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ করবে লিটনের দল।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২০১৮ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। ওই সিরিজের সবগুলো ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভারতের দেরাদুনে, যা তখন ছিল আফগানদের ‘হোম ভেন্যু’। ‘ঘরের মাঠে’ সেরা পারফর্মই করে আফগানরা। বাংলাদেশকে তারা হারিয়ে দেয় ৩-০তে। তার আগেই টি-টোয়েন্টিতে আফগানদের উত্থান ঘটে যায়। বাংলাদেশকে হারিয়ে তারা অবস্থান সুসংহত করে। ২০২২ সালের মার্চে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা ১-১-এ অমীমাংসিত থাকে। পরের বছর আবারো আফগানদের সঙ্গে হোম সিরিজ খেলে টাইগাররা। এবার স্বাগতিকরা ২-০তে জয়লাভ করে।
টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের হিসেবে দুই দল ছিল সমানে সমান। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে দাপটে টানা দুই জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজের মতো ম্যাচ জয়েও এগিয়ে টাইগাররা। ১৫ বারের মোকাবেলায় বাংলাদেশ ৮টি ও আফগানিস্তান ৭টি জয় পেয়েছে।
এবার আফগানদের হোয়াইটওয়াশ করার সুযোগ। দেরাদুনের প্রতিশোধ শারজায় নেয়ার সুযোগ। এখন পর্যন্ত তিনবার প্রতিপক্ষকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১২ সালে আয়ারল্যান্ডকে, ২০২৩ সালে হোম সিরিজে ইংল্যান্ড ও ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদেরই মাঠে ৩-০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। এছাড়া ৫ ম্যাচের সিরিজে জিম্বাবুয়েকে ৪-১-এ, নিউজিল্যান্ডকে ৩-২-এ ও অস্ট্রেলিয়াকে ৪-১-এ হারানোর কৃতিত্ব আছে টাইগারদের।
শারজায় আফগানদের বিপক্ষে টানা দুদিন দুটি ম্যাচের গেম চেঞ্জার নুরুল হাসান সোহান। বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক সোহান দলটিকে গ্লোবাল টি-২০ লিগের ট্রফি এনে দিয়েছেন। এবার জাতীয় দলেরও ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন।
বৃহস্পতিবার ১৫২ রান তাড়া করতে গিয়ে বিনা উইকেটে ১০৯ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ দল। এরপর আকস্মিক বিপর্যয় ঘটে যায়। ৯ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে বসে লাল-সবুজরা। এক স্পেলে ৪ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন আফগান দলনায়ক ও বিশ্বের অন্যতম সেরা লেগ স্পিনার রশিদ খান। বিপর্যস্ত দলকে তখন উদ্ধার করেন সোহান। ১৩ বলে ২ ছক্কা ও ১ বাউন্ডারিতে ২৩ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে তিনিই জেতান বাংলাদেশ দলকে। ৮ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটের জয়ে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে যায় টাইগাররা।
শুক্রবার একই মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচেও ত্রাতা সেই সোহান। এ ম্যাচেও নাটকীয়তা। ১৪৮ রান টার্গেটে নেমে ২৪ রানে ৩ উইকেট নেই। সেখান থেকে মিডল অর্ডারের লড়াই দলকে জয়ের রেসে রাখে। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৩৭ বলে ৫৬ রান যোগ করেন জাকের আলী ও শামীম হোসেন। দলীয় ৮০ রানে জাকেরের বিদায় ঘটলে শামীমের সঙ্গে যোগ দেন সোহান। দুজন ২০ বলে ২২ রান তোলার পর অহেতুক রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন শামীম। এরপর ১৭ বলে ২০ রানের জুটি গড়েন সোহান ও নাসুম আহমেদ। তখন আরেকটি বিপর্যয়। ১২২ থেকে ১২৯—মাত্র ৭ রানের ব্যবধানে সাজঘরের পথ ধরেন নাসুম, সাইফউদ্দিন ও রিশাদ। তখন সোহানের দায়িত্বশীল ও সাহসী ব্যাটিং বাংলাদেশকে সিরিজ নিশ্চিত করা জয় এনে দেয়।
সোহানের ব্যাটে (২১ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ৩১ রান) সিরিজ জয়ের উৎসব করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচসেরা শরিফুল ইসলামের কৃতিত্বকেও ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে নূর আহমাদকে ও ২০তম ওভারের প্রথম বলে আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে বাউন্ডারি মেরে উইনিং রান নিয়েছেন এ বামহাতি।
লিটন দাসের চোটের কারণে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কেরে দায়িত্ব পালন করা জাকের আলী জয় শেষে জানালেন, দলগত চেষ্টায় তারা এ সাফল্য পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। একটি দল হিসেবে, গত দুটি ম্যাচে আমরা সত্যিই খুব ভালো খেলেছি, আজ (দ্বিতীয় ম্যাচ) আরো নিখুঁত ছিলাম। উইকেট ভালো ছিল, যেখানে বোলাররা আমাদের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।’









